আজ: মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২০ ইং | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | দুপুর ১:৩৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

না’গঞ্জ বিএনপির ব্যর্থতা কাটাতে নতুন কমিটি!

ডান্ডিবার্তা | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ১১:১৩

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দীর্ঘ প্রায় দের যুগ ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাহিরে, কোন ভাবেই রাজপথের আন্দালন সংগ্রামে ও কর্মসূচীতে মাঠে নামতে পারছে না বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে, নিজ দলীয় নেতাদের সাথে কোন্দল ও পেশীশক্তি ছাড়া আর কিছুই দেখাতে পারেনি বিএনপি যার কারণে দল ও নেতাকর্মীদের গুছাতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আস্থাহীন নেতারা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণার ৩ বছর পূর্ণ হয়েছে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি। তিন বছর আগে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করা হয়েছিল জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি। পরবর্তীতে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলার কাজী মনির সভাপতি ও মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কালামকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এ কমিটি দীর্ঘ ৩ বছর সময়ে কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির আন্দোলন কিংবা অন্য কোন আন্দোলনে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীদের তেমনভাবে মাঠে পাওয়া যায়নি। আর তাই জেলা ও মহানগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের উপর থেকে দিন দিন আস্থা হারাচ্ছে দলের নেতাকর্মীরা। আর তাই নারায়ণগঞ্জের সর্বত্রে আলোচনা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির তৈমূর আলম খন্দকার সভাপতি ও মান্নান সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি এটিএম কামাল ও মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরাশেদ সাধারণ সম্পাদক হতে পারে এমন সংবাদ এখন শহরময় ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। বিএনপি দীর্ঘদির ধরে ক্ষমতা নেই তাই বলে শীর্ষনেতারা হতাশ বলেই রাজপথে নেই দাবি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান দলের কর্মসূচীগুলো পালন করেন না। সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ কারাগার থেকে বের হয়ে ঘরোয়াভাবে দলীয় কর্মসূচীগুলো পালনের চেষ্টা করছেন। একই অবস্থা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ক্ষেত্রেও। এ নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। একই দলের নেতাকর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে পেশীশক্তি, হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটেছে, যা নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির নির্বাচনেও এমন পরিস্থিতি চোখে পড়ে। যা নিয়ে সমঝোতার তৈরী করেনি দলের শীর্ষ নেতা। এ বিষয়েও নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ কর্মী সমর্থকদের কাছে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রবীন রাজনৈতিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষনেতারা রাজপথে না নামা, নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখাসহ নানা কারণে এখন আর তাদের উপর আস্থা রাখতে পারছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হামলা মামলার শিকার তাই বলে তো দুর্বল নয়। যেখানে দলের শীর্ষনেতারা সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিবাবক হয়ে থাকবে অথচ তারাই রাজপথে থাকেনা এটা হতে পারেনা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির দ্বন্দ্ব বিভক্তির ফলে পৃথক পৃথক ব্যানারে দলীয় কর্মসূচি পালনের নানা দৃশ্য দেখা যায়। সেই দ্ব›দ্ধ কোন্দল এক পর্যায়ে বিরাটাকার ধারণ করে। দ্ব›দ্ধ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ ঘটে দলটির মহাসচিবসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার মধ্য দিয়ে। এরই মধ্যে মহানগর বিএনপির কমিটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত কমিটির উপর স্থিতি অবস্থা জারি করেছে। দলের নেতাদের এমন কর্মকান্ডে নেতাকর্মীরা সকলেই হতাশ। হতাশ দলের তৃণমূলের সাথে সাধারণ মানুষ ও দলের কর্মী সমর্থকরাও। দলের জেলা ও মহানগর সভাপতিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকর্মী প্রায় কর্মসূচীতে নিরব ভুমিকা পালন করলে থেমে ছিলেন না মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বর্তমান সময়ে দিকে তাকালে মনে হয় না নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও জোট নেতারা আছে। দলের শীর্ষ নেতারা এই ভাবে নিরব ভুমিকা পালন করলে সংগঠন চলতে পারে না। তাই বলবো দলের যদি পুনরায় কমিটি আসে তাহলে ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে সংগঠন তৈরী হোক যাতে তৃনমূলের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পায় তা হলে রাজপথ আবার সরগরম হবে বলে মনেকরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *