News

দুই মেরুর ঐক্যের স্বপ্নে বিভোর না’গঞ্জবাসী!

ডান্ডিবার্তা | 26 March, 2020 | 10:12 am

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার হচ্ছে ওসমান ও চূনকা পরিবার। এই দুই পরিবারের অবদান শুধু নারায়ণগঞ্জ জেলা ভিত্তিক সীমাবদ্ধ থাকেনি জাতীয় রাজনীতিতেও তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে এমনকি বিভিন্ন আন্দোলন দুযোর্গের মধ্যেও যোগে এ পরিবার দুটির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ওসমান পরিবার স্বাধীনতার আগ মুহুর্ত থেকে বর্তমান আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে দলের মধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধি হয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে চূনকা পরিবারের একমাত্র কন্যা বর্তমান সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীও নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় নেতা প্রয়াত আলী আহাম্মদ চূনকার আদর্শকে বুকে লালন করে ব্যাপক উন্নয়ন এবং আপোষহীন নেত্রী হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন। সূত্রে জানা যায়, একদিকে খানসাহেব ওসমান আলী পরিবার, আরেকদিকে আলী আহমেদ চূনকা পরিবার। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এই দুই পরিবারের দ্বন্ধ অনেক দিনের। দুই পরিবারের এ বিরোধে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি বিব্রত হচ্ছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও। এতে লাভ হচ্ছে তৃতীয় পক্ষের। খানসাহেব ওসমান আলী ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দাদা। আলী আহমেদ চূনকা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাবা। ১৯৭২ সালে শহর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সময় ওসমান ও চূনকা পরিবারের বিরোধ আর চাপা থাকেনি। ১৯৭৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে আবারও দ্বন্ধ দেখা দেয় দুই পরিবারে। তার পর থেকে এই দ্বন্ধ আর দূর হয়নি। কখনও প্রকাশ্যে, কখনও পরোক্ষে এই দ্বন্ধ-বিরোধ আজও রয়ে গেছে। ১৯৭৩ সালে পৌরসভা নির্বাচনে আলী আহমেদ চুনকা আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত করেন খোকা মহিউদ্দিনকে। খোকা আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। তাতে সমর্থন ছিল ওসমান আলীর ছেলে এ কে এম শামসুজ্জোহা পরিবারের। শামীম ওসমানের বাবা এই শামসুজ্জোহা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই দুই পরিবারের দ্বন্ধ এখনো চলমান রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতেই একটি মহল সর্বদাই এই দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যে দ্বন্ধ বিদ্যমান রেখেছেন। তৃতীয় পক্ষের গভীর ষড়যন্ত্রে নারায়ণগঞ্জে দুই ধরনের রাজনীতির কারণে ফলে শক্তিশালী আওয়ামীলীগের সকল কর্মকান্ডই বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। জনশ্রোতি রয়েছে আওয়ামীলীগের দ্বিধা-বিভক্তির কারনেই নারায়ণগঞ্জে কাঙ্খিত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর আওয়ামীলীগ পরপর তিন মেয়াদ সরকার গঠন করলেও সকল দিক থেকে বঞ্চিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। আর এই সুযোগে সুবিধা আদায় করে নিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের পেত্ত্বারা। তাই রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সমগ্র জেলাবাসী মনে করেন, বর্তমান ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ও নাসিক মেয়র আইভীর মধ্যে ঐক্যের মাধ্যমেই সম্ভব উন্নয়নের চাকা সচল রাখা। জেলাবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনসহ ওসমান পরিবারের কর্ণধার সামসুজ্জোহা এবং চূনকা পরিবার তথা নারায়ণগঞ্জবাসীসহ আপাময় সাধারন মানুষের নেতা আলী আহাম্মদ চূনকার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উত্তর ও দক্ষিন মেরুর প্রভাবশালী দুই পরিবারের রাজনৈতিক অভিভাবক শামীম ওসমান এবং আইভীর মধ্যে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। প্রভাবশালী এই দুই মেরুর রাজনীতিবীদের ঐক্যের স্বপ্ন যেমনটি জেলাবাসী অনুধাবন করে আসছেন ঠিক একই ভাবে জেলা আওয়ামীলীগের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য সাংসদ শামীম ওসমান এবং মেয়র আইভীর ঐক্য সময়ের দাবি হয়ে দাড়িয়েছে। আর ঐকের মাধ্যমেই সম্ভব নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কারন হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ মনে করেন উন্নয়নের প্রভাবশালী এই দুই নেতার উন্নয়নের ফলেই তাদেরকে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে জেলাবাসী আখ্যায়িত করে থাকেন। সকল প্রকার দ্বন্ধ এবং মত অণ্যৈক্য ভূলে গিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে সাংসদ শামীম ওসমান এবং মেয়র আইভী ঐক্যের পতাকা তলে অবস্থান করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

[social_share_button themes='theme1']

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *