Home » শেষের পাতা » অধিগ্রহণ হচ্ছে নদীর জমি

দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানবে কে?

০৫ অক্টোবর, ২০২২ | ১২:০২ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 64 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট সকালের নাশতা থেকে শুরু করে তিন বেলার খাবার, বাসা ও পরিবহন ভাড়া, ওষুধসহ সবকিছুর দামই বর্তমানে ঊর্ধ্বগতি। ঘর থেকে বের হলেই মুহূর্তেই খালি হয়ে যায় খেটে খাওয়া মানুষের পকেট। যেখানেই হাত বাড়ায়, সেখানেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে আগুন। বেড়েছে লঞ্চ-বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন ভাড়া। বাসে পা রাখলেই ১০ টাকা। প্রতিদিনই ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চলছে বাসের শ্রমিকদের বাকবিত-া। জীবনের তাগিদে বাসায় থাকার কোনো জো নেই। প্রতিদিনই বাড়িওয়ালার ভাড়া বাড়ানোর চাপ। জীবনরক্ষাকারী ওষুধ কিনতেও ধাক্কা খেতে হচ্ছে। দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। এমনকি লন্ড্রির বিল, সেলুনে চুল কাটানোসহ সবকিছুতে যেন লুটপাটের মতো অবস্থা। আয়তো সেই তলানিতেই রয়ে গেছে। সেটা আর বাড়ছে কোথায়? এতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নি¤œ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা। তাদের মন্তব্য ‘আমরা অসহায়, আমাদের কষ্ট শোনার কেউ নেই। জীবন আর চলছেই না।’ গতকাল মঙ্গলবার বন্দরের, নবীগঞ্জ বাজার, নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে, বন্দর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা বেড়ে সাধারণ মানের প্রতি কেজি চাল কিনতেই ক্রেতার ৬০/ ৬৫  টাকা ব্যয় হচ্ছে। ভাল মানের চাল ক্রয় করতে কেজি প্রতি গুনতে হচ্ছে ৭৫ টাকা। ডাল, ভোজ্যতেল, ব্রয়লার মুরগির দাম নাগালের বাইরে। শুধু ডিম ভাজি করে ভাত খাবে, এরও উপায় নেই। প্রতি হালি (৪ পিস) কিনতে ৫৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। বাজারে সাধারণত যেসব মাছ কম দামে পাওয়া যায়- পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া, সেগুলোর দামও কেজিতে ৬০-৭০ টাকা বেড়েছে। ভর্তা তৈরির উপকরণ আলু, পেঁয়াজ ও মরিচের দাম বেশি। এছাড়া পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুর, নুডলসসহ সকাল ও বিকালের নাশতা আইটেম পণ্য ১০-৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা বাজারে এসে ক্রয়ের তালিকায় কাটছাঁট করছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ভাড়া ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। সঙ্গে পানি ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর কিছুদিন পরপরই বাড়ানো হচ্ছে গ্যাসের দাম। সব মিলে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। যে ওষুধ ছিল ১০ টাকা পাতা সেটা এখন ১৫ টাকা, ২৮ টাকা পাতারটা ৩৫ টাকা, ৫০ টাকা পাতারটা কিনতে হচ্ছে ৬০ টাকায়। টয়লেট টিস্যু থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিসের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানুষের এখন হায়! হায়! অবস্থা। এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে। সম্প্রতি আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ০৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিমন্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা নির্ধারিণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন। যেখানে ভাড়া ১০ টাকা লাগতো সেখানে এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা লাগছে। বাসের সুপারভাইজাররা ইচ্ছেমতো যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন। সরকার সিটিতে সিটিং সার্ভিস বাস উঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাস শ্রমিকরা সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। তাদের ইচ্ছেমতো যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে। বাসের মালিক-শ্রমিক সিন্ডিকেট যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। যেন লুটপাট চলছে দেশে। এছাড়া একটি শার্ট আয়রন করতে ২ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। চুল কাটাতে দিতে হচ্ছে ৩০ টাকা বেশি। ফলে সব খরচ একসঙ্গে বহন করতে নাজেহাল ভোক্তারা। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ৩০ শতাংশ লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আয়ের সঙ্গে ব্যয় সামলাতে না পেরে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। পণ্যের দামে প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছে ভোক্তারা। বাজারে কী পরিমাণে পণ্যের দাম বাড়া উচিত এবং কী পরিমাণে বেড়েছে-এ খবর রাখতে কোনো সংস্থাকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে যে যার মতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। এতে সব শ্রেণির ক্রেতা ভোগান্তিতে পড়ছে। বর্তমানে খুচরা এবং পাইকারি অসাধু ব্যবসায়ীরা নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছেন না। এখন এমনই অবস্থা হয়েছে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের। সম্প্রতি সয়াবিন তেল নিয়ে ঘটে গেল নানা ঘটনা। এক লাফে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ে ৪৪ টাকা। ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার লিটার সয়াবিন তেল মজুত করে বাজারে তেলের সংকট সৃষ্টি করে। দোহাই দেওয়া হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সয়াবিন তেলের সংকট হয়েছে। কিন্তু এটা একটা বাহানা মাত্র। শুধু ব্যবসায়ীরাই যে তেল মজুত করেছেন তা নয়, জনপ্রতিনিধিরাও এই মজুতের সঙ্গে জড়িত। এর জন্য তাদেরকে লাখ লাখ টাকা জরিমানাও গুনতে হয়েছে। আমদানি করা পণ্যের সঙ্গে দেশি পণ্যের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি মসুর ডাল থেকে শুরু করে অন্যান্য দেশীয় পণ্যে কোনো ঘাটতি নেই। তবুও অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের সংকট দেখিয়ে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে লুটে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। সাধারণ ভোক্তারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। মানুষের আজ নাভিশ্বাস উঠেছে। কিন্তু মানুষের বেতন তো বাড়ছে না। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? বাজার কেন অস্থিতিশীল হয়, কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয় সেটা সরকারের জানা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাজারের ওপর সঠিক নজরদারি দরকার বলে মনে করেন এদেশের সাধারণ মানুষ। দেশের নজরদারিতে যে চর্চা আছে তা হলোÑ কখনো কখনো কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযান চালাচ্ছেন, জরিমানা করছেন। সেটিও নিয়মিতভাবে করা হয় না। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যে ব্যবস্থাগুলো নেয়া হয়েছে, সেগুলোকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাও ত্রুটি রয়েছে। এই ত্রুটি দূর করতে হবে। দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে অনেক মানুষ। এর সঙ্গে আগের দরিদ্ররা তো রয়েছেই। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এটি সব সময় সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশের সিংহভাগ মানুষের কথা ভেবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে- এমন প্রত্যাশা দেশবাসীর সঙ্গে আমাদের।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *