Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

না’গঞ্জের রাজনীতিতে উত্তাপ শুরু

০৯ জানুয়ারি, ২০২২ | ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 70 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে ঘিরে শহরের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির রাজনীতিতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই দলেরই একাধিক নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে দলের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ। গত ৩০ নভেম্বর নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে লড়ছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থনে তার ভাই ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে রবিউল হোসেনকে। অভিযোগ রয়েছে, সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশেই তারই অনুসারী নেতা রবিউল হোসেন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছিলেন। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হুমায়ূন কবীর মৃধাকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দল। তবে তার আগেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এই নেতা। পদত্যাগের পূর্বে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজিত কর্মী সমাবেশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ূন কবীর মৃধা। ‘আমাকে বহিষ্কার করবেন, করেন?’ লিখে ফেসবুক স্ট্যাটাসে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি। কিন্তু বহিষ্কার নয় মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদ থেকে নিজেই পদত্যাগ করেছেন তিনি। হুমায়ূন কবীর সাংসদ শামীম ওসমান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহার ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। আওয়ামী লীগের আরও এক নেতা নাসিক ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুকেও সতর্ক করেছে দল। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য পদে রয়েছেন তিনি। তিনি নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর আলমকে সমর্থন দিয়েছেন, স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষুব্দ হয় দল। পরে আব্দুল করিম দলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে দল তার বিরুদ্ধে আর ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও শামীম ওসমান ঘনিষ্ঠ একাধিক কাউন্সিলর নৌকা বিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন খোদ দলেরই নেতারা। এদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নারায়ণগঞ্জে আসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আসলে দেখতে পান যে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী একাধিক নেতা সেখানে অনুপস্থিত। ওই সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের খোঁজ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অনুপস্থিত থাকা ছাত্রলীগের নেতারা শামীম ওসমানের অনুসারী। এই ঘটনার দুই সপ্তাহের মাথায় গতকাল শনিবার  মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু শামীম ওসমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। এই নির্বাচনে শামীম ওসমানের অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্দ স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রও। সরাসরি না বললেও শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের মধ্যে বা দলের ভেতরে থেকে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনে একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। নানক বলেন, ‘দলের ভেতরে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা বিভক্ত নেই। এই সভায় জেলা ও মহানগরের সকল নেতৃবৃন্দ আছে। এখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়।’ তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালন করবেন কিনা তার উপর বর্তায়। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দলের কাছে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। যার নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন, তারা নৌকা পক্ষে কাজ না করলে নিজের সাথে বেঈমানি করা হবে।’ এর আগে গত শুক্রবার জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়েছিলেন বলে এমপি (সংসদ সদস্য) হইছিলেন। আর সেই শেখ হাসিনার প্রার্থীর বিরোধীতা করছেন। আগামীতে নৌকা পাবেন না। জীবিত থাকতে আগামীতে নৌকা পেতে দিবো না। এদিকে পরিবর্তন হয়েছে বিএনপির রাজনীতিতেও। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে তিনটি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তৈমুর আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য পদ থেকে। তৈমুরের পক্ষে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের হাইকমান্ড থেকেও। সংগঠনের কেউ যাতে দল নির্দেশ অমান্য করা নেতা তৈমুর আলমের পক্ষে কাজ না করতে পারে সেজন্য বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে মহানগর যুবদলের আওতাধীন তিনটি থানা ও ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *