Home » প্রথম পাতা » ওসমান পরিবারের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই: আইভী

না’গঞ্জ আ’লীগের দুই মেরু বেসামাল!

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 31 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ‘আওয়ামী লীগের কেউ না’ বলে মন্তব্য করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি শাহ্ নিজাম। গত মঙ্গলবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের আট নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে শামীম ওসমান সমর্থক গোষ্ঠির সদস্য সচিব ও আওয়ামীগ নেতা মহসিন ভূইয়ার উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে তিনি ওই মন্তব্য করেন। তবে, তার ওই মন্তব্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন দলের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে তিনজনের একজন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আবার এই আইভীর প্রতি আশ্বস্ত হয়ে, ভরসা রেখে নৌকা তুলে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তারপরও তাকে যখন আওয়ামীলীগের কেউ না বলে, ‘সে আমাদের দলের কেউ না’ তা প্রধানমন্ত্রীকেই অসম্মান করার সামিল। এ জন্য তারা শাহ্ নিজামকে তার ভুল শুধরে নিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, শাহ্ নিজাম বলেছেন, ‘বারবার প্রমাণিত। মেয়র আইভী আমাদের দলের কেউ না। মেয়র হয়ে জামাত বিএনপিকে খুশি করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। যদিও বলা হয় ওনি জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমার ব্যক্তিগতভাবে বলার, কিছু করার অধিকার আছে।’ শাহ্ নিজামের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান জানানো বলেই মনে করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু। তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।” আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, “সারা দেশে কমিটি হয় প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি। আর এখানে এই কমিটিটার গুরুত্ব বুঝে নেত্রী তিনজনের কমিটি ঘোষণা করেছেন। দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তি এই তিনজনের নাম দিয়েছে। যেখানে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তি বলছে, উনি (আইভী) নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। পরবর্তী বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নমিনেশন বোর্ড, যে বোর্ডের প্রধান হচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি আইভীর প্রতি আস্থাশীল হয়ে নৌকা প্রতিক তুলে দিয়েছিলেন। সেখানে কেউ যদি বলে, ‘উনি (আইভী) আমাদের দলের কেউ না’ এটা খুবই হাস্যকর। এবং এসব কথাবার্তা দলের শৃঙ্খলা ভঙের কারণ। চেইন অব কমান্ড ভাঙা। এসব হচ্ছে গঠনতন্ত্র বিরোধী কথাবার্তা।” আনিসুর রহমান দিপু আরও বলেন, “নেত্রী যেখানে বলছেন, উনি (আইভী) জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। নেত্রীর প্রতিনিধি হিসেবেইতো উনি এখানে আছেন। সেখানে কেউ যদি বলে, ‘উনি দলের কেউ না’ তাহলে বুঝতে হবে যে, উনি (শাহ্ নিজাম) সংগঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিধি বিধান মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।” নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া বলেন, “রাজনীতি আর রাজনীতি নাই। যে নেতা এই ধরণের বক্তব্য দেয়। সে তো আওয়ামী লীগকে অস্বীকার করে। সে নিজেকেও অস্বীকার করে। নেত্রী শেখ হাসিনাকেও অস্বীকার করে। যে এমন বক্তব্য দিছে সে কোন দল করে, সে আওয়ামী লীগ করলে জানে না যে, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী? সে কী জানেনা সেলিনা হায়াৎ আইভী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট? তাহলে সে কোন আওয়ামী লীগ করে? সে নিজেই আওয়ামী লীগ করে কিনা, তাকে আগে জিজ্ঞেস করতে হবে। সে আগে এটা নিজেকেই জিজ্ঞেস করুক, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি কিনা?’ তারা আওয়ামী লীগের না ভাইয়ের লোক। এ হিসেবে তার বক্তব্য সঠিক।” নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, “মূলার থেকে ধাউড়া বড় হলে যেমন সমস্যা, তেমনি একটা ঘরের থেকে যদি বারান্দা বড় হয়ে যায়, তাহলে সে ঘরের কোনো সৌন্দর্য থাকে না। তাদের অবস্থাটাও একই রকম। তারা আজকাল নিজেদেরকে ‘মুই কী হনু রে’ ভাবতে শুরু করেছেন। যা বলা উচিৎ নয়, যা বললে দলের বিরুদ্ধে যাবে, তারা সেসবই এখন বলতে শুরু করেছে। এগুলো অনেকটা পাগলের প্রলাপ বলেই মনে করি। খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। কেননা, কথায় আছে, ‘পাগলে কিনা বলে…।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দল করি। আমাদের দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনকের কন্যা সে। তিনি কখনই ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। তার সিদ্ধান্ত, আদেশ, নির্দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই আমরা তার কর্মী হয়েছি। তিনি যখন যাকে নেতা, প্রার্থী হিসেবে দিবেন তিনিই আমাদের নেতা, প্রার্থী। এখানে দ্বিতীয় কোনো মত নেই। সুতরাং আইভীকে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি প্রধানমন্ত্রীই বানিয়েছেন। তিনিই আবার আইভীর প্রতি আস্থা রেখে নৌকা তুলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই আস্থাভাজনকে যদি আমরা বলি, ‘তিনি আমাদের দলের কেউ না’ তাহলে এর মধ্য দিয়েতো প্রধানমন্ত্রীকেই অসম্মান করা হলো। আমি মনে করি, শাহ্ নিজাম ওই মন্তব্য করে ভুল করেছেন। তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া দরকার, অন্তত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখানোর জন্য হলেও তার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।”

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *