Home » শেষের পাতা » অধিগ্রহণ হচ্ছে নদীর জমি

না’গঞ্জে দুর্দান্ত দাপুটে তারা!

১২ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 84 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহন করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। অপরদিকে মামলা-হামলা জর্জরিত বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। একারণে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে বা নিজেদের সকল অপকর্ম থেকে রক্ষা পেতে দেশের অন্যান্য জেলার মত নারায়ণগঞ্জেও পদ-পদবী দখল করে অন্য দল থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসহ সহযোগি সংগঠনে যোগ দিয়ে রয়েছেন দুর্দান্ত দাপটে। অবস্থা অনেকটা আওয়ামী লীগের কাঁধে বন্দুক রেখে গুলি করার মত এমনটাই মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ একটানা ৩বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশের অন্যান্য স্থানের মত দলের পদ পদবী দখল করে এক শ্রেণীর নেতা যেমন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, তেমনই বিভিন্ন অপকর্মকে জায়েজ করার জন্য অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনে যোগদানের হিড়িক পড়ে গেছে। এরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে দলকেই শুধু বদনাম করছে না, একই সাথে সরকারকে বিতর্কিত করছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার বলে চলেছেন, দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের তাগিদ দেয়া সত্বেও অনুপ্রবেশকারীদের রয়েছে দুর্দান্ত দাপট। বরং দলে অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখনও কোনঠাসা। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠন এবং জামায়াত ইসলামী থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পদপদবি বাগিয়ে নিয়েছেন অনেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের হটিয়ে কেউ কেউ জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া নারায়ণঞ্জ জেলার নেতাকর্মীদের ১শ ২ জনের এই তালিকায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৈরি এ তালিকা এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দেওয়া হয়েছে। এ দুই নেতা ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন। তালিকায় থাকা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়াইহাজারের হাইজাদী বিএনপির সভাপতি মোতালেব হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কালাপাহাড়িয়া বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ডালিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। মামলার আসামি হওয়ার পর এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন সাতগ্রাম বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পনির মেম্বার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি রিপন মেম্বার, খাগকান্দা যুবদলের সভাপতি আল আমিন, ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এ কে খান ও কালাপাহাড়িয়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুকু মেম্বার। দলে যোগ দেওয়ার পর অনেকে আওয়ামী লীগের নেতাও হয়েছেন। আড়াইহাজার যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খান খোকা হয়েছেন ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ব্রাহ্মন্দী যুবদলের সহ-সভাপতি ময়নুল মেম্বার হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। ব্রাহ্মন্দী যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল্লাহ হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ অহিদ হয়েছেন ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন যুবদলের আয়নুর হক হয়েছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। খাগকান্দা বিএনপির সভাপতি মফিজুল ইসলাম হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। খাগকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির মোজাম্মেল হক তোতা হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দুপ্তারা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। দুপ্তারা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ সুজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সাতগ্রাম যুবদলের সদস্য আবু বক্কর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন জেলা যুবদলের সহসভাপতি রুহুল আমিন মোল্লা। সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আশিক, সাংগঠনিক সম্পাদক রতন মোল্লা, নাসিক নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরর ইসরাফিল প্রধান, আড়াইহাজার বিএনপির সাবেক সভাপতি সামসুল হক মোল্লা, সহসভাপতি মাইনুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সদস্য সাফি মেম্বার, নাছির মাস্টার, জাকির হোসেন, সুফিয়ান সিকদার, থানা ছাত্রদলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বুলবুল, সহসভাপতি হারুন অর রশিদ, থানা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহ্মন্দী যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ হাবিবুর রহমান, সাতগ্রাম বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সজল, সাধারণ সম্পাদক তাজুল মেম্বার, যুগ্ম সম্পাদক মিলন, জাকির হোসেন, সদস্য মোহাম্মদ রাজু, উচিৎপুরা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ইাহিম, গোপালদী পৌর ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর আহম্মেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার কাসু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক মেম্বার, খাগকান্দা বিএনপির সভাপতি করিম প্রধান। রূপগঞ্জ বিএনপির সাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, মোহাম্মদ রফিক, আসাদ ভূঁইয়া, মোহাম্মদ রতন, কবির হোসেন, মোহাম্মদ মামুন, আবদুর রশিদ, মোহাম্মদ সুমন, শুক্কুর আলী ভূঁইয়া, মোহাম্মদ ওয়াদুদ, এ টি এম রেজাউল করিম, মোহাম্মদ নজরুল, এ টি এম জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নুরুজ্জামান খান, মোহাম্মদ রানু, আবদুর রাজাক সিকদার, মোহাম্মদ আরিফ, সফি উদ্দিন, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মিঠু মিয়া, মোহাম্মদ মোস্তফা, ফটিক মিয়া, মোহাম্মদ রুবেল, আফজাল হোসেন, মোহাম্মদ মানিক, আবুল ফজল, মোহাম্মদ ইসমাইল, জাকির হোসেন, মোহাম্মদ হামিদ, সিরাজুল্লাহ, মোহাম্মদ সিরাজুল, ফয়েজ মাস্টার, মোহাম্মদ শামীম, আবদুর রহমান, জামাল উদ্দিন, রফিক মিয়া, জাকির হোসেন, মজিবুর রহমান পারভেজ, মতিউর রহমান, আবুল বাশার, আমির হোসেন মোল্লা, প্রদীপ কুমার দাস ও বিজয় কুমার দাস। এ ছাড়া রূপগঞ্জ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ইসমাইল, আরমান শিকদার, মোহাম্মদ আজহার, আল আমিন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাইফুল্লাহ, মোহাম্মদ ইয়াকুব, মহিউদ্দিন রুমী, মোহাম্মদ শাহীন, মহিবুর কমিশনার, মোহাম্মদ বিল্লাল, আবদুল মালেক, মোহাম্মদ ভুট্টো, জাহাঙ্গীর মোল্লা এবং মোহাম্মদ শামীম আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নেতা বনেছেন। ফতুল্লায় হাইব্রীড নেতাদের তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে বিএনপির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা পোষ্ট অফিস রোড এলাকার রফিকুল ইসলাম টিপু, রামারবাগ এলাকার মোস্তফা কামাল ও আবদুর রাজ্জাক, পঞ্চবটি এলাকার পুলিশ সোর্স হামিদ ওরফে ডাকাকত হামিদ, লালখাঁ এলাকার তৈয়বুর রহমান ওরফে বরিশাইল্যা তৈয়ব, কোতালেরবাগ এলাকার আলাউদ্দিন হাজীর পুত্র আক্তার ও সুমন, দাপা শৈলকুড়া এলাকার জামাত নেতা জলিল মাদবর অন্যতম। বিগত নির্বাচনের আগের এসব নব্যরা ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকে ম্যানেজ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তবে জামাত নেতা জলিল মাদবর জামাতের সাথে সম্পৃক্ততার কথা আওয়ামীলীগের অনেক নেতা জানলেও এখনও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তবে ওই তালিকায় নাম নেই ফতুল্লায় অনুপ্রবেশকারী এখন আওয়ামী লীগে প্রভাবশালী হওয়া কয়েকজনের নাম বাদ পড়েছে। ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক পরিচয়ে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড করছে মীর হোসেন মীরু।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *