আজ: শনিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১০:০৫

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

না’গঞ্জের যত্রতত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি

ডান্ডিবার্তা | ১০ আগস্ট, ২০২০ | ১১:০৮

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা বেড়ে চলেছে। অল্প সময়ের মধ্যে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার একটি অন্যতম পন্থা হচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা। যেকারণে মানসম্মত চিকিৎসা সেবার কথা চিন্তা না করে দিনে দিনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি ভুল চিকিৎসায় নানা দুর্ঘটনা সহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকলে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে বহাল তবিয়তে। উপর মহলকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জানাগেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবার মান যত কম হবে লাভ তত বেশি হবে। বিভিন্ন ধরনের টেস্ট অর্থাৎ পরীক্ষা নিরিক্ষার মধ্যে রয়েছে বিশাল টাকার ব্যবসা। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, টেস্টগুলো কতটুকু মানসম্মত কিংবা সঠিক তা যাচাই করার কোন উপায় নেই। কারণ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোন রোগি টেস্ট করানোর পরে দ্বিতীয়বার কেউ সাধারণত টেস্ট করায় না। কারণ এতো টাকা ব্যায় করার সামর্থ থাকেনা। তবে কোন কারণে যদি একই টেস্ট একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করানো হলে ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট আসার নানা ঘটনা রয়েছে। এছাড়া টেস্টের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অধিকাংশের লাইসেন্স সহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কারণ একটি ছোট শহরে এতোগুলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিভাবে অনুমোদন পায়। তাছাড়া একই ভবনে কিংবা একই গলিতে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকার কোন যুক্তি নেই। তাছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে ভুল চিকিৎসায় রোগি মারা যাওয়া সহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেহাল দশার চিত্র সবার সামনে চলে আসে। কিন্তু এসব অপকর্ম ধামাচাপা দিতে কিংবা ম্যানেজ করতে প্রভাবশালী মহল সব সময় কাজ করে থাকে এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে। সেসব প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি পুলিশ প্রশাসনের অভিযান ঠেকিয়ে দেয়ার হুংকারও দিয়ে থাকে এসব কর্তা ব্যক্তিরা। জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত না করেই গত ১ জুলাই থেকে নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করছিল ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ। তারা ঢাকায় তাদের ল্যাবে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদনের কাগজটি দেখিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহকৃত নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় তাদের নিজস্ব পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হচ্ছিল। পরীক্ষার ফি ৩৫০০ এবং সার্ভিস চার্জ নেয়া হচ্ছিল ১০০০ টাকা। মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে তারা সারা বাংলাদেশে নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন কিনা সে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন। পরে ১৪ জুলাই ঢাকার বাহিরে নারায়ণগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশে নমুনা সংগ্রহ করার অনুমতি পায় ল্যাবএইড হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক। নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, ল্যাব এইডের নারায়ণগঞ্জ শাখার বিষয়ে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। তাদের নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে। এদিকে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে প্রায়শই ভুল চিকিৎসার রোগীর প্রাণ ঝরছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ঘটনা প্রভাবশালী মহল দ্বারা ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়। তবে কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে উঠে আসে। আর তাতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ ও দুর্ঘটনার নানা ঘটনা দেখা গেছে। ১৯ অক্টোবর ভুল চিকিৎসায় জরায়ুর অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মলদ্বার কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে শহরের কালিরবাজার এলাকাতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কের পাশে অবস্থিত মেডিপ্লাস জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট গাইনীকোলজিস্ট ও সার্জন ডা. কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে। ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে হাসপাতালের বেডে রোগী কাতরালেও অপারেশনের পর ডাক্তার রোগীর কোনো খোঁজ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন রোগী ডালিয়া বেগমের (৪০) স্বজনেরা। ৩০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলি বেগম (২৮) নামে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তারে ভুল চিকিৎসা ও ক্লিনিকের অবহেলায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগে স্বজনরা ক্লিনিকটি ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের মারধর করা হয়েছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার সূত্র বলছে, চিকিৎসক কিংবা দালালের মাধ্যমে রোগি বাগিয়ে আনা। অহেতুক টেস্ট করে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেয়া। মনগড়া রিপোর্ট দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা হাতিয়ে নেয়া। ত্রুটিপূর্ণ মেশিন দিয়ে মানসম্পন্নহীন টেস্ট রিপোর্ট প্রদান সহ নানা ত্রুটি রয়েছে। তবুও উপর মহলের আশির্বাদে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *