আজ: মঙ্গলবার | ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | সকাল ৬:০৩

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা সহায়তার পরও হাসপতালে পড়ে থাকে লাশ

ডান্ডিবার্তা | ০৭ জুলাই, ২০২০ | ৬:৫৭

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যার করোনা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার চিত্র আবারো ফুটে উঠেছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্য হওয়া সমর কুমার সাহা নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ অনেকটা অর্ধঢাকা অবস্থায় বেওয়ারিশ লাশের মতই কয়েক ঘন্টা পরেছিল জরুরী বিভাগের বাইরে। এমনকি মৃতের স্বজনরা লাশ ঢাকতে একটি চাদর চেয়েও পাননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। শেষ পর্যন্ত “ ওরা ১১জন” নামের স্বেচ্চাসেবী করোনাযোদ্ধা সংগঠনের সদস্যরা এসে লাশটি সৎকারের জন্য নিয়ে যান। তবে লাশ নেয়ার জন্য একটি লাশবাহী ব্যাগ চেয়েও পাননি এই সংগঠনের সদস্যরা। সমর কুমার সাহা(৫৫) নামের ঐ ব্যবসায়ী গত ১জুলাই থেকে হাসপাতালের ২২নং ওয়ার্ডের ২০নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এহেন আচরনে শহরময় চলছে আলোচনা সমালোচনা। নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালটির ডাক্তার নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা সরকারি সুযোগ সুবিধা ছাড়াও সাংসদ সেলিম ওসমানের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে ডাক্তারদের থাকা ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা ছাড়াও সাংসদ সেলিম ওসমান উদ্যোগেী হয়ে নিজে ব্যক্তিগত তহবীল থেকে ৩৩ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা হাসপতালের উন্নয়নে ব্যয় করা ছাড়াও তিনি নিজে রোগীদেরও উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ১০টি আইসিইউ চালুর জন্য সেলিম ওসমান ২০ লাখ টাকা অনুদান দেন যাতে নারায়ণগঞ্জবাসী উন্নত চিকিৎসা পান। এতকিছুর পরও হাসপাতালের কর্মীদের এই অমানবিক আচরনে নারায়ণগঞ্জের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, শহরের আমলাপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া সমর কুমার পেশায় একজন হোসিয়ারী ব্যবসায়ী। সন্তানহীন সমর কুমারের দেখভাল করতেন তার ভাগ্নে অরবিন্দ সাহা। গত ১জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নগরীর খানপুর ৩শ’শয্যা বিশিষ্ট (করোনা হাসপাতাল) হাসপাতালে ভর্তি হন সমর কুমার সাহা। গত ২জুলাই তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে কোভিড-১৯ পজেটিভ ধরা পরে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় তার মৃত্যু হয়। মৃত সমর কুমার সাহার ভাগ্নে অরবিন্দ সাহা জানান, মামার মৃত্যুর খবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মোবাইল ফোনে জানালে আমি সাথে সাথেই সেখানে যাই। উনি হাসপাতালের ২য় তলার ২২নং ওয়ার্ডের ২০নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখি ওয়ার্ডের বাইরে স্ট্রেচারের উপর আমার লাশ রেখে দেয়া হয়েছে। এসময় মৃত্যুর কারণ ও শেষ অবস্থা জানতে চাইলে ওয়ার্ডের ডাক্তার বা নার্স কেউই কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি একটি সাদা চাদর চেয়েও পাইনি। আমার একার পক্ষে লাশ নামানো সম্ভব নয় জানিয়ে সাহায্যের জন্য বললে এমন একজন লোককে সাহায্যের জন্য দেয়া হয় যিনি নিজেও পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। অনেক কষ্টে লাশটি নিচে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসার পর আমি লাশটি ঢাকবার জন্য একটি সাদা চাদর চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে একটি চাদরও দেয়া হয়নি। লাশ নেয়ার জন্য একটি লাশের ব্যাগ চাইলে জানিয়ে দেয়া হয় তাদের কাছে ব্যাগও নেই। শেষ পর্যন্ত আমি রিপন ভাওয়াল এর উদ্যোগে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওরা ১১ জনের একজন সদস্যের বাড়ী গিয়ে বিষয়টি জানালে ভোর পৌনে ৫টার দিকে তাদের টিম হাসপাতালে আসে। হাসপাতালে এসে দেখি আমার মামার লাশটি অর্ধঢাকা অবস্থায় জরুরী বিভাগের বাইরে বেওয়ারিশ লাশের মত পরে আছে। অরবিন্দ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জীবিত মামা (মৃত সমর সাহা) ভর্তি হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে কর্তব্যরতদের বার বার চেয়েও একটি বেডের চাদর ও বালিশ কভার পর্যন্ত পাইনি। সেখানে মৃত মানুষের জন্য তারা চাদর কিভাবে দেয় ? এদিকে ‘ওরা ১১ জন’ এর সমন্বয়ক রিপন ভাওয়াল জানান, আমরা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এসে দেখি করোনা রোগীর লাশ বেওয়ারিশের মত পরে আছে। জরুরী বিভাগে থাকা একজনকে লাশের ব্যাগ চাইলে তিনি বললেন হাসপাতাল থেকে ব্যাগ দেয়া হয় না। আমরা অনেক অনুরোধ করে ফায়ার সার্ভসের কাছ থেকে ব্যাগ নিয়ে এসেছি একটা। এমনকি লাশটি জীবানুমক্ত করার ব্যবস্থা বা কোন জায়গা দেয়া যাবে কিনা জানতে চাইলেও তারা নিরুত্তর ছিলেন। রিপন ভাওয়াল ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এই হাসপাতালের জন্য, হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান অর্ধ কোটি টাকার উপরে ব্যক্তিগতভাবে ব্যয় করছেন শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা থেকে যাতে মানুষ বঞ্চিত না হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৫টা বাজে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ১জন ছাড়া কাউকেই খুজে পেলাম না। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় জানান, আমরা তো শুধু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা যারা দাহ করবে তাদেরকে জানাবো। বাকিটা তো তারা করবে। ব্যাগও তারাই নিয়ে আসবে। শুধু জানানোটা আমাদের দায়িত্ব। আর লাশ ফেলে রাখার ব্যাপারটি সঠিক নয় কারণ মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের কাছে লাশ বুঝিয়ে দিয়ে মৃত্যুর প্রমান পত্র দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *