আজ: মঙ্গলবার | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৬ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১১:৩৯

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

না’গঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে জামাত!

২৯ নভেম্বর, ২০২০ | ৭:৩৮ পূর্বাহ্ন | ডান্ডিবার্তা | 401 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায় বহাল রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগ। টানা ক্ষমতায় আসীন থাকায় নানা কারনেই চাপে রয়েছেন বিএনপি ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতীম শরীক দল জামায়াত শিবিরের রাজনীতি। বিগত সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত শিবিরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও রাজপথে থেকে বিভিন্ন ধ্বংসাত্বকমূলক কর্মকান্ডের ফলে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ হয়েছে তাদের কার্য্যক্রম। সাধারন জনগনও বিএনপি জামায়াত শিবিরের ধ্বংসাত্বকমূলক কার্য্যক্রমের কারনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর ধ্বংসাত্বকমূলক কর্মকান্ডের কারনে স্থাণীয় প্রশাসনও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে হার্ডলাইনে। স্থানীয় প্রশাসনের হার্ডলাইনে থাকার কারনে অনেকটাই আত্বগোপনে চলে গেছে জেলা জামায়াতের রাজনীতি। এছাড়াও ধ্বংসাত্বকমূলক কর্মকান্ডের কারনে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ তাদের দলীয় নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যেও পুলিশের চোঁখতে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সময় মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমেসহ জামায়াত শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা। অপরদিকে দলীয় কর্মসূচী পালনের ক্ষেত্রে অনেকটাই সতর্কতা অবলম্বন করে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচী পালনে কর্মী বিহীন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ অনেকটা ফটোসেশনের মাধ্যমেই পুলিশের চোখঁকে ফাকিঁ দিয়ে তাদের কার্য্যক্রম শেষ করে। সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নারায়ণগঞ্জে সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপিরকে ‘ভাই’ এর মতো সঙ্গ দিয়ে আসছিল এ দলটি। বির্ভিন্ন সভা-সামবেশ জোটবদ্ধভাবেই কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে বিএনপি-জামায়াতকে। তবে এক সময় সরকার ও প্রশাসনের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠে জামায়াত শিবির। বিগত সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে সারাদেশে জ¦ালাও পোড়াও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। শুরু হয় দমনপীড়ন। আত্মগোপনে চলে যায় জামায়াতের সিংগভাগ নেতাকর্মী। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত হয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একে একে ফাঁসির রায় কার্যকর হলে অনেকটাই সংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে পাকিস্তান আমলের পুরনো এই দলটি। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের হরতালের সমর্থন দেয়া ছাড়া কার্যত্ব জামায়াতের পক্ষে বিএনপিকে মাঠে দেখা যায়নি। ধীরে ধীরে কোনঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তবে যতদিন নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী সক্রীয় ছিল ততদিন সরকার বিরোধী আন্দোলন অনেকটাই চাঙ্গা ছিল। উজ্জীবিত থাকতো বিএনপিও। জামায়াতে মারমুখি আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের বলেও চালিয়ে দিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ শহরের মন্ডলপাড়ায় প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে পেটানো থেকে শুরু করে লাঠি মিছিলও করেছিল। পুলিশের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়িয়েছে। জামায়াতের জঙ্গী মিছিল প্রশাসনের জন্য রীতিমত আতঙ্ক ছিল। সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বেশ কয়েকটি মামলাও করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কয়েকজন জেলেও গিয়েছে। কিন্তু দ্রুত জামিন পেয়ে গেছে। সম্প্রতি জামায়াত শিবির হঠাৎ করেই সরকার বিরোধী মিছিল বের করে জামায়াত শিবিরের নেতৃবৃন্দ। এতটা সতর্কতা অবলম্বন করার পরেও স্থাণীয় পুলিশ প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে গুমের ভিতরই রেখে প্রকাশ্যে মিছিল করে দলটি। দীর্ঘদীন ধরে লাপাত্তা থাকা জামায়াত শিবিরের এমন প্রকাশ্যে মিছিল করার পর থেকে স্থাণীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এর পর পরই জামায়াত শিবিরের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সাড়াশি অভিযান চালায় স্থাণীয় প্রশাসন। অভিযানে একাধিক শিবির নেতা-কর্মীও গ্রেপ্তার হউন। এরপর থেকে আবানো গাঢাকা দেন জামায়াত শিবিরের নেতৃবৃন্দ। এদিকে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, বিগত দিনে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকরের সময় জামায়াত এককভাবে রাজপথে নামলে বিএনপি শুধু সমর্থন যুগিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। জামায়াতের সঙ্গে মাঠে নামেনি। ফলে ৮ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়ার মুক্তিসহ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বিএনপি আন্দোলন করলেও কোন সাড়া নেই জামায়াতের। নিশ্চুপ নারায়ণগঞ্জের জামায়াত নেতারা। গণমাধ্যমে কোন বিবৃতিও দেয়নি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সঙ্গীহারা আন্দোলন করে যাচ্ছে। মহানগর বিএনপি নেতা এটিএম কামাল জানান, পদাধীকার বলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ২০ দলীয় জোটের আহবায়ক হচ্ছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি আবুল কালাম ও সদস্য সচিব মহানগর জামায়াতের আমির মাও: মাঈন উদ্দিন। এবং আমি কোঅডিনেটর হিসেবে আছি। তিনি বলেন, জামায়াত ২০ দলীয় জোটের অন্যতম একটি শরীক দল। তবে এই মুহুর্তে এক সাথে জোটবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করার কোন নির্দেশা কেন্দ্র থেকে নাই। তাই আমরা এককভাবেই আন্দোলন সংগ্রাম করছি। আবার যখন কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসবে তখন জোটবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করবো। তাছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবেও রাজপথে ২০ দলীয় জোটের কোন কর্মসূচি নাই।



Comment Heare

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।