Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

নাসিক নির্বাচনে যারা ফ্যাক্টর

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 195 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন কাল রোববার। বিধি মোতাবেক গতকাল শুক্রবার রাত ১২টায় প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হয়েছে। নানা প্রতিশ্রতি আর আশার বানী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গেছেন প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭জন। তবে আলোচনায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী (নৌকা প্রতীক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার (হাতি প্রতীক)। গত দুই সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরআগে ২০০৩ সালে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন হন তিনি। এবারও তিনি আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। যাকে ২০১১ সালে ভোট গ্রহণের কয়েক ঘন্টা আগে বিএনপি বসিয়ে দেয়। ফলে শামীম ওসমানকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচন হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২০১৬ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে পরাজিত করে আওয়ামীলীগের ব্যানারে দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। টানা ১০ বছর নগরমাতার দায়িত্ব পালন করে নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ এবং সাংস্কৃতিক পরিম-লের আস্থা অর্জন করেছেন অনায়াসে। কিন্তু মেয়র হিসেবে আইভী কতটা সফল? প্রচারণা শেষে এমন প্রশ্ন ঘুরছে নগরবাসীর মুখে মুখে। আইভীর সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তাছাড় এবারের নির্বাচনে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রচারণা শেষ করেছেন আইভী। বিগত দুটি নির্বাচনে তার প্রচারণার অগ্রভাগে যাদের দেখা গেছে এবার তাদের কেউ ছিলেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ার আশংকায় শামীম ওসমানও তার জন্য সরাসরি মাঠে নামতে পারেননি। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম বিএনপি ঘরোনার প্রার্থী হলেও সে নিজেকে জনতার প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে অনেকটা সক্ষম হয়েছেন। কারণ তার দল তাকে দুটি বড় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। ফলে তিনি দাবী করেছেন সব দলের ভোট তিনি পাবেন। এছাড়া এস এম আকরামও তৈমূরের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। তিনি সরাসরি তৈমূর আলম খন্দকারের প্রচারনায় নেমেছেন। সদর-বন্দর আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক এস এম আকরামকে তৈমূরে প্রচারণায় দেখে উজ্জীবিত তৈমূর শিবির। অপরদিকে আকরামের বিষয়টিকে প্রচারণার শেষ সময়ে ভোটের মাঠে ‘চমক’ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী। কারণ ২০১১ সালে এসএম আকরাম সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ছিলেন। ওই সময়ে পুরো আওয়ামীলীগের বিপক্ষে অবস্থান নেন তিনি। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আইভীর পক্ষে মাঠে নামেন সর্বশক্তি নিয়ে। এবং আইভীকে বিজয়ী করে একদিনে মাথায় ৩১ ডিসেম্বর নাটকীয়ভাবে আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করেন এস এম আকরাম। এরপর দীর্ঘদিন রাজনীতির আড়ালে থাকলেও বিগত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নাগরিক ঐক্য থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে সদর-বন্দর আসনে নির্বাচনে অংশ নেন এস এম আকরাম। সেই নির্বাচনে প্রায় ৫২ হাজার ভোট পান তিনি। বতর্মানে তিনি নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়াও তৈমূরের পক্ষে নেমেছেন বন্দরের বিভিন্ন ইউনিয়নের জাতীয় পাটি সমর্থিত চেয়ারম্যানরা। ফলে তৈমুরের ভোটের পাল্লা ভারী হচ্ছে। অন্যদিকে নগরবাসীর কাছে ব্যক্তি আইভী ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও তার প্রতীক প্রশ্নবিদ্ধ। তাই বলাবলি আছে আইভীকে পছন্দ করলেও তাদের অনেকের ভোট নৌকায় পড়বে না। তাছাড়া নির্বাচনটিকে কেউ কেউ আইভী ও তৈমূরের লড়াই হিসেবে দেখছে না। তারা দেখছেন নৌকা ভার্সাস এন্টি নৌকা। তার মানে আওয়ামীলীগ বনাম এন্টি আওয়ামী। এদিকে তৈমূর বিএনপির লোক হলেও তার মার্কা যেহেতু ধানের শীষ না, সেহেতু এন্টি আওয়ামীলীগের সকল ভোট তার হাতি মার্কার ঝুলিতে যাওয়াটাই স্বভাবিক। এমনটা চাউর হচ্ছে নগরীতে। তবে আইভী গতকাল শুক্রবারও জোর দিয়ে বলেছেন তার বিজয় নিশ্চিত। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি শঙ্কার কথাও বলেছেন। গতকাল শুক্রবার তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, নৌকাকে পরাজিত করতে দলের ভেতর ও বাইরের সব পক্ষ মিলে গেছে। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রচারণায় এসে ঘোষণা দিয়েছেন আইভী লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করবে। তবে নগরবাসীর মতে, গত ১০ বছরে নগরবাসীর চাওয়া এবং প্রাপ্তীর মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। যা এবারের নির্বাচনী মাঠে আলোচিত হচ্ছে। প্রচারণার শেষ সময়ে ভোটাররা হিসেবের খাতা খুলে বসেছেন। এছাড়াও রয়েছে ব্যক্তি আইভী না নৌকার আইভী কোনটা বেশি জনপ্রিয়। এ নিয়েও আলোচনা আছে। নাগরিকরা বলছেন, দায়িৎ¦ পালনের দুই মেয়াদে প্রতিশ্রুতির বড় বড় কাজগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। এরমধ্যে ২০১১ সালে তার নির্বাচনী ইশতেহারের উল্লেখ্যযোগ্য নারায়ণগঞ্জে একটি অত্যাধুনিক মেডিকেল কলেজ, পূর্ণাঙ্গ একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শীতলক্ষ্যা নদীকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, পুরো সিটি করপোরেশন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরে আধুনিক পার্ক নির্মাণ যা ২০২১ সালেও আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৬ সালে আইভীর নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল বজ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে কার্বনমুক্ত, পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, নতুন বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সিটি সার্ভিস চালু, শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষনমুক্ত রাখার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ এগুলোর কিছুরই বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া দীর্ঘ ১০ বছরে চালু হয়নি সিটি সার্ভিস ও আধুনিক গণপরিবহন, শহরের নিত্যদিনের যানজট নিরসনে কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মাদক নির্মুল বা নিয়ন্ত্রনে ছিল না কোন প্রদক্ষেপ। নগরীর সকল সড়কে স্থাপন হয়নি এলইডি লাইট। যদিও ২০১৬ সালের নির্বাচনে নিজের ইশতেহারে নগরের উন্নয়নে ২১টি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন আইভী। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ১৬টি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল ৫টি। নির্বাচণী প্রচারণার সময় আইভী দাবী করেছেন, ওই ইশতেহারের ৯০ ভাগ কাজ সম্মন্ন করেছেন তিনি। মাত্র ১০ ভাগ কাজ বাকি। তবে আইভীর প্রধান প্রতিপ্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূল আলম খন্দকারের অনুসারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল, সিটি সার্ভিস, ঐতিহাসিক স্থানসমুহ সংরক্ষন এবং শীতলক্ষ্যা দুূষণ মুক্ত করতে তেমন কোনো ভুমিকাই রাখেননি আইভী। ৯০ ভাগ ইশতেহার বাস্তবায়নের দাবিও ঠিক নয়। নগরবাসীর মতে, রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন আইভী। কিন্তু দৃশ্যমান দুটি মেঘা প্রজেক্টের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। এর একটি নগরীর ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডে শেখ রাসেল নগর পার্ক ও সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ডিএনডি খালকে লেকে রূপান্তরিত করে দুইপাড় বাধাই করে বিনোদন কেন্দ্রের উপযোগী করা।  যদিও এই দুটি প্রকল্প নিয়ে রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের আপত্তি রয়েছে। এদিকে নগরীতে চলমান কিছু প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা অবশ্য নগরবাসীর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তন নির্মাণ করতে গিয়ে এর সামনে থাকা ফুটপাত দখল করা হয়েছে মিলনায়তনের জন্য। এখন আর চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তনের সামনে সরকারি কোনো ফুটপাত চোখে পড়ে না। সুরম্য এই পাঠাগারে গাড়ি পার্কিংয়েরও কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ কারণে এখানে আগতদের সঙ্গে নিজস্ব গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকলে বিপাকে পড়তে হয়। নগরের ম-লপাড়া ব্রিজ এবং বাবুরাইল খাল খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এতে করে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে নগরবাসী। বিশেষ করে নগরের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নির্মাণাধীন ব্রিজটির কারণে প্রতিনিয়ত যানজটে পড়ে নাকাল হচ্ছেন। ম-লপাড়া ব্রিজের পাশের চা দোকানি আবদুর রহমান বলেন, ‘তিন বছর ধরে ব্রিজ নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু শেষ হচ্ছে না। এতে করে ওই এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। সেই সঙ্গে ধুলাবালিত ব্যবসা করা দায়। ব্রিজের কাজ শেষ হলে এই এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমতো। ‘নগরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হওয়ায় এই নগরীতে তেমন কোনো কাজ নেই বললেই চলে। তবে অতিরিক্ত করের বোঝা এই নগরীর বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সেই সঙ্গে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ার নজিরও রয়েছে।.সবচেয়ে যে বিষয়টি নগরবাসীর মুখে মুখে তা হলো-মহামারি করোনার সময় সিটি করপোরেশনের কোন ভুমিকাই ছিল না নগরবাসীর পক্ষে। এক ছোটাক চাল নিয়েও সিটি করপোরেশন অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায়নি। সিটি করপোরেশনের তহবিল থেকে সাহায্য তো পায়নি বরং এক নাগরিক উল্টো অপমানিত হয়েছে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ফোন করে। প্রধানমন্ত্রী তহবিল থেকে পাঠানো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে বাহাবা নেয়ার চেষ্টা করেও সমালোচিত সিটি করপোরেশন। হাত-পা গুটিয়ে ঘরবন্দি ছিলেন মেয়র নিজেও। ওদিকে ট্যাক্স বাড়ানোর ঘটনায় আইভীরকে ঘায়েল করে প্রচারণা চালিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, মোট ২২ শতাংশ ট্যাক্সের মধ্যে জমি ও ইমারতের ওপর ৭ শতাংশ, সড়ক বাতির ওপর ৫ শতাংশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭ শতাংশ এবং পানি সরবরাহের জন্য ৫ শতাংশ। করোনার মহামারিতে তিনি ট্যাক্স কমাননি। বরং বাড়িয়েছেন। নগরবাসী এর বড় প্রমান। তবে ডা. আইভী বরাবরই দাবি করেছেন তিনি ট্যাক্স বাড়াননি। এটা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *