News

নাসিকের বিরুদ্ধে পহেলা জুলাই আন্দোলনে নামছেন তৈমূর

ডান্ডিবার্তা | 24 June, 2019 | 6:09 pm

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে বধির সংঘ ও বৃত্তিমূলক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত জায়গা ফেরত পেতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচিতে নামছেন জাতীয় বধির সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এবং তার নেতৃত্বে বধিররা। তারই ধারাবাহিতায় আগামী ১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে স্মারকলিপি দেয়া হবে। আর এতেও দাবী আদায় না হলে নগর ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয়া হবে। যেভাবেই হোক জমি আদায় করেই ছাড়বো। গতকাল রোববার জাতীয় বধির সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে এসব কথা জানিয়েছেন। অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি সারাদেশে বধিরদের জন্য নানা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আমার জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ জেলায় বধিরদের জন্য কিছু করতে পারছি না। সারাবিশ্বেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। বর্তমান সরকারও প্রতিবন্ধীদেরকে নানা সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন, সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কেন বধিরদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা দিবে না। সরকার জায়গা বরাদ্দ দিলে সিটি কর্পোরেশনের তো বাধা দেয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি আরও বলেন, বধিররা সমাজের অবহেলিত মানুষ। যে ঘরে বধির আছে একমাত্র তারাই বিষয়টি উপলদ্ধি করতে পারে। তাদের প্রতি আমাদের অবশ্যই কর্তব্য রয়েছে। প্রতিবন্ধীরা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হলে তারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র আইভীকে অনুরোধ করবো বধিরদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা যেন ফেরত দেয়া হয়। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে এবং বধিরদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা আদায় করেই ছাড়বো। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বধির সংঘ ও বৃত্তিমূলক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০০৫ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে এক একক জমির আবেদন করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা। ওই সময় পৌরসভা ২০০৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সরকার অনুমোদন দিলেও সিটি কর্পোরেশন সেই জমি বুঝিয়ে দেয়নি। উল্টো সরকারের অনুমোদিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে একটি মাসিক সভায় বরাদ্ধ বাতিল ঘোষণা করে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু বধির সংস্থা দাবি করেছে সরকার অনুমোদন দিয়েছে কিন্তু বাতিলের এখতিয়ার সিটি কর্পোরেশনের নেই। বিভিন্ন আবেদন পত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভায় এক একর জমির মূল্য নির্ধারণ বাবদ প্রতি শতক এক হাজার টাকা হিসেবে মোট ৬০ হাজার টাকা মূল্য ধার্য করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের ৩১জুলাই বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের হরিপরপাড়া মৌজা সিএস ৩নং খতিয়ান ভুক্ত সিএস ৪১১ নং দাগের এক একর জমি প্রতি শতক এক হাজার টাকা মূল্যে নির্ধারনের বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জে বধির সংঘ ও বৃত্তিমূলক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনুমোদন করে স্থানীয় সরকার বিভাগের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়। কিন্তু এর আগে ২০১৩ সালের ৫ জুন মাসেও জমি বুঝে পেতে সিটি কর্পোরেশনের বরাবর আবেদন করেছিল জাতীয় বধির সংস্থা। কিন্তু এরপর ২০১৫সালের ১১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাসিক সভায় নারায়ণগঞ্জে বধির সংঘের নামে বরাদ্ধকৃত ভুমির বরাদ্ধ বাতিল ঘোষণা করে। কিন্তু জাতীয় বধির সংস্থা দাবি করেছে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ভূমির বরাদ্দ বাতিলের এখতিয়ার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নেই। ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আবারো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বরাবর আবেদন করে জাতীয় বধির সংস্থা। ওই আবেদনেও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় থেকে পাওয়া বরাদ্দকৃত নারায়ণগঞ্জ সিটিকর্পোরেশনের হরিপরপাড়া মৌজার ৩নং খতিয়ানের সিএস ৪১১নং দাগের সমুদয় সম্পত্তির দলিলাদি বুঝে পেতে অর্থ পরিশোধ করতে চায়। বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, নরসিংদীতে বধির সংঘ ও কারিগরি প্রশিক্ষনের জন্য জায়গা পেলাম। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে সরকার অনুমোদন দেয়ার পরেও আমরা জমি বুঝে পেলাম না। নরসিংদীতে স্কুলের জন্য ২০ লাখ টাকা দিয়েছি। যদি নারায়ণগঞ্জে জমি বুঝে পাই তাহলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিব। বধিরদের জন্য নারায়ণগঞ্জে একটি অত্যাধুনিক ভিত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাই।

[social_share_button themes='theme1']

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *