Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

না’গঞ্জে উত্থান পতনের রাজনীতি

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ২:২৪ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 94 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বেশ চাঞ্চল্যকর। কে কখন কাকে ল্যাং মারে আবার কে কাকে কখন বুকে টেনে নেয় এর কোন হিসাব নেই। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি বয়ে চলছে দু’টি বলয়ের মধ্যে। দু’টি বলয়ই শক্তিশালী। কম বেশী দু’ বলয়েই রয়েছে কর্মীবাহিনী। একসময়ে মনে হয় একটি বলয় এগিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি বলয়ের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই পাল্টে যায় সেই চিত্র। টানা দশ বছর এভাবেই উত্থান আর পতনের মাঝে চলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই বলয়ের রাজনীতি। নাসিক নির্বাচনের পর উত্তর বলয় যেন একেবারেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এমনটা মনে হচ্ছিল। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার দক্ষিণ বলয়কে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় উত্তর বলয়। এই হলো নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক চিত্র। কখনো দেখা যায় দুই বলয়ের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবার কখনো দুই বলয়ের মধ্যে মারমুখি অবস্থান। এক বলয় আরেক বলয়কে জনসমাবেশে নাস্তানাবুদ করতে কোন কমতি রাখেন না। তবে আসছে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরেও চলছে দুই বলয়ের তৎপরতা। কেউ কাউকে ছাড় দেবে না এমন চিত্র হরহামেশায়ই ঘটে থাকে। তবে এবারের অবস্থা আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এদিকে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন শামীম ওসমান। গত ২৭ আগস্ট বিশাল জনসভা করে তিনি নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তার ব্যক্তি জনপ্রিয়তা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন এক সভার মধ্য দিয়ে। বিএনপিকে হুশিয়ারি দেয়ার পাশাপাশি দলের জন্য নিজের শক্তিমত্তা প্রচার করেছেন এক নিমিষে। আর এভাবেই নিজ বলয়ের শক্তির জানান দিয়েছেন শামীম ওসমান। আগস্টের পর থেকেই যেন ওসমান বলয়ের এগিয়ে যাওয়া শুরু হয়ে যায়। দীর্ঘ আকাক্সক্ষার পর জেলা পরিষদে মনোনয়ন পেলেন শামীম ওসমানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বাবু চন্দন শীল। সিটি নির্বাচনে আইভীর মনোনয়ন এবং ওসমান বলয়ের নেতাকর্মীদের দলচ্যুত করার পর যেভাবে বেকায়দায় পরেছিলো অনুসারীরা, সেখান থেকে উঠে আসার জন্য এই প্রাপ্তি। জেলা পরিষদে দক্ষিন বলয়কে হটিয়ে উত্তরের সমর্থন লাভ নতুন বিজয় হিসেবেই দেখছেন অনেকে। এক চন্দন শীলের মাধ্যমে পুরো জেলাতেই ওসমান বলয়ের প্রভাব বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকমাস ধরে শোনা যাচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে সুসম্পর্ক তৈরী হয়েছে শামীম ওসমানের। কিছুটা আড়ালেই এই সম্পর্ক মধুর হয়েছে। কারণ গাজী সর্বদা সকলের সাথে সুসম্পর্ক রাখায় বিশ্বাসী। আর তাই শামীম ওসমানের সাথে এককালে দূরত্ব থাকার কথা শোনা গেলেও বর্তমানে সে দুরত্ব ঘুচিয়ে ভালো সম্পর্কই তৈরী করে নিচ্ছেন। এভাবেই ধীরে ধীরে এগুচ্ছে ওসমান বলয়ের প্রভাব। ওসমান বলয়ের কর্মীরা বলছেন, সিটি নির্বাচনের পরে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ মূলত মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এর আগে সত্যিই হতাশা তৈরী হয়েছিলো সর্বত্র। কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রী শামীম ওসমানকে ডেকে ধন্যবাদ এবং মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন তখন সেই কষ্ট আর অনুভূত হয়নি কারও মাঝে। আর সেখান থেকেই নিজেদের প্রত্যাবর্তন খুঁজে নিয়েছে কর্মীরা। কিন্তু বাকিরা প্রত্যাবর্তন দেখছে চন্দন শীলের মনোনয়ন প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সংঘর্ষের পর ওসমান বলয়ের সাথে দূরত্ব তৈরী হলেও বর্তমানে সেই দূরত্ব ঘুচে গেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে শামীম ওসমান সহ বলয়ের নেতাদের। অচিরেই বিলুপ্ত কমিটিতে স্বমহিমায় ফিরতে পারেন নেতাকর্মীরা। আবারও নিজেদের দাপুটে অবস্থানে চলে আসবেন তারা। এমনটা তাদের ধারণা। আর এভাবেই নিজেদের প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। শামীম ওসমানের অনুসারিদের মতে, নেতা হিসেবে সব কথা না বলে আড়ালে অনেক কিছু চেপে রাখেন শামীম ওসমান। যথা সময়ে কাজের মধ্য দিয়ে বুঝে নেয় সকলে। আর এবারও সেটাই ঘটেছে। অনেক কথার মাঝেও নিজেদের সুদিন ফেরার কথাগুলো এতদিন বলেননি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঠিকই নিজেদের সর্বোচ্চ সাফল্য নিয়ে এসেছেন তিনি। আর এভাবেই শহর বন্দর ফতুল্লা ছাড়িয়ে পুরো জেলাতেই নিজেদের মেলে ধরতে যাচ্ছেন শামীম ওসমান ও তার অনুগামীরা। এদিকে জেলা পরিষদে নিজেদের অবস্থান তৈরী করতে না পেরে হতাশায় ভোগছেন দক্ষিণ বলয়ের নেতারা এমনটা ধারনা রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের। তবে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি বেশ চাঞ্চল্যকর।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *