Home » শেষের পাতা » অধিগ্রহণ হচ্ছে নদীর জমি

দেশে ১৮০টি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা

২১ ডিসেম্বর, ২০২২ | ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 150 Views

ডান্ডিবার্তা ডেক্স দেশে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা ১৮০। বিশ্বের আর কোনো দেশেই এতো সংখ্যক সবুজ কারখানা নেই। পরিবেশবান্ধব এ ধরনের কারখানার সনদ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন (এলইইডি)। তাদের তথ্যেই এমন কথা জানানো হয়েছে। গত ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পোশাক খাতে বাংলাদেশের ৫৮টি পোশাক কারখানা প্লাটিনাম রেটিং, ১০৮টি গোল্ড রেটিং ও ১০টি সিলভার রেটিং পেয়েছে। এছাড়া চারটি কারখানা কোনও রেটিং পায়নি, তবে সনদ পেয়েছে। ঢাকার বৈরাগীরচালার ভিক্টোরিয়া ইন্টিমেটস লিমিটেড গত ১২ ডিসেম্বর ৬২ স্কোরসহ গোল্ড রেটিং পেয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের ড্রেসডেন টেক্সটাইল লিমিটেড গত ১৩ ডিসেম্বর ৬৮ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে। আরও ৫৫০টির বেশি কারখানা গ্রিন সার্টিফায়েডের তালিকা আসার অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৭ কারখানা অনুমোদন পেয়েছে। বিজিএমইএ বলছে, সবুজ কারখানার দিক দিয়ে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এমন কারখানা শুরু করতে প্রথমে অতিরিক্ত ব্যয় লাগলেও পরে এতে অন্যান্য অনেক খরচ কমে আসে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সবুজ কারখানাগুলো ৪০% প্রাকৃতিক শক্তি, পানি ৩০% ও কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনকে আরও সহজ করে। এতে করে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এজন্য কারখানার মালিকদের যেমন ভবন নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট মানদ- মেনে চলতে হয়। তেমনই কারখানাগুলো কর্মীদের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস এবং দক্ষতার ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবেলা করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বিজিএমইএ কর্মকর্তারা উন্নয়নশীল পোশাক খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি সবুজ ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য একটি টেকসই, দক্ষ, এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক শিল্প তৈরি করা। একইসঙ্গে উদ্ভাবন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং বৃত্তাকার অর্থনীতি বৃদ্ধি করা। জার্মানি সরকারের টেকসইতার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্ব সিল পাওয়ার জন্যেও বিজিএমইএ অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ ব্যপারে বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “এটা সত্যিই ভালো খবর।” তিনি বলেন, “২০২২ সালে এ পর্যন্ত ২৭ কারখানাকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। এটি একটি রেকর্ডও। এতে বাংলাদেশকে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ নিজের পরিবেশ সচেতনতা তুলে ধরেছে। এছাড়া নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরিতে টেকসই সবুজ কারখানা একটি অঙ্গীকারের প্রমাণ।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে এখন সবচেয়ে নিরাপদ পোশাক উৎপাদক মনে করা হয়। এ কারণে প্রচলিত ও অপ্রচলিত বাজারে ক্রেতাদের আস্থা মিলছে।” “চলমান সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করলেও কোভিড-১৯ এর পর খাতটি পুনরুদ্ধার হয়েছে।” “পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে থাকবে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পোশাক প্রস্তুতকারকদের মতে, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছিল। ওই ঘটনায় ১,১৩৪ জন প্রাণ হারান ও ২,০০০ হাজার জনের বেশি আহত হন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *