Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

দেড়বছর পর বাজলো ঘন্টা!

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 57 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর পর গতকাল রোববার সকালে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে খুলেছে সহ¯্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভার্চুয়ালি নয়, এবার স্বশরীরে বিদ্যালয়ে হাজির শিক্ষার্থীরা। আবারও শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। তবে, এবারের চিত্র আগের মতো নয়। মাস্ক নিশ্চিত করে, তাপমাত্রা মেপে ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন পরে বন্ধুদের সান্নিধ্য পেয়ে উচ্ছাসিত শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থ দের বরন করে নিতে সুসজ্জিত ছিলো স্কুলের প্রবেশপথ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার গাইডলাইন অনুযায়ী গত ৯ সেপ্টেম্বর ১৯টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে। এতে  জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি ও তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়। কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে তাও উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, এ যেন এক উৎসবের আমেজ! প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর প্রতিষ্ঠানগুলোর আঙিনা। শরৎ আকাশে মন খুলে উড়েছে লাল সবুজের পতাকা। প্রথমদিনে সব শ্রেণির শিক্ষার্থী না থাকলেও যারা ছিলেন তাদের মধ্যে হইহুল্লোড়, কোলাহল, যেন প্রথমদিন স্কুলে যাবার আনন্দ ছুঁয়েছে তাদের। সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশে।  কিছু কিছু শিক্ষকদের অনুভূতি প্রকাশে অশ্রু ঝরছিলো আবেগের জলে। সবমিলিয়ে খুশির মহারণে ভাসছিলো প্রতিষ্ঠানগুলো। আর উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। শহর ও শহরতলীর বেশ কয়েকটি স্কুলৈ এসব নির্দেশনা পালন করতে দেখা গেছে। তবে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডুকার ও বের হওয়ার সময় জটলা দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি ছিলো একেবারে উপেক্ষিত। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলায় সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রায় ৩০০টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। আরও ৫৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে জেলায়। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল রোববার সকাল থেকে জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে স্ব-শরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখেই একজন দাঁড়িয়ে আছেন থার্মাল স্ক্যানার হাতে। আরও দুইজনের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। পাশেই রয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রবেশের সময় তাপমাত্রা মাপা হয়েছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার পর তাদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে হয়েছে। সকলের মুখেই মাস্ক দেখা গেছে। যাদের মুখে মাস্ক ছিল না তাদের বিদ্যালয় থেকে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজ্রেন্দ নাথ সরকার বলেছেন, ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে। আজকে উৎসব মুখর পরিবেশে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে প্রবেশ করছে।আমাদের শিক্ষকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদেরকে নিয়ন্ত্রন করছে, তারা সরকারী নির্দেশনা মেনে শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে প্রবেশ করাচ্ছে। আমাদের ভিতরে যে ঘুমর ভাব এবং শিক্ষার্থীদের যে প্রাণচঞ্চলা আমরা দেখতে পারি নাই, কিন্তু আজকে ভালো লাগছে তাদের উৎসবমুখর অবস্থায় দেখে। আপনাদেরকে জানিয়ে দিতে যায় যারা ক্লাসে এসে অসুস্থ হয়ে যাবে তাদের জন্য আমরা আইসোলেশন রুম তৈরি করেছি। মদনগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির  এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে কোমলমতি কন্ঠে জানায়, স্কুলে এসে খুব ভাল লেগেছে। অনেকদিন পর আজ বন্ধুদের সাথে খেলতে পারব। শিক্ষকরা আমাদের মাস্ক দিয়েছে। সরকারি হাজী ইব্রাহিম আলমচান স্কুলের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, আমি ভাবতেই পারিনি আবারো বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে একত্রিত হব। প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়া ছিলো আমার জীবনের একটি অংশ। শিক্ষকদের খুবই মিস করতাম। এখানকার সবাই মিলে আমরা একটা পরিবার। বুনিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন,বন্দি থেকে থেকে আমার আর ভালো লাগছিলো না। এখানে এসে আমি অনেক খুশি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *