আজ: মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২০ ইং | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

না’গঞ্জ শ্রমিকলীগের পদ পেতে লড়াই শুরু

ডান্ডিবার্তা | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৩:১৮

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের বড় দুটি পদ খালি হওয়ায় দুটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। একদিকে শ্রমিকলীগ অভিভাবকহীনতায় ভুগছে যা ইতোমধ্যে সবাই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। অন্যদিকে বড় দুটি পদ খালি হওয়ায় সেই পদ প্রাপ্তির পরোক্ষ লড়াই শুরু হয়ে গেছে। দলটির একাধিক সূত্র বলছে, চেয়ার দখলের লড়াই ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রভাবশালী ও ত্যাগী নেতাদের অনেকে চেয়ার দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শেষতক এ লড়াইয়ে কারা জয়ী হবে তা দেখার বিষয়। জানাগেছে, জাতীয় শ্রমিকলীগ সাবেক সভাপতি ও জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ গত ২৮ জানুয়ারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়েছেন কাজিমউদ্দিন। এতে করে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের দুটি সংগঠন আপাতত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। যদিও পরবর্তীতে মহানগর শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় ব্যাংকার কামাল হোসেনের কাঁধে। সূত্র বলছে, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য কাজিমউদ্দিন মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। গত ১ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন তিনি। পরে ২ তারিখ কেন্দ্র পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে একটি চিঠি দেয়। এদিকে দীর্ঘদিন শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করা শুক্কুর মাহমুদ গত ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদ থেকে ছিটকে পড়েন। এতে করে কেন্দ্রীয় দায়িত্ব থেকে বিরতি পেলেও জেলার সভাপতি পদের দায়িত্ব ঠিকই বহাল ছিলেন। তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি পদ থেকে কাজিমউদ্দিন পদত্যাগের ফলে পুরো জেলার দায়িত্ব চলে আসে শুক্কুর মাহমুদের কাঁদে। এর মধ্যে হঠাৎ করে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার ফলে এই পদে নতুন করে পদায়ীত করা হবে। জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি পদের চেয়ার বসার স্বপ্নে অনেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেনা। প্রভাবশালী মহল ও বিভিন্ন দফতরে দফতরে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন এই চেয়ারে বসার জন্য। সেই তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগের সেক্রেটারী কামরুল হাসান মুন্না, জেলা শ্রমিকলীগের সেক্রেটারী মাইনুদ্দিন আহমেদ বাবুল, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল হোসেন, মহানগর শ্রমিকলীগের সহ সভাপতি ও প্রয়াত নেতা শুক্কুর মাহমুদের মেয়ের জামাতা আলমগীর কবির বকুল সহ আরো অনেকে রয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, শ্রমিকলীগের নতুন কোন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। বিশেষ করে পদ কুক্ষিগতকরণের ফলে এই সংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ কেন্দ্রের পাশাপাশি জেলার সভাপতির পদ কুক্ষিগতকরণের ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এসব কারণে উল্টো দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিভক্তি তৈরি হয়েছে। তার উপরে দলটির পদধারী অনেক নেতারা রাজনীতিকে অনেকটা পিছিয়ে আছে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ সন্ত্রাসীপনার অভিযোগ রয়েছে। এতে করে এই দুই নেতার মাইনাসে পদ নিয়ে লড়াই দেখা যাচ্ছে। শুধুমাত্র জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগের কমিটি নয় বাকি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনেও রদবদল সুযোগ রয়েছে। যেকারণে শ্রমিকলীগে পদ ইসু্যুতে এক ধরণের পরোক্ষ লড়াই শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, শ্রমিকলীগের শ্রমিকবান্ধব নেতৃত্ব এখনো তৈরি হয়নি। তাছাড়া নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য শ্রমিকদের হাতে কোন সুযোগ নেই। কেন্দ্র কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীরা যাকে সমর্থন করে সেই নেতা বনে যাচ্ছে। এর মধ্যে পদ বাণ্যিজ্যের চিত্র কোন অংশে কম নয়। বিগত দিনে এরুপ নানা করণে শ্রমিকলীগের কোন নেতৃত্ব তৈরি হতে পারেনি। এবারও শ্রমিকলীগের দুটি বড় পদ খালি হলেও সেখানে নেতা শূন্যতা দেখা দিয়েছে। কাকে এই পদে পদায়িত করা হবে এ নিয়েও নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আগামীকে যাকে এই পদে পদায়িত করা হতে তারাও কি সেই দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হতে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *