Home » প্রথম পাতা » দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৩৬৪

না’গঞ্জে ঐক্যবদ্ধ জাতীয়পার্টি

০৭ মে, ২০২১ | ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 28 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামীলীগ ও ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নারায়ণগঞ্জের নেতাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত দ্বন্দের মাত্রা বেড়েই চলেছে। যার ফলে কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করলেও দলের পরিবর্তে নেতাদের অনুগামী হয়ে পড়ায় তারাও এখন বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। তবে নারায়ণগঞ্জে এখনও ঐক্যবদ্ধ আছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। বিগত ২০১৪ সালে জুনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সদ-েবন্দর আসনের তৎকালীন সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর দলীয় কার্যালয় হারিয়ে ছন্নছাড়া হয়ে পড়লেও নাসিম ওসমানের অনুজ সদর-বন্দর আসনের বর্তমান সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান এবং জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও সোনারগাঁ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকার বলিষ্ঠ ভূমিকায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এখনো রয়েছেন ঐক্যবদ্ধ। অপরদিকে কিন্তু আওয়ামীলীগ ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা মুখে-মুখে ঐক্যবদ্ধ থাকার দাবী করলেও বাস্তবে তাদের কারনেই অনুগামী নেতাকর্মীরা হয়ে পড়ছে বিভক্ত বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলের নেতৃবন্দরা। কারন হিসেবে তারা বলেন, ‘দলীয় এমপি থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা যারা মুখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন, খোদ তারাই নানা কারনে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়ছেন। আর এর প্রভাব পড়ছে তৃণমূলের উপর। তাই দলীয় অনুগামী নেতাকর্মীদের আগে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানোর পূর্বে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ার পরামর্শ দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানাগেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য ও ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমানের সাথে বিরোধ চলে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর মাঝে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের পূর্বে খোদ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা উভয়কেই গণভবনে তলব করে মিলিয়ে দিলেও বাস্তবে এখনো পর্যন্ত উভয়ের মাঝে ঐক্য হওয়ার কোন লক্ষ পরিলক্ষিত হয়নি। সম্প্রতি দলীয় বিভিন্ন সভা সমাবেশে উত্তর ও দক্ষিন মেরুর নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সভা-সমাবেশ কিংবা র‌্যালিতে যোগদান করলেও সাংসদ শামীম ওসমান কিংবা মেয়র আইভীকে দেখা যায়নি। এমনকি করোনা কালীন দুঃসময়েও প্রভাবশালী দুই মেরুর এই দুই নেতাকে একত্রিত হয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে দেখা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেণকরা মনে করেন, ক্ষমতাসীনদলের প্রভাবশালী এই দুই নেতা একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সম্ভবনা কখনো সম্ভব নয়। ক্ষমতাসীনদলের রাজনৈতিক যে দ্ধন্ধ বর্তমানে বিরজমান রয়েছে তা সমাধান হওয়া সম্ভব একমাত্র দলীয় কর্মসূচীতে একত্রে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে। প্রভাবশালী এই দুই নেতার একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে নেতৃবৃন্দকে এক্যবদ্ধ হওয়ার শ্লোগানের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে দীর্ঘদীনের দ্ধন্ধের যেমন অবসান ঘটবে তেমনি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে নতুন উদয়ের সূচনা ঘটবে। অণ্যথায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ঐক্য শুধুমাত্র চেষ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অপরদিকে, কম যায় না বহুবছর যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিও। সম্প্রতি জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করা হয়েছে। দলের ভিতর বিভক্তির কারনেই কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে বলে নেতা কর্মীরা মনে করছেন। এমনকি পূর্বের কমিটিতে প্রত্যাশা থাকলেও জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসতে না পারার ক্ষোভে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যকরী সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টু জেলা বিএনপি নেতা কাজী মনিরুজ্জমান, মামুন মাহমুদের ঘোর বিরোধীতা করেন। এমনকি তারা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে আগত কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে বর্তমান জেলা বিএনপির অযোগ্য কমিটি বিলুপ্ত করার দাবী তুলেন। সম্প্রতি জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনার মধ্য দিয়ে দলীয় বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। এছাড়াও একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগ মুহুর্ত থেকে শুরু করে বর্তমানেও দলটিতে নেতায় নেতায় দ্বন্দের মাত্রা আরো বেশী বেড়েছে। অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ সাংসদ নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. আবুল কালাম। আর এক্ষেত্রে তিনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু ওরফে পাকনা টিপুকে। এ দ্ধন্ধ এখনো চলমান অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও সোনারগাঁ আসন সোনারগাঁয়েও বিএনপির সাবেক এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিম ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। আড়াইহাজার আসনে (আড়াইহাজার) কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান খসরু, আতাউর রহমান আঙ্গর এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা আজাদের সাথে দ্বন্দ চলছে। আর রূপগঞ্জ আসন রূপগঞ্জেও এড. তৈমূর আলম খন্দকার, কাজী মনিরুজ্জামান ও দিপু ভূইয়ার মধ্যে বিরোধের কারনে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলীয় এক সভায় আওয়ামীলীগের সাংসদ আলহাজ¦ শামীম ওসমান এবং বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলতে বাধ্য হন, আমাদের দলের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও নেতায় নেতায় দ্বন্দ রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে দলীয় বিভাজন পরিলক্ষিত হলেও এর সম্পূর্ণ উল্টো নারায়ণঞ্জ জাতীয় পার্টির রাজনীতি। ২০১৪ সালের জুনে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর পরই জাপা’র রাজনীতিতে সাধারন নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করে আসছিল। জাপার নেতাকর্মীরা দলের ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ঠিক সে মেহুর্তে জাপা’র হাল ধরেন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমান। জাপার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সাধারন নেতা কর্মীদের সংসম্পর্শে চলে আসেন সেলিম ওসমান। নাসিম ওসমানের দেখে যাওয়া স্বপ্ন একের এর এক বাস্তবায়ন সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-মাদ্রাসা-বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং করোনা কালীন দুঃসময়ে নারায়ণগঞ্জবাসীকে সার্বিক সহযোগিতা এবং করোনা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারায়লগঞ্জবাসী কথা জাপার তৃনমূল নেতা কর্মীর মনে জায়গা করতে সক্ষম হন সেলিম ওসমান। সাংসদ সেলিম ওসমানের নেতৃত্বেই জাতীয় পার্টিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শক্তিশালী সংগঠনে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হন তিনি। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল থাকলেও ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পাটির রাজনীতি।

 

 

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *