Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

না’গঞ্জের বিএনপি ফেরারী!

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ২:২৬ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 47 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাথে বিএনপির সংঘর্ষে গুলিতে যুবদলের কর্মী নিহতের ঘটনার পর থেকে বিএনপির অনেক নেতার বাড়িতে যাচ্ছে পুলিশ। ফলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এমনকি শাওন হত্যার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি থাকলেও ঐ সময়ে মাঠে নামেননি নেতারা। যুবদল কর্মী শাওন হত্যায় মামলা হওয়ার পর থেকেই বাড়িছাড়া বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে কেবল তাঁর কার্যালয়ে পাওয়া গেছে। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নেতাদের খুঁজছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরাও। বাড়ির সামনে মহড়ার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মামলার আসামি ছাড়া অযথা কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমীর খসরু মাহমুদ। তিনি বলেন, ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই মামলায় এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, আমি কোনো দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও হুমকি সমর্থন করি না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ ৭১ জনের নামে মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৮০০ থেকে ৯০০ জনকে। যুবদলের কর্মী শাওন প্রধান নিহতের ঘটনায় করা মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। শহরের নগর খানপুর এলাকার বাসিন্দা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহম্মেদ। বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের ঘটনার আগের রাত থেকেই শাহেদ বাড়িতে থাকেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা সামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ঘটনার আগের রাতে তাঁদের বাড়িতে একদল পুলিশ হানা দেয়। অনেক ডাকাডাকি করলেও তাঁরা দরজা খোলেননি। এর আগে আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁর ছেলেকে খুঁজতে এসেছিলেন। ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছিল। মুঠোফোনে শাহেদ আহম্মেদ বলেন, আমাদের কর্মীকে হত্যার পর আমাদেরই মামলার আসামি করা ইতিহাসে এটা বিরল ঘটনা। আমরা এখন বাড়িতে থাকতে পারি না। যুবদলের কর্মী নিহতের পর থেকে মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব মনিরুল ইসলামও বাড়ি ছেড়েছেন। শহরের তল্লা এলাকায় গিয়ে তাঁর বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বাড়ির দোতলার ভাড়াটে ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে মনিরুল বাড়িতে থাকেন না। মুঠোফোনে মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনিসহ তাঁদের নেতা-কর্মীরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন। শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার বাড়িতে গিয়ে মহানগর ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাফি উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। রাফির মা রাশিদা জামান জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন, পুলিশ-আওয়ামী লীগের লোকজন তালিকা করছে, খোঁজখবর নিচ্ছে। পুলিশ বাড়ির আশপাশে ঘুরে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেনও ওই দিনের ঘটনার পর থেকে বাড়িছাড়া। তাঁকে খুঁজতে কয়েক দফা পুলিশ বাড়িতে গেছে বলে মুঠোফোনে দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশ গুলি করে আমাদের নেতা-কর্মীকেও মারছে, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, আবার গণগ্রেপ্তার করছে। মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুর রহমানের মাসদাইরের বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বাড়িতে থাকা রাশিদুলের ছোট ভাই বজলুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকেই ভাই বাসায় থাকেন না। হয়তো জেলে থাকেন, না হয় পলাতক। মাঝেমধ্যে আসেন। মুঠোফোনে রাশিদুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৩৩টি রাজনৈতিক মামলা। তবে শাওন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমার নাম নেই। কিন্তু অজ্ঞাত আসামি হিসেবে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারি। এই আশঙ্কায় বাড়ি ছেড়েছি। একই দিন নগরের বঙ্গবন্ধু সড়কের উকিলপাড়া এলাকায় মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান, মাসদাইরের পাক্কার পুল এলাকায় ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, বন্দরের নবীগঞ্জ কবিলের মোড় এলাকায় মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মামুন মাহমুদ বলেন, মামলার কারণে তিনিসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা আতঙ্কে আছেন। জেলা ও মহানগর বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী বাড়িতে নেই। এ কারণে তাঁরা শাওন হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচি ডাকলেও পালন করতে মাঠে নামেননি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *