আজ: বুধবার | ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১২:২২

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

না’গঞ্জে চ্যালেঞ্জের মুখে জাপা

২৪ নভেম্বর, ২০২০ | ৭:৩১ পূর্বাহ্ন | ডান্ডিবার্তা | 249 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
করোনার কারণে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করে সোনারগাঁ জি আর ইন্সস্টিটিউটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নামফলক ভাংচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ আলাদা আলাদা ভাবে সভা সমাবেশ করে সেখানকার সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে। এছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগ শহরে সমাবেশ ও মানববন্ধন করে খোকার বিরুদ্ধে দলের অবস্থানকে জানান দিয়ে খোকাকে জামাত-বিএনপির দোসর হিসাবে ঘোষণা দেয়। একই দিন খোকার কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়। এইসব সভা সমাবেশে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অধিকাংশ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভীসহ তার অনুসারিরাও খোকার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়। মহানগর আওয়ামীলীগের সমাবেশে আনিসুর রহমান দিপু ও খোকন সাহার উপস্থিতি এবং খোকার বিরুদ্ধে জ¦ালাময়ি বক্তব্যের পর অদ্যাবধি জাতীয়পার্টির পক্ষ থেকে পাল্টা কোন কর্মসূচি প্রদান কিংবা সাংসদ লিকায়ত হোসেন খোকা এ ব্যপারে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি। বরং জেলা ও মহানগর জাপার পক্ষে আকরাম আলী শাহীনের বিবৃতির পরে আওয়ামীলীগের মধ্যে আরো ত্যাজিভাব দেখা যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা অনেকটাই একাকি হয়ে পরেছেন। আর নামফলক ভাঙ্গার পর আওয়ামীলীগের কর্মসূচি বিশেষ করে দক্ষিণ মেরুর দুই গ্রুপের একসুরে বক্তব্য দেয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জাতীয়পার্টি অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। এ অবস্থায় জাতীয়পার্টির অবস্থান কি হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। আর সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার অনুসারিরাও অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভেঙ্গেফেলা নামফলকটি গত রবিবার পূনরায় স্থাপন করলেও আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আনোয়ার পন্থিরা কোন প্রকার ছাড়দিতে নারাজ এমনটাই মন্তব্য করেছেন। যদিও শনিবারের সমাবেশ থেকে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সাংসদ খোকাকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। এ ব্যপারে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার কোন মন্তব্য কিংবা ক্ষমা চাওয়ার মত কোন বিবৃতিও গণমাধ্যমে আসেনি। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জাতীয়পার্টি তথা লিয়াকত হোসেন খোকা ও তার পতিœ ডালিয়া লিয়াকত এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। সোনারগাঁ পৌরসভার আগামী নির্বাচনে ডালিয়া লিয়াকত শক্তিশালী প্রার্থী। আর ডালিয়া লিয়াকতের পক্ষে সোনারগাঁয়ে সকল প্রস্তুতিও শেষ করে এনেছিলেন সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা। হঠাৎ করে নামফলক ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। আওয়ামীলীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য হলো, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। আমরাতো আওয়ামীলীগের ৫টি আসনে নৌকা চেয়েছি। কিন্তু মহাজোটের কারণে সেখানে জাতীয় পার্টির এমপিকে ছাড় দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগকে কর্মসূচি পালনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল বলেন, আনোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি তিনি তো জনগণের সেবার জন্য জেলার বাইরে গিয়ে উন্নয়ন করেননি। তার এই নাম ফলক ভেঙে ফেলার ঘটনা অবশ্যই শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ হয়েছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু বলেন, এমপি খোকা যা করেছে সেটা শিষ্টাচার বহির্ভূত। আমি এমপিকে অনুরোধ করবো অনতিবিলম্বে সেই ফলক স্থাপন করতে। জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আনোয়ার হোসেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তোলারাম কলেজের জিএস ছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় এখন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হয়েছেন। তিনি এমনিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হননি; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দিয়েছে। আর সেই আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক টোকাই খোকার মত (সোনারগাঁ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা) পোলায় ভেঙে ফেলে; এই দুঃসাহস কোথা থেকে পেল। আওয়ামীলীগের কাধে ভর দিয়ে এই খোকা এমপি হয়েছে। নচেৎ ওর বাবার চৌদ্দ গোষ্ঠীর ক্ষমতা আছে নাকি এমপি হওয়ার। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে বিধায় এমপি হতে পেরেছে। সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, এটা একটা জঘন্য ও ঘৃণ্য কাজ। কোন সুস্থ্য মস্তিস্কের মানুষ এই কাজ করতে পারেনা। উনি (এমপি খোকা) হচ্ছে আওয়ামীলীগের অনুকম্পা। আওয়ামীলীগের অনুকম্পা এমপি হয়ে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় যেখানে সরকারের উন্নয়নের নাম ফলক সেখানে উনার ব্যক্তির তো এখানে কিছু নাই। আনোয়ার সাহেব নৌকা প্রতিকের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি। আর উনি (এমপি খোকা) অনুকম্পার এমপি হয়ে উনাকে দিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করিনা। কারণ উনি বিএনপির তাবেদার হিসেবে এখনো সোনারগাঁয়ে আছেন। বিএনপির সমস্ত লোকজনদের ইস্টেবলিষ্ট (প্রতিষ্ঠা) করার জন্য বিএনপির সমস্ত লোক জাতীয় পার্টিতে প্রবেশ করায়। আর বিএনপির লোকজন মূলত আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দেখে খুশি হতে পারেনা। সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, যদি এমপি খোকা এ ধরনের কাজ করে থাকে এটা ভুল হয়েছে। এটা মোটেও সমুচীন হয়নি। কারো উন্নয়ন কাজের নাম ফলক ভাঙার বিষয়টা অবশ্যই ভুল হয়েছে। আনোয়ার হোসেন আওয়ামীলীগের সিনিয়র পারসন উনার নাম ফলক ভাঙার বিষয়টা ভুল হয়েছে এটা কাম্য না। দীর্ঘদিন ধরে এখানে আওয়ামীলীগের সাংসদ না থাকায় এখানে আওয়ামীলীগ গ্রুপ ও উপগ্রুপে বিভক্ত আছে। আমাদের মধ্যে যে ভেদাভেদ আছে আমরা আশা করছি অচিরেই এক মঞ্চে আসতে পারবো। এদিকে সোনারগাঁ জি.আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের গেটের সামনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙ্গে ফেলার ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতারা এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে দায়ী করে নানা অশালীন অশ্রাব্য অকথ্য ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন দাবি করে জাপা নেতা আকরাম আলী শাহীন বলেন, এসব বক্তব্য রাজনৈতিক নেতাদের মুখে কতটা মানানসই এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। যারা পরস্পর রাজনীতিককে সম্মান করে কথা বলতে পারেনা কিংবা অভদ্র ভাষায় কথা বলে তখন তার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে, সে নিজে কোথা থেকে ওঠে এসেছে। যদি তার অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড ভাল না হয় তাহলে ধরে নিবেন তার নিজেরই ব্যক্তিগত সমস্যা। আর যদি তার ব্যাকগ্রাউন্ড খারাপ থাকে তাহলে ধরে নিবেন এটা তার বংশগত দোষ। সুতরাং রাজনৈতিক মাঠে তার বক্তব্যের ভাষাতেই তার বংশধরের পরিচয়। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কাউকে অসভ্য ভাষায় বক্তব্য দিয়ে নিজে বড় নেতা হওয়া যায়না। এ ধরণের কিছু লোকজনের কারনে আজকে অনেক মানুষ রাজনীতিকে ঘৃণা করে। আমরাও এসব বিষয়ে নিন্দা জানাই। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জাতীয়পার্টি এখন অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে।



Comment Heare

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Top