আজ: মঙ্গলবার | ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | সকাল ৭:২০

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

নারায়ণগঞ্জ হটস্পটের বদনাম গুছল

ডান্ডিবার্তা | ১২ জুলাই, ২০২০ | ৩:৪৫

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। করোনার হটস্পট থেকে নারায়ণগঞ্জ সরে আসছে বলে দাবি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। তবে আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ বলেও মত স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় কয়েকটি প্রস্তাবনা দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) রেক্টর মো. রকিব হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, সদস্যসচিব জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, জেলা করোনা ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় নারায়ণগঞ্জের কোভিড পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও কমিয়ে আনার লক্ষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে ৫টি প্রস্তাবনা দেন জেলা করোনা ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাস্তা কিংবা সংকীর্ন স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না। হাট বসাতে হলে খোলা মাঠ কিংবা তদ্রুপ স্থান নির্বাচন করতে হবে। অনলাইনে পশুর হাটের ব্যবস্থা করা গেলে উত্তম। হাটে স্বাস্থ্যবিধি বিশেষ করে মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে মাস্ক পড়তে হবে। নারায়ণগঞ্জ শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, নারায়ণগঞ্জ এখন আর হটস্পষ্ট নেই। কিন্ত অন্য জেলাগুলো এখন হটস্পটে পরিণত হচ্ছে। ফলে এবারের ঈদের ছুটিতে গার্মেন্টস ও অন্যান্য কলকারখানার কর্মীদের বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন করোনা ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেহেতু হটস্পট থেকে দূরে সরে আসছি আমরা। অন্য জেলায় সংক্রমন বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং ঈদের ছুটিতে গার্মেন্টসহ বিভিন্ন লোকজন গ্রামে যাবে আবার ফিরবে। তাই অন্য জেলায় না যাওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করার প্রস্তাব দিয়েছি। কেবল গ্রামে ফেরাই নয় করোনা উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিদের ব্যবসায়ীক কিংবা অন্য কোন কারণে নারায়ণগঞ্জ ভ্রমণ না করার অনুরোধও জানান তিনি। সেই সাথে বিনা প্রয়োজনে অন্য জেলা যারা এখন সংক্রমিত বেশী সেখানে ভ্রমন না করতে নারায়ণগঞ্জবাসীকে অনুরোধ করেন। ঈদ জামাতের বিষয়ে পূর্বের নির্দেশনা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে মসজিদেই ঈদের জামাত আদায় করার প্রস্তাব দেন। কোভিড ডেডিকেটেড নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের এক চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি উল্লেখ করে এই মহামারীতে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্সসহ ফ্রন্টলাইনারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। একই সাথে চিকিৎসক লাঞ্চনার ঘটনায় নিন্দাও জানান। ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখন তো সব খোলা। এর মধ্যেও এই অবস্থা বজায় রাখাটা কষ্টকর। বিপদ আসতে পারে। ছুটি বাড়ি যাওয়া ঈদের হাট সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে। ঈদের আগে আরও কয়েকটি সভা হবে। সে সভাগুলোতে এসব নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ স্বাস্থ্য সেবা নিয়োজিত সকল সদস্য, পুলিশ, র্যাব, সেনাসহ অন্যান্য দপ্তরের সহযোগিতা ও পরিশ্রমের ফসল হিসেবে জেলায় কোভিড পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এখনও জিরো লেভেলে আসি নাই। এটা বজায় রাখতে হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথায় গেলে কী করতে হবে, মাস্ক ব্যবহারসহ বিভিন্ন নির্দেশনা মিডিয়া প্রচার করেছে। এই সফলতার জন্য মিডিয়াকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। শুরুর দুই মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীর নমুনা নিয়েছি। বাইরে আসতে দেইনি। শুরুর দুই মাস যখন গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল তখন ইউনিয়ন লেভেলের কমিটিগুলোকে সাথে নিয়ে নমুনা নিতাম। যার চিকিৎসা দরকার তাদের খোঁজ নিতাম। প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতাম। যখনই রোগী শনাক্ত হবে তখনই সব ব্যবস্থা নিতাম। নারায়ণগঞ্জে সবাই মিলে ওই পরিস্থিতি করতে সফল হয়েছিলাম। এখন এই অবস্থা ধরে রাখতে হবে। তবে এই পরিস্থিতি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫৩৯ জন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫শ’ ২৬ জন। গত চব্বিশ ঘন্টায় ৩৭ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি ১২১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *