আজ: মঙ্গলবার | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৬ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১১:৪১

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

না’গঞ্জে অবৈধ পরিবহনের দাপট!

২৬ নভেম্বর, ২০২০ | ৫:৪৩ অপরাহ্ন | ডান্ডিবার্তা | 306 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরে এখন অবৈধ যানবাহনের দাপটে প্রতিদনই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিনা বাধায় শহরের সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, লেগুনা। বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। শহরের যত্রতত্র চলছে যাত্রী উঠানামা। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে অনাকাক্ষিত যানজট। তবে এসব রোধে প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। প্রতিদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দ্দী সড়কে রাত হলেই বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানীর বাস রেখে সড়কটি অবরুদ্ধ করে রাখার ফলে যান চলাচলে দুর্ভোগসহ ছিনতাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে বাসের আড়ালে বসে মাদকসেবীরা নিরাপদে মাদক সেবন ও ছিনতাইকারীরা অনায়াসে বিভিন্ন ব্যসায়ীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ছিনতাই করে থাকে। তাছাড়া ভাসমান পতিতাদের দখলে চলে যায় এই সড়কটি। বন্দর ও আশপাশের এলাকার প্রায় লক্ষাধীক লোক সন্ধ্যার পর থেকে এই সড়কটি দিয়ে দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করে। মনে হয় পরিবাহন সন্ত্রাসীদের কাছে প্রশাসন ও নগরবাসী যেন অসহায় অথচ থানার অতি নিকটে শহীদ সোহরাওয়ার্দ্দী সড়কটি হলেও পুলিশ প্রশাসনের কোন তৎপরতা নেই। দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জবাসী যানজটে ভোগলেও করোনা পরিস্থিতির আগে যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলেকি তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং, অবৈধ যান চলাচল, অবৈধ স্ট্যান্ড, দিনের বেলা পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলসহ নানা করণে শহরে যানজট লেগেই থাকছে। সড়কের এই নৈরাজ্য দমনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। ফলে নিত্যদিন ভোগান্তিতে পোহাচ্ছে নগরবাসী। দেখার যেন কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে যানবাহন চলাচলে শিথিলতা থাকাতে কয়েক মাস সড়কের নৈরাজ্য চোখে পড়েনি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসায় শহরের ফাঁকা সড়কগুলোতে বিনা বাধায় চলাচল করেছে অবৈধ ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা। করোনা পরিস্থিতির কারণে গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তুলনামূলক কম যানবাহনের উপস্থিতি ছিল শহরে। ফলে যানজটের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি নগরবাসীর। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর লকডাউন এখন সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে তখন সড়কের নিত্যদিনের ভোগান্তির চিত্র সামনে আসছে। পরিস্থিতি পাল্টে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পাল্টায়নি। লকডাউনের পরবর্তী সময় থেকে জেলার ট্রাফিক পুলিশের তেমন কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি। ট্রাফিকের নিয়মিত অভিযানগুলো বন্ধ রয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যানজট নিরসনের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদেরও দেখা যায়নি কোনো কার্যক্রম। ফলে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবৈধ যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও প্রতিদিন প্রবেশ করছে শতাধিক অবৈধ যানবাহন। অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে শহরে সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের জিমখানা মোড়, ডিআইটি, ২ নম্বর রেল গেইট চত্ত্বর, গলাচিপা, ১ নম্বর রেল গেইট, কালিরবাজার, চাষাড়া মোড়, সোনালী ব্যাংকের সামনে, খাঁজা মার্কেটের পেছনে, শহীদ মিনারের সামনে ও পার্শ্বে, সরকারি মহিলা কলেজের সামনে, চাষাড়া রেল স্টেশনের সামনে, চাষাড়া চত্ত্বর সুগন্ধা বেকারির সামনে দেখা যায় অবৈধ ইজিবাইক ও সিএনজি স্ট্যান্ড। সড়ক দখল করেই চলছে যাত্রী উঠা নামা। প্রতিটা সড়কেই প্রচুর যানবাহন। সড়কে জেব্রা ক্রসিং থাকলেও নিয়ম করে গাড়ী থামছে না। ফলে সাধারণ মানুষ রাস্তা পারাপারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ঝুঁকি পার হচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও রাস্তা পার হতে পারছের না। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অবৈধ যানবাহনের অধিকাংশ চালক অনভিজ্ঞ। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। অনেকে ক্ষেত্রে ইজিবাইক ও লেগুনায় কমবয়সী কিশোর এমনকি শিশুদেরও ড্রাইভিং সিটে করতে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা ট্রাফিকের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। আজ আমি এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সাহেবের সঙ্গেও কথা বলেছি। বিষয়টি হচ্ছে ইজিবাইক ও অটোরিকশা শহরে প্রবেশ রোধ করতে হলে আমাদের বেশকিছু এন্ট্রি পয়েন্টে যেমন জেলা পরিষদ, অক্টো অফিস, মন্ডলপাড়া, মেট্রোহলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে লোক লাগবে। কিন্তু এই ডিউটি কে করবে?’ তিনি বলেন, ‘শহরে অবৈধ যান প্রবেশ রোধ করতে হলে আমাদের অন্তত ৫০ জন লাগবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে ট্রাফিক বিভাগে আমাদের লোকসংখ্যা রয়েছে মাত্র ১০০ জন। এই স্বল্প লোকবল নিয়েই আমাদের পুরো জেলায় কাজ করতে হয়। এখন আমাদের পক্ষে ৫০ জন লোক এ কাজে দেয়া সম্ভব না। তাই এ ক্ষেত্রে আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাহায্য নিবো। যাতে তারা এসব পয়েন্টে আনসার নিয়োগ দেন। পুলিশ সুপার সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে আজ আমি এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাছে লিখিত আবেদন করবো।



Comment Heare

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Top