Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

নাসিকের ৬টি ওয়ার্ডে নজরদারি জরুরী

১৩ জানুয়ারি, ২০২২ | ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 154 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযানও শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। তবে, ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় কয়েকটি ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অজানা শঙ্কা কাজ করছে। অনেকেই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। যদিও প্রশাসন থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, ভোট সুষ্ঠু হবে। কাউকে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে তারা দিবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। যে কোনো মূল্যে প্রশাসন সুষ্ঠু ভোট করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের এত কড়াকড়ি ও সতর্কতার মধ্যে সিটির কয়েকটি ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছু কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিরা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্র বলছে, সিটির ৩, ৫, ৬, ১৭, ১৮, ২২, ২৪নং ওয়ার্ডে সুষ্ঠু ভোটে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেন। সূত্র বলছে, সিটি তিন নং ওয়ার্ডে এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন সাত খুনের মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের ভাতিজা শাহ জালাল বাদল। তিনি এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। নির্বাচনে তিনি ও তার সমর্থকেরা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সূত্রে জানা গেছে। শাহ জালাল বাদল সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সব থেবে বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সিটির ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড। এর মধ্যে ৫নং ওয়ার্ডে গেল কিছুদিন আগের থেকেই বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়াতে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামী পশ্চিম কলাবাগ এলাকার মিজানুর রহমান, শরিফ হোসেন ও বসির উদ্দিন বসুর নেতৃত্বে প্রতিদিনই বহিরাগতরা এই ওয়ার্ডে যাতায়াত করছেন এবং একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে সাধারণ ভোটারদের প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় কিশোর গ্যাংকে শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে। তার নামে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অস্ত্রসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। সে সবকটি মামলায় এজাহারভুক্ত। মিজানুর রহমান মিজান নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের লোক পরিচয় দিলেও আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে তার কোনো পদ নেই বলেই জানা গেছে। তবে, তিনি স্থানীয় একজন মামার ছত্রচ্ছায়াতে রয়েছেন বলে শোনা যায়। এদিকে ৬নং ওয়ার্ডে বহিরাগতদের আনাগোনা তেমন বৃদ্ধি না পেলেও এই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মতিউর রহমান মতি ও সিরাজুল ইসলাম ম-ল সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কোনো মূল্যে তারা নির্বাচিত হওয়ার মানসিকতা পোষণ করায় ভোটের দিন সংঘাত সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। কারো কারো মতে, এই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তারা দুজনই সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি।

অন্যদিকে ১৮নং ওয়ার্ডেও ভোট নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী কবির হোসাইন ও কামরুল ইসলাম মুন্না সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটেছিল। এছাড়াও কামরুল ইসলাম মুন্নার নির্বাচনী মাঠে থাকা মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বিটুকে র‌্যাব আটকও করেছে। অপরদিকে ২২নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা সুলতান ও ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত এখানে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটকে কেন্দ্র করে বলপ্রয়োগের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভোটাররা। এছাড়াও অত্যাধিক শঙ্কা রয়েছে ২৪নং ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে জপা নেতা কাউন্সিলর প্রার্থী আফজাল হোসেন ও  খোকন ভেন্ডার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এইতোমধ্যে খোকন ভে-ন্ডারের ওপর দুইবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন খোকন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *