Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

নগর ভবনকে গণমুখি করব:তৈমূর

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ | ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 107 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

‘তৈমূর আলম এলে এবার, নগর ভবন হবে সবার’- নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকারের এবারের মূল স্লোগান। প্রচারের জন্য ছাপানো পোস্টারেও শোভা পাচ্ছে স্লোগানটি। এই স্লোগান কেন? নগর ভবন কি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়? গত ১৭ দিন নির্বাচনী প্রচারে তৈমূর আলমের মুখ থেকেও শোনা গেছে এমনই ইঙ্গিত। তৈমূর তার ‘গুরু’ নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার মেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ‘ভাতিজি’ বলে সম্বোধন করেন। তাই বলে ভোটের মাঠে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে সমকালের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সময় ভাতিজির বিষয়ে সমালোচনার ভাষা ব্যবহারে তিনি ছিলেন সতর্ক। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তৈমূরকে বিএনপির সব পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তৈমূরের ভাষায়, ‘দল আমার বাপের কাজ করেছে। বিএনপি আমাকে দলমত নির্বিশেষে সবার ভোট পাওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছে। আমি এখন জনতার প্রার্থী। তবে নারায়ণগঞ্জে দলের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গেই রয়েছে।’ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তৈমূর। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘ভোট সুষ্ঠু হবে বলে মনে করছেন কিনা?’ উত্তরে বললেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আমার কোনো আস্থা নেই। তারা যে কোনো ধরনের কারচুপি করতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা না থাকলেও তার বিশ্বাস, জনরোষ ও জনপ্রতিরোধে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে।’ সাক্ষাৎকারের পুরোটা সময় আইভীকে ‘ভাতিজি’ কিংবা ‘আমাদের মেয়ে’ বলে সম্বোধন করেছেন তৈমূর। ‘এই নগরের ৮০ শতাংশ কাজ গত ১৮ বছরে মেয়র থাকাকালীন আইভী করে ফেলেছে, ফলে কাজ করার তেমন কিছু নেই’- এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর বলেন, ‘রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণ কোনো উন্নয়ন নয়। এগুলো রুটিন ওয়ার্ক। উন্নয়ন হতে হবে মানবিক, মানুষের জন্য। আমি যদি একটি বহুতল ভবন বানিয়ে বলি, আমি মাসদাইরের উন্নয়ন করেছি, এটা কি সত্য হবে? আমার বহুতল ভবন মাসদাইরের মানুষের কোন কাজে লাগবে।’ অভিযোগের সুরে তৈমূর বলেন, ‘বিগত মেয়র সিটি করপোরেশনকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করে বিক্রি করেছেন। এগুলো সিটি করপোরেশনের কাজ নয়। এগুলো রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাজ। অপরিকল্পিতভাবে অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করে করপোরেশনের জমি সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে হাসপাতাল, স্কুল, মাতৃসদন, খেলার মাঠের জন্য জমি পাওয়া যাবে না।’ তৈমূর বলেন, ‘যেখানে ঢাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স ১২ শতাংশ, সেখানে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ। গত করোনার পর চলতি অর্থবছরে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে শতভাগ।’ অভিযোগ এখানেই শেষ নয়, নগরের মাসদাইরে তৈমূরের বাড়িতে বসে যখন তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত সবাইকে মশার কামড় সহ্য করতে হচ্ছিল। বিষয়টির ওপর চোখ ফেলে তৈমূর বলেন, ‘মশা-মাছি নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যায়নি। নগরের বর্জ্য দিনের মধ্যভাগ পর্যন্ত অপসারণ করা হয়। নগরে নেই পর্যাপ্ত গণশৌচাগার। নগরের হকার সমস্যার সমাধান হয়নি। ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশায় নগর ভরপুর। এগুলো যানজটের অন্যতম কারণ। তবে এগুলোকে রেখেই ওভারপাস, আন্ডারপাস তৈরি করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব, যা ভূতপূর্ব মেয়র করেননি। রেলস্টেশন নগরের বাইরে চাষাঢ়া পর্যন্ত রাখা প্রয়োজন। তাহলে নগরীতে রেলক্রসিং থাকবে না, যানজট কমে আসবে। নগরে ট্রেন ঢুকলে সেটিও যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নগরীর যানজট নিরসনে বাসস্ট্যান্ডকে নগরের বাইরে স্থানান্তর প্রয়োজন। নির্বাচিত হলে আমি এটিকে নগরের বাইরে নিয়ে যাব।’ ‘গত তিন বছরেও শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কদমরসুল সেতুর জন্য তহবিল সংগ্রহ সম্ভব হয়নি, এ জন্য দায়ী কে?’ জবাবে তৈমূর বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য এমপি-মেয়র দু’জনই জরুরি। কিন্তু শামীম ও আইভীর মধ্যে সম্পর্কটা আলাল-দুলালের মতো। একজন ডানে গেলে আরেকজন যায় বামে।’ শামীম ওসমান প্রসঙ্গ চলে আসায় তৈমূরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সেলিনা হায়াৎ আইভী তাকে (তৈমূরকে) শামীম ওসমানের প্রার্থী বলেন। তৈমূরের সোজাসাপটা উত্তর, ‘আমি কী শামীমের পায়ে হাঁটি?’ অতীতে ওসমানদের হাতে নির্যাতন-নিগ্রহের স্মৃতিচারণ করে তৈমূর বলেন, ‘১৯৮৮ সালের জোড়া খুনের পর একটি নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সময় সেই সমাবেশে কেউ সভাপতিত্ব করতে চাইছিল না। আমি তৈমূর সেই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছিলাম। আমার বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছিল এর পরপরই।’ শামীম ওসমানের সঙ্গে এখন দেখা হয় কিনা- জানতে চাইলে তৈমূর বলেন, ‘কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে গেলে মাঝেমধ্যে দেখা হয়। কবরস্থানেই সর্বশেষ ছয় মাস আগে দেখা হয়েছিল। শামীমের বাবা-মা ও আমার বাবা-মা একই কবরস্থানে শায়িত আছেন।’  আইভীর বাবা প্রয়াত আলী আহাম্মদ চুনকার কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তৈমূরকে। উত্তরে বললেন, ‘চুনকা ভাইয়ের হাতে আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। তার মেয়ে আইভী আমাদের মেয়ে, আমার অনেক স্নেহের-আদরের। তার বাবার সঙ্গে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন করেছি। ছাত্র অবস্থায় সবাই যখন ছাত্র রাজনীতি করত, আমি তখন চুনকার সঙ্গে মেহনতি মানুষের হয়ে কাজ করেছি। আমার খুব দুঃখ লাগে, কষ্ট পাই যখন দেখি আমাদের মেয়ে হকারদের পেটে লাথি মারে। কোনো পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদে অভিযান চালায়।’ তৈমূরের দাবি, ‘২০০৩ সালে আমি নিজে নির্বাচন না করে তাকে সুযোগ করে দিয়েছিলাম। পৌর আমলে যখন তাকে ইমপিচ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখন তাকে রক্ষায় পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছিলাম।’ ‘আইভীকে স্নেহ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন কেন’- এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর বলেন, ‘আমার সমসাময়িক যারা এই নগরের নেতৃত্ব দিতেন, তারা সবাই মারা গেছেন। আমিই শুধু জীবিত। আইভীকে ঘিরে নগর ভবনে যে ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, সেটি প্রতিহত করার দায়িত্বও আমার।’  বিদায় দেওয়ার আগে তৈমূর বললেন, ‘মনে রাখবেন, সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। আমার ভাতিজি বুঝতে পারছে না, এটাকে লাভজনক নয়, সেবামূলক করতে হবে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে তাই করব।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *