Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

না’গঞ্জে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট রোগী বাড়ছে

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ | ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 79 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা। গত তিনদিনে এ জাতীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। কিছু ভর্তিও হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১০ জন ও নিউমোনিয়ায় ৩ জন। ডাক্তাররা বলেছেন, শীতের প্রকোপে শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে প্রায় ঘরে ঘরেই এখন এ ধরনের রোগী। তাঁদের মধ্যে জ্বর নিয়ে ভীতি থাকলেও করোনা পরীক্ষায় তেমন আগ্রহ নেই। বেশ কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণেই সর্দি-জ্বর বেড়ে গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তবে করোনা মহামারির এই সময়ে যে কারণেই সর্দি-কাশি-জ্বর দেখা দিক না কেন, অবহেলা না করে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এবারের শীতে নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। এসময় থেকেই ঢাকা বিভাগে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। মানুষ শীতে কাহিল হয়ে পড়ে। এ কারণে মানুষের অসুস্থতাও বাড়তে থাকে। জানুয়ারি মাস থেকে সেই পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে থাকে। বর্তমানে প্রতিটি ঘরে ঘরেই শীতজনিত জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বসকষ্ট দেখা দিয়েছে। অনেকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে, আবার অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অবশ্য এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগির সংখ্যাই বেশি। এদের অধিকাংশই জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিনে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে শুক্রবারই ভর্তি হয়েছে ৩৩ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার ৩৬ জন ও গত বুধবার ছিল ৩৫ জন। এসব রোগীর বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। ভর্তিকৃতদের মধ্যে তিনজন নিউমোনিয়া আক্রান্ত। এছাড়া শীতজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এদিন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আবু হুরায়রা (১০) নামে এক রোগীর আত্মীয় জানায়, গত এক সপ্তাহ যাবৎ সে জ্বরে আক্রান্ত। একইসাথে তার গলায় ব্যাথা ও কাশি হচ্ছে। অবস্থা কাহিল হওয়ায় তাকে নড়াইল থেকে এই  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুরের এক বছর বয়সি হুমাইরার মা। তিনি বলেন, প্রচন্ড শীতে গত সাতদিন ধরে মেয়ের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসায় কোন উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে কিছুটা সুস্থ হয়েছে। তিনি বলেন, এ জাতীয় রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু বর্তমানে হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সেবিকারা বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ডে শিশু রোগীর চাপ বেশি। বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। তবে অন্যান্য বছরের চাইতে এবার ঠান্ডাজনিত নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা কম। অবশ্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগী বেশি রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন বেশির ভাগ বাড়িতেই কেউ না কেউ জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত। তাঁদের বেশির ভাগই বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ কিনে সেবন করছেন। এভাবে ইতিমধ্যে অনেকে সুস্থ হয়েও উঠছেন। আবার কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) বলেন, ‘সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। আমাদের বহির্বিভাগে এখন প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী আসছেন। এসব রোগীর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত। ওষুধে ভালো হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া আমরা লক্ষ করছি, অনেক রোগীরই উচ্চ তাপমাত্রা, অর্থাৎ ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর উঠে যাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ ওষুধে তিন থেকে চার দিনে তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠছেন।’ বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার জানান, শীতের প্রকোপে কাহিল হয়ে শিশুরাই বেশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ কারণে শীতে তারা বেশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এসময়ে শিশুকে সুস্থ রাখতে হলে ঠান্ডা লাগতে দেয়া যাবে না। স্বাভাবিক গরম তাপমাত্রায় শিশুকে রাখতে হবে। সমস্যা হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ইএমও ডাক্তার মোঃ নাজমুল আলম  বলেন, বর্তমান আবহাওয়ায় মাঝে মাঝে তীব্র শীত, আবার গরম অনভূত হচ্ছে। এ কারণে শিশুরা বেশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে। শীত বেশি পড়লে শিশুকে গরম কাপড় বেশি পরাতে হবে। আবার গরম থাকলে পাতলা কাপড় পরাতে হবে, যাতে শিশুর ঠান্ডা বা গরম না লাগে। এছাড়া বেশি শীত থাকলে শিশুকে প্রতিদিন গোসল না করালেও চলবে এবং বেশি পানি পান করাতে হবে। তবেই শিশু জ্বর বা শ্বাসকষ্ট রোগ এড়িয়ে সুস্থ থাকতে পারবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *