Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

ধরলো হাইওয়ে পুলিশ ছাড়লো থানা পুলিশ

১৩ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 72 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঘড়ির কাটায় দুপুর ৩ টা ১৫ মিনিট। সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় পিক-আপের ধাক্কায় আইয়ুব আলী রিয়াদ (৩০) নামে এক ফার্নিচার শ্রমিক পিক-আপ চাপায় মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। ঘাতক পিক-আপ চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেলে মোল্লা ফার্নিচার কারখানার পরিচালক আশিকুর রহমান ওই মোটরসাইকেল (মোটরসাইকেল আরোহীর নাম শামসুজ্জামান সজল) আরোহীকে অপহরণ করে কারখানায় নিয়ে বেদরক মারধর করে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। টাকার জন্য তার স্বজনদের খবর দিলে স্বজনরা আসলে তাদের মারধর করা হয়। পরে ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ক্যাম্পের  ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান ঘটনা স্থলে গিয়ে ওই পরিচালককে আটক ও ভিকটিমকে উদ্ধার করে  সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলী মোল্লার নিকট হস্তান্তর করেন। পরে উভয়কে পুলিশের ভ্যানে করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘক্ষন ওসির কক্ষে দেন-দরবারের পর ফার্নিচার কারখানার পরিচালক আশিকুর রহমানকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ফার্নিচার শ্রমিক রিয়াদ রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত নামা একটি পিক-আপ এসে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে সে ছিটকে একটি  মোটর সাইকেলের উপর গিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পর পিক-আপের চালক গাড়ি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে শিমরাইল ট্রাফিক ক্যাম্পের টিআই মশিউর আলম বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীকে অন্যায়ভাবে জিম্মি করে ফার্নিচার কারখানায় আটকে রেখে পরিচালক ও অন্যান্যারা মারধর করে ২০ লাখ দাবি করেছে। আমরা কারখানার পরিচালক আশিকুর রহমান ও  ভিকটিম সজলকে উদ্ধার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ফিরোজ আলী মোল্লার নিকট হস্তান্তর করি। পরে তিনি পুলিশের ভ্যানে করে দুইজনকে থানায় নিয়ে যান।   মোটরসাইকেল আরোহী শামসুজ্জামান সজল জানান, বিনা কারনে আমাকে এবং আমার স্বজনদের ফার্নিচার কারখানায় জিম্মি করে আটকে রেখে মারধর করে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে আমার স্বজনরা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশে খবর দিলে হাইওয়ে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। এবং কারখানার পরিচালক আশিকুর রহমানকে আটক করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভ্যানে করে থানায় পাঠিয়ে দেয়। থানায় নেওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে কারখানার পরিচালক আশিকুর রহমানের সাথে দীর্ঘক্ষন দেনদরবারের পর মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিচালকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। রাত ১২ পর্যন্ত থানায় অপেক্ষা করে মোটরসাইকেল আরোহী শামসুজ্জামান সজলসহ তার স্বজনরা বাসায় ফিরে যায়।  সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলী মোল্লা জানান, আমি দু’জনকে থানায় রেখে আসছি। এর বেশী কিছু বলতে পারবো না। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমানের (পিপিএম) সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অপহরণ নয়, সড়ক দূর্ঘটনা সংক্রান্ত দু’জনকে আটক করে থানায় পাঠিয়ে ছিলো। কেউ কোন অভিযোগ না করায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *