Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

ধলেশ্বরী নদীর পানি তীব্রতায় আরসিসি রাস্তা ভাঙ্গন

২২ জুন, ২০২২ | ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 18 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ধলেশ্বরী নদীর তীব্রচাপ ও স্রোতে আরসিসি রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে কৃষি জমি তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যায় কিছু বাড়িঘর। আরসিসি রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে এলাকাবাসীর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি যানচলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। আর নদীর পানির তীব্র চাপ ও স্রোতে রাস্তা ভেঙে এলাকায় পানি প্রবেশ করায় বন্যা আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের চর বক্তাবলী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। এদিকে, বন্যার প্রভাবে নদীর তীব্রচাপ ও স্রোতে আরসিসি রাস্তার সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় যাতায়াতে বিঘœ ঘটছে স্থানীয়বাসিন্দাদের। রাস্তা ভেঙে যাওয়া সড়কের দুই দিকের মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। জনগনের চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় চেয়ারম্যান শওকত আলী সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে বাঁশ কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করার ব্যবস্থা করছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধলেশ্বরী নদী ঘেঁষা এলাকা বক্তাবলী ইউনিয়নের চর বক্তাবলী এলাকা। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে নদী ঘেঁষা কিছুটা অদুরে গ্রামে একটা রাস্তা তৈরি করে স্থানীয় চেয়ারম্যান শওকত আলী। কৃষি জমির জন্য পানি আদান প্রদানে কালভার্ট তৈরি করে রাস্তা করা হয়। আর নদীর পাড় হতে ড্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। ড্রেন দিয়ে নদী থেকে পানি আসা যাওয়া করা হয়। কিন্তু মাটি তলিয়ে ড্রেন দিয়ে পানি আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আর ধলেশ্বরী নদীর তীব্রচাপ ও স্রোতে আরসিসি রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে কৃষি জমি তলিয়ে যায়। রাস্তা ভেঙে এলাকাবাসীর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হয় এলাকার জনগন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটসহ উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে প্রতিনিয়তই বাড়ছে প্রতিটি নদ-নদীর পানি। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চর বক্তাবলি এলাকার যেই অংশে রাস্তাটি ভেঙ্গেছে, তার প্রায় ১০০ ফুট দূর দিয়ে বয়ে গেছে ধলেশ্বরী নদী। বন্যার প্রভাবে বক্তাবলীর কোল ঘেঁষেবয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী নদীও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানির উচ্চতা বেড়ে আশপাশের নি¤œাঞ্চলেপানি ঢুকছে। ভেঙ্গে যাওয়া আরসিসি ঢালাইয়ের সড়ক দিয়ে বর্তমানে তীব্র স্রোতে ঢুকছে নদীরবানের পানি। যদিও তা শাখা খাল হয়ে বেড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৪ দিন আগে মধ্য রাতে হঠাৎ নদীরপানির তীব্র চাপে সড়কের ওই অংশটি ভেঙ্গে যায়। সড়কটি যেই স্থানে ভেঙ্গেছে তার নীচেই ড্রেননির্মান করা হয়েছিল নদীর পানি স্বাচ্ছন্দে আসা যাওয়ার জন্য। তবে, ওই ড্রেনটি বেশকিছুদিন ধরে আটকে ছিল। তাই নদীর পানি বেড়ে তীব্র চাপ ও স্রোতে আরসিসি রাস্তাটাইভেঙ্গে গেছে। আর ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, পানির উচ্চতা ওস্রোত ক্রমশই বাড়ছে। নদীর পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙ্গন দেখা যাচ্ছে। এতে যেকোন সময়ে নদীর পাড় ভাঙ্গন ভয়াবহআকার ধারণ করতে পারে; এমন শঙ্কায় আছেন স্থানীয়রা। এদিকে রাস্তা ভেঙে কৃষি জমি এবং বসত বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ার ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল ছুটে যান বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদেরচেয়ারম্যান এম শওকত আলী। তিনি জানান, জনগণের সুবিধার্থে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তাটি জরুরী ভিত্তিতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করার কাজ শুরু করা হয়েছে। আশাকরি আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে জনগণ এই রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারবে। তবে রাস্তা নির্মাণ করা না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চলাচল আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। রাস্তা নির্মাণ করার পর ফের গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। চেয়ারম্যান এম শওকত আলী আরো বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় নদীর বাড়লে এই এলাকার চারিদিক দিয়ে বিভিন্নভাবে বর্ষার পানি ঢুকে যায়। আসে। বেশ কয়েক বছর আগে এই এলাকায় মানুষ চারিদিকে বসত ঘড় এবং তাদের সুবিধার্থে এখানে উঁচু রাস্তা নির্মান করা হয়। যেই স্থানে সড়কটি ভেঙ্গেছে, সেখানে পানিআসা যাওয়ার জন্য একটি ড্রেন লাইন করে দেয়া হয়েছিল। যাতে বর্ষার পানি এদিক দিয়ে আসা যাওয়া করতে পারে। তবে, ড্রেনটি হয়তো কোন ভাবে আটকে গিয়েছিল। তাই এবারের বন্যার পানি হঠাৎ এতটাই বেড়েছে যে, পানির তীব্র চাপ এবং স্রোতে এইদিকের রাস্তাটাই ভেঙ্গে পানিঢুকে গেছে।’ তিনি আরো বলেন,‘ এই রাস্তা টিকিয়ে রাখতে হলে এখানে কয়েকটি প্রশস্ত কালভার্ট তৈরী করা প্রয়োজন। কালভার্ট তৈরী করা হলে নির্বিঘেœ পানি আসা যাওয়া করতে পারবে। তখন রাস্তা ভাঙ্গবে না। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো, এই বক্তাবলী এলাকার স্বার্থে এইরাস্তায় যেন একাধিক কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকৃত রাস্তাটি টিকে যাবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *