Home » শেষের পাতা » অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

নাসিকে আইভীর বিকল্প নেই!

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 88 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়ত আইভীকে শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মী ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের অন্যতম প্রবক্তা হিসাবে দাবি করেছেন তার অনুসারিরা। জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, মেয়র আইভীর নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের হতদরিদ্র চিত্র পাল্টে এখন নারায়ণগঞ্জকে সর্বত্র আধুনিক শহর মনে করেন দেশবাসী। আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, মেয়র আইভীর উন্নয়ন ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড মানুষের কাছে তুলে ধরে জনগনের কাছের মানুষে পরিনত হয়েছে। মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাংগঠনিক ও কর্মদক্ষতায় বিশ্বে বাংলাদেশ যেমন পরিচিতি পেয়েছে নারায়ণগঞ্জও মেয়র আইভীর অক্লান্ত পরিশ্রমে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মেয়র আইভী আধুনিক নারায়ণগঞ্জের রূপকার। তারপরেও তাকে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রকান্ডা ছড়াচ্ছে একটি পক্ষ। মেয়র আইভীর একাধিক অনুসারি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে আইভীর বিকল্প নেই। যারাই নাচানাচি করছে শেষ পর্যন্ত তাদের সকল নাচানাচি বন্ধ হয়ে যাবে। যখন শেখ হাসিনা আইভীবে মনোনয়ন দিবেন।  এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সরকারের আমলে দেশে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রো রেল নির্মাণের মতো অনেক মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হচ্ছে। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবকাঠামোগত আরও অনেক উন্নয়ন হয়েছে এই সরকারের আমলে। এসব উন্নয়নের পাশাপাশি গৃহহীনদের ঘর প্রদান, করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত কর্মকা-ের কথা ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। একই সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচার করতে তাগিদ দিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়নে গত ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিরঙ্কুশ বিজয় পান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৮ বছর নগরমাতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের অংশীদার হতে চান তিনি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে সারাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন মেয়র আইভী। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকেছেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসব অনুষ্ঠানে দলের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন তিনি। একই সাথে দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেসব উন্নয়ন কাজ হয়েছে তা সকলের মাঝে তুলে ধরেছেন। অন্যদেরও এইসব কর্মকান্ড প্রচার করতে তাগিদ দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধনকুন্ডা এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসিক মেয়র আইভী। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়েও মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে আয়োজিত কেক কাটা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। দুই অনুষ্ঠানেই দেওয়া বক্তব্যের অধিকাংশ সময় সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন মেয়র আইভী। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা দিয়েছেন আর তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা না থাকলে পদ্মা সেতু হতো না। তিনি ঢাকা শহরে মেট্রোরেল করেছেন। কর্ণফুলির নিচ দিয়ে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল হচ্ছে। এই ডিজিটাল যুগের বাংলাদেশের প্রধান হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ই-কমার্সের, ই-টেন্ডারের, ই-পোস্টিংয়ের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম হচ্ছে। বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হচ্ছে। এই সবকিছু কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করেছেন। নারী উদ্যোক্তা গঠন করা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখের উপরে। প্রচুর ছেলে মেয়ে কাজ করছে এই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবাদে। এই কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার।’ আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছিল ৯০০ টাকা, ২০২১ সালে তা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এইসব অবদান প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা। নামমাত্র মূল্যে সার, বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় অনেক কাজ হয়েছে বলেই বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। করোনা মোকাবেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতি সেক্টরে কর্মদক্ষতার প্রমাণ দিয়ে কাজ করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতা-কর্মীদের এই তথ্যগুলি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে, এই অঞ্চলের মানুষের কাছে দোয়া চাই। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। আমরা শেখ হাসিনার সহযোদ্ধা হতে চাই এই উন্নয়নে।’ সিটি কর্পোরেশনে উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে আইভী আরও বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনে সব কাজ হয়েছে সরকারের টাকায় আর জনগণের ট্যাক্সের পয়সায়।কাজ করার জন্য আমাকে প্রধানমন্ত্রী প্রচুর টাকা দিয়েছেন। এইসব কাজ আমি সমভাবে আমার ২৭টি ওয়ার্ডে করে যাচ্ছি। এখানে কোন কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ করে, কে বিএনপি করে, কে ভাইয়ের লোক, কে বোনের লোক, সেটা দেখার সময় ছিল না। কারণ আমি দেখেছি আমার প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের জনগণকে। যে জনগণ আমাকে ট্যাক্স দেয় সেই জনগণের সুবিধার জন্য রাস্তা, ঘাট, ড্রেন, হাসপাতাল যা দরকার যে ওয়ার্ডে সেই কাজগুলি করার চেষ্টা করেছি। কতটুকু করতে পেরেছি সেটার বিচারের দায়িত্ব আপনাদের।’ ‘দলমতের উর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন কাজ করেছেন’ মন্তব্য করে নাসিকের বার বার নির্বাচিত মেয়র ডা. আইভী বলেন, ‘এই শহরে আমি ৭টা মসজিদ করেছি। পাঁচটা মসজিদের কাজ চলমান। আরও দুইটা মসজিদের কাজ টেন্ডারে গিয়েছে। আমি শুধু আমার মুসলমান ধর্মের জন্যই করি নাই। আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিভিন্ন শ্মশানে কাজ করেছি। মসজিদ, মন্দির, শ্মশান, গীর্জা, প্যাগোডা সব জায়গায় সমানভাবে কাজ হয়েছে। কেউ বলতে পারবে না যে আইভী কোন নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য কম করেছে বা বেশি করেছে। আমি সমানভাবে সব জায়গায় গুরুত্ব দিয়ে ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ প্রবাদ অনুযায়ী মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাজ করেছি। কিন্তু আমি কর্মী শেখ হাসিনার, দল করি আওয়ামী লীগ। এর বাহিরে কোনোদিনও যাবো না। আমৃত্যু আমি এই দল করে যাবো। কিন্তু কাজ করবো আমি সকলের জন্য। কাজ করার সময় আমি দল-মতে থাকবো না। কে আওয়ামী লীগ করে কে বিএনপি করে আমি সেটা দেখবো না। কারণ ট্যাক্স আপনারা সবাই দেন, রাস্তা দিয়ে হেটে যান আপনারা সবাই। সকলের জন্য কাজ করবো।’ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোদ্ধা হতে চান বলেও মন্তব্য করেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাপ্পী চত্ত্বর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন করার কারণে জাতিসংঘ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই বাংলার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। পদ্মা সেতু হতো না যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী না থাকতেন’ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এইসব উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার করা জরুরি। নারায়ণগঞ্জে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ক্লিন ইমেজ রয়েছে। তিনিও নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করেছেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারে তার বক্তব্য গুরুত্ব বহন করে। মেয়র আইভীর মতো দলীয় নেতা-কর্মীদের সকলেরই উচিত, ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে দলের ইতিবাচক বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *