Home » প্রথম পাতা » ইজারার আগেই গরুর হাট শ্রমিকলীগ নেতার দখলে

না’গঞ্জের নেতারা রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছে

২১ অক্টোবর, ২০১৯ | ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 919 Views

দুনীর্তি, টেন্ডারবাজি আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পর নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদরা অনেকটাই যেন নিষ্কৃয় হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। চলতি মাসে শামীম ওসমান তোলারাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানসহ কয়েকটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনোয়ার হোসেনসহ শুক্কুর মাহমুদ উপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান খুব একটা হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটিতে ৭১ জন ও মহানগর কমিটিতে ৬৭জন বাঘাবাঘা নেতা থাকলেও অদৃশ্য কারণে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচি তেমন একটা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠান বিচ্ছিন্ন ভাবে হলেও রাজনৈতিক ভাবে নারায়ণগঞ্জে আগে যেভাবে নেতাদের মাঠে দেখা যেত এখন আর তাদের তেমনটি দেখা যায়না। ড্রয়িংরুমে আড্ডা দিয়ে কিংবা চায়ের স্টলে রাজনীতির উজির নাজির মেরে সময় কাটাচ্ছেন এইসব নেতারা। আবার কেউ কেউ অবকাশ যাপনের জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দু:খ জনক হলেও গত শুক্রবার ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ট পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন। নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি সংগঠন বিচ্ছিন্ন ভাবে তা পালন করলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতারা হয়তো জানতেনই না গত শুক্রবার ছিল শেখ রাসেলের জন্মদিন। কারণ ৭৫’ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর সংঙ্গে শেখ রাসেলও নিহত হয়। শেখ রাসেলের জন্মদিন রাজনৈতিক ভাবে নারায়ণগঞ্জে হবে এমনটাই প্রত্যাশা ছিল শুধু তাই নয়, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ নারায়ণগঞ্জ কমিটির নেতা হওয়ার জন্য যারা সেদিন দৌড়ঝাপ করে নিজেকে সাচ্চা বঙ্গবন্ধু প্রেমিক বলে দাবি করেছিলেন, তারা পর্যন্ত শেখ রাসেলকে মনে রাখেনি। এর চেয়ে দু:খজনক ঘটনা আর কি হতে পার? তাছাড়া সামনে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিগুলির সম্মেলন এবং নতুন কমিটি নিয়ে দেশ ব্যাপী যখন নেতাকর্মীরা ব্যস্ত তখন নারায়ণগঞ্জের নেতারা দিনে দিনে রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। মাঝে মধ্যে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন আবার কেউ কেউ অরাজনৈতিক সংগঠনে অতিথি হয়ে নিজেদের জাহির করে চলেছেন। আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জে দিনে দিনে রাজনৈতিক চর্চা যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ দলের পদ পদবী পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্ত হয়ে দেন দরবার করে নিজের পদ পদবী বাগিয়ে আনেন বলে চাউর রয়েছে। এমন অভিযোগও রয়েছে, জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা হওয়ার জন্য অর্থাৎ পদ পদবী পাওয়ার জন্য কেউ কেউ নাকি কারি কারি টাকাও খরচ করে থাকেন। রাজনীতি যদি জনসেবা হয়ে থাকে তবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সবকিছু ফেলে প্রধানমন্ত্রীর দূর্নীতি বিরোধী অভিযান সফল করাসহ দলে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করবেন এমনটাই আশা করে ছিলেন মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সারা দিয়ে হাতেগুনা কয়েকজন ছাড়া প্রায় সকলেই রাজনীতি থেকে নিষ্কৃয় হয়ে পড়ছেন। কর্মীদের সাথে অনেকেরই যোগাযোগ নেই বললেই চলে। একেক নেতা একাধিক পদ পদবী দখল করে বসে থাকলেও সম্মেলন করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সুযোগ করে দিচ্ছেন না। যা নিয়ে বর্তমানে পদ পদবীধারী নেতাদের উপর অনেকটাই নাখোশ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের শুদ্ধি অভিযানের পাশাপাশি দূর্নীতি বিরোধী অভিযান এখন জরুরী। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছিলেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সফরকালে সেখানে একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্যও করেছিলেন যে, ওয়ান-ইলেভেনের প্রয়োজন হবে না। কারণ তাঁর সরকারই দুর্নীতি দমন করবে এবং এই অভিযানে কাউকে ছাড় দেবে না। গত ২ অক্টোবর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ এর মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসমূহের বাণিজ্যিক সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি। এ অভিযান অব্যহত থাকবে এবং এই অভিযান আমরা অব্যাহত রাখব। সে যেই হোক না কেন এখানে দল, মত, আত্মীয়, পরিবার বলে কিছু নেই। যারাই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেব। রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য পরিচালনা এবং টেন্ডারবাজির অভিযোগে যুবলীগ এবং কৃষক লীগের কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। কার্যত অভিযানটি পরে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে ক্লাবগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী একাধিক বার বলেছেন, রাজধানীর মত দেশব্যাপী দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলবে। টেন্ডারবাজি আর কালো টাকার মালিকদের কোন অবস্থাতেই রেহাই দেয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করে, অনতি বিলম্বে নারায়ণগঞ্জে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকাদের চিহিৃত করে শুদ্ধি অভিযান চালানো না হলে নারায়নগঞ্জ আওয়ামীলীগ রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়বে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *