Home » প্রথম পাতা » গভীর রাতে বোট ক্লাবে কী করেছিলেন পরীমণি?

দুই মেরুই এখন নিশ্চুপ

০৯ জুন, ২০২১ | ৮:১১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 41 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমানকে গণভবনে ডেনে নিয়ে তাদের বিরোধ মিটিয়ে ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নির্বাচনে সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশ তার কর্মীবাহিনী মেয়র আইভীকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কয়েকদিন পরই তাদের বিরোধ ফের প্রকাশ্যে আসে। তবে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমান নির্বাচনী মাঠে নামার পর কোন প্রকার উস্কানীমূলক মন্তব্য না করে নিশ্চুপ ছিলেন মেয়র আইভী। যদিও নির্বাচনের পর তাদের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে দেখা যায়। কিছুদিন আগেও মেয়রকে ইঙ্গিত করে সাংসদ শামীম ওসমান বিভিন্ন মন্তব্য করলেও গত কয়েকদিন ধরেই রয়েছেন নিশ্চুপ। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন আসলেও দুই পক্ষই নিশ্চুপ থাকেন। হয়তো কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কারণেই এমনটা হচ্ছে।  কেননা সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। তাই হাতেও তেমন সময় নেই। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও সরব হয়েছেন। কিন্তু শামীম-আইভীর বিরোধ কিছুটা শিথিল হয়েছে। প্রকাশ্যে কেউ কারো বিরুদ্ধে কোন প্রকার মন্তব্য করছেন না। তবে কয়েক মাস আগে আগে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষনার করায় বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি খোকন সাহার বিরুদ্ধে মেয়র আইভী মামলাও করেছিলেন। ঐসময় খোকন সাহা মেয়রের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিলেন। সর্বশেষ খোকন সাহা ঘোষনা দিয়েছিলেন অনেকর মুখোশ খুলবেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ তিনিও নিশ্চুপ রয়েছেন। আগের মত তেমন বিষোদগার মন্তব্যও করেন না খোকন সাহা। অপরদিকে তিনবারের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। প্রতিবারই প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের বিপুল ভোটে পরাজিত করে জয়ের মালা ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। তাছাড়া নগরবাসীর সুবিধা অসুবিধায় ছুটে এসেছেন, পাশে থেকেছেন বিপদে আপদে। ফলে দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেন এই জনপ্রতিনিধি। কিন্তু জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও কম হয়নি তাকে ঘিরে। শহরের জিএস পুকুর নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তোপের মুখে রয়েছেন তিনি। এছাড়াও শহরে মশা, যানজট, হকার আর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়রের ভূমিকাও বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সিটি মেয়রকে হারিয়ে দেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু সমস্যা এইখানেই। মেয়র আইভীকে টেক্কা দেওয়ার মতো শক্তিশালী প্রার্থীর বড় অভাব এখন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে। কিন্তু গত দেড় বছর  বিশ্ব্যাাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে যখন দিশেহারা জনজীবন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পরে এর প্রাদূর্ভাব আর করোনার হটস্পটে পরিনত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকা, তখনও রহস্যজনকভাবে নিরব ছিলেন সিটি মেয়র আইভী। অথচ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী পেশায় একজন চিকিৎসক। একজন জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি একজন চিকিৎসক হওয়ায় করোনা মহামারিতে আইভীর কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বি। কিন্তু মেয়র হিসেবে জনগনের পাশে দাঁড়ানোর বা দুস্থ্য অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়ানোর কথা থাকলেও লকডাউনের সময়ে বাসা থেকেই বের হননি তিনি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তিনিও বাহিরে এসেছেন। নিয়মিত সবছেন অফিসে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে যে নারায়ণগঞ্জবাসী বারবার ভোট দিয়ে সেলিনা হায়াত আইভীকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন, চরম দু:সময়ে তারা তাদের সেই প্রিয় মেয়রকে খুঁজেই পেলেন না। লকডাউনে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে নিজের হাতে এক মুঠো চাল দিতেও দেখা যায়নি তাকে। সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা তাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও সাধারণ মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকলেও নাসিক মেয়র আইভী সে কাজটিও করেননি। একজন জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি সিটি মেয়র আইভী একজন চিকিৎসক। নামের আগে সব সময় ডা: কথাটি লেখা থাকলেও নারায়ণগঞ্জবাসী তার চিকিৎসা সেবা কখনো পাননি তাই এবার ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের প্রকোপে নগরবাসী ভেবেছিলো চিকিৎসক আইভীর সেবা পাবেন নারায়ণগঞ্জবাসী। কিন্তু তাদের সে আশায়ও গুড়েবালি দিয়েছেন নাসিক মেয়র। তাই প্রকাশ্যে বিরোধে না গিয়ে গোপনে গোপনে বিকল্প প্রার্থীর সন্ধ্যানে রয়েছে সাংসদ শামীম ওসমান।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *