Home » প্রথম পাতা » না’গঞ্জে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু

নাসিকে এক দশকেও বাড়েনি সেবা

০২ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 78 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৮ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। বাস্তবতা, এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। অথচ, এই বিশাল জন গোষ্ঠির জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছে মাত্র অর্ধশত কর্মীর হাতে। ফলে স্থানীয়রা বলছেন, ‘শুধু নিবন্ধনের আবেদন করতেই ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’ সিটি করপোরেশনের আরেকটি সেবা খাত ‘স্বাস্থ্য বিভাগ’। এখানেও মাত্র ৪৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মী দিয়ে নগরীর ওই বিশাল জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। একই অবস্থা অন্যান্য বিভাগেরও। অথচ, চলতি বছরের ৫ মে প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পেরিয়ে ১১ বছরে পদার্পণ করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠার এই এক দশক পরেও করপোরেশনে জনবল বাড়াতে পারেনি দায়িত্বের শীর্ষে থাকা মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাই স্থানীয়দের অভিযোগ, লোকবল কম থাকায় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে। কিন্তু ট্যাক্স দিতে হচ্ছে দেশের অন্য সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ হারেই। ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, কদম রসূল পৌরসভা ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভাকে একীভূত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। পরে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) প্রতিষ্ঠা বিধিমালা ২০১০ এর বিধি ৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২৭ ওয়ার্ড নিয়ে এ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের আয়তন ৭২ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, এ আয়তনে বসবাস করছে ৮ লাখ জনতা। এখন পর্যন্ত দু’বার নির্বাচন হয়েছে এ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে। মেয়র পদে দু’বারই জয় পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এর আগে পৌরসভার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন, সব মিলিয়ে নগরের দায়িত্বে টানা দেড় যুগ। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ‘পৌরসভা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও এখানে জনবল বাড়েনি। উল্টো আগের জনবল থেকে অবসরে যাওয়া লোকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ১৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এ ছাড়া দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কিছু কর্মী রয়েছেন’। নগরের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বর্গের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো নগরের জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। সড়ক ব্যবস্থাপনা ঠিক হয়নি, বিকল্প সড়ক তৈরী করা যায়নি, যানজট নিত্য দুর্ভোগ। বাজার ব্যবস্থপনা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা বঞ্চিত। নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সেবা নেই, নেই প্রতিবন্ধিদেরও জন্য কোন সুযোগ। ঝুকিঁপূর্ণ ভবন বা বিপনী বিতানের মনিটরিং নেই। খাবার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান বা হোটেলে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে কোন কার্যক্রম নেই। বেকরত্ব বা দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। মোট কথা, দীর্ঘ  এ সময়ে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। মহাপরিকল্পনা মতো কাজও করা হয়নি। কাংখিত নাগরিক সেবা কিংবা ধনী জেলার নগর উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখার দরকার ছিলো, সিটি করপোরেশন ব্যর্থ হয়েছে। অথচ, আওয়ামী লীগ সরকার  বিশ্ব মানবতার মা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। সারা দেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হচ্ছে, এ জেলাসহ সর্বত্র পর্যাপ্ত বরাদ্দও রয়েছে। শুধু মাত্র যোগ্য ভালো-দক্ষ নগরীর অভিভাবকের অভাবে, এবং অনৈক্য ও সমন্বয়হীনতায় অপরিকল্পিত বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ নগর। লোকবল সংকটের ব্যাপারটি স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিন জানান, ‘আমার সচিব নেই, লজিস্ট্রেক নেই। আমার একাই কার্যালয় ও মিটিং গুলো করতে হয়। তাই অনেক সময় ফোন ধরারও সময় পাই না। তবে, আশার কথা হচ্ছে ৬৮৩ জন পদের অনুমতি পেয়েছি। যা, এখনও শুরু করা হয়নি’। এক সময়ের দেওভোগভিত্তিক চুনকা রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অর্থ উপ কমিটির সদস্য, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত নেতা কামাল মৃধা জানান, ‘১৮ বছরে প্রমাণিত হয়েছে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নাই। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, অসহনীয় যানজট, অসহ্য মশার যন্ত্রনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বেঁচে আছি। রাজনীতি বাদ দিয়ে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান করি’। সিটি করপোরেশন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকরা বলেন, ‘এই নগরী যে সিটি করপোরেশন হওয়ার যোগ্য, সে ব্যাপারটি নিয়ে সরকারের কাছে তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরে আবেদন করে ছিলাম আমি। তারই প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হয়। তখন এই সিটি করপোরেশন নিয়ে অনেক আশা, ভরসা ছিল। এখন সেই আশা ভরসা আর নেই। সিটি করপোরেশন হলেও এই মেয়রের অধিনে তেমন কোন উন্নয়নই হয়নি।’ আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, ‘সিটি করপোরেশন হওয়ার পরে শুধু টেক্স বৃদ্ধি পেয়েছে, সেবার মান বৃদ্ধি পায়নি। মেয়র এখনো পানি সমস্যার সমাধান, জলবদ্ধতা নিরসন, রাস্তায় চলাচলে স্বচ্ছলতা, নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি ইউনিভার্সিটি করতে পারেনি। বিভিন্ন কালচারাল পয়েন্ট ধরে কাজ করতে পারেনি। শ্রমজীবীদের জন্য হাসপাতালও করতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জে নাগরিক সুবিধা অন্য জেলা থেকে পিছিয়ে, নামেই একটা সিটি কর্পোরেশনে আছি, কাজে আমরা একটা পৌর সভার থেকেও পিছিয়ে। মেয়র রাজনীতির এপিট ওপিট নিয়ে ব্যস্ত থাকে’। ২০১১ সালে নাগরিক সমাজের ব্যানারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে অনুষ্ঠিত প্রথম সিটি নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ২য় সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পুনরায় নির্বাহিত হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরও আগে ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। সূত্র:লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *