Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ!

২৫ নভেম্বর, ২০২১ | ২:৪৭ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 23 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন সরকারিদল আর বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ লক্ষ্য করা যায়না। এ দুই দলে রয়েছে নিজেদের মধ্যে বিরোধ। আওয়ামীলীগের সাথে আওয়ামীলীগের বিরোধ আর বিএনপির সাথে বিএনপির বিরোধ দৃশ্যমান হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের সাথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি দলটির সাথে এখন আর বিরোধ নেই। আর বিএনপি দলটিও নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়ালেও আওয়ামীলীগের সাথে কোন বিরোধ যাচ্ছেনা। এতে করে রাজনীতিতে বেশ আমূল পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সদ্য অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলটি অংশগ্রহণ না করায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা দেয়। এছাড়াও আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুটি বলয় দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। তবে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা দলীয় পদ পদবী নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। সদ্য অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। কারণ ওই নির্বাচনে জয় পরাজয় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কারো কারো মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সদর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নৌকা জয় পেয়েছে। বাকি দুটি ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার প্রার্থীর সাথে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভোটের লড়াই হয়। সেই নির্বাচনে একটিতে নৌকা বিজয়ী হলেও আরেকটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয় পায়। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল আলম সেন্টু, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল এবং এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় পেয়ে যায়। আর বাকি দুটি ইউনিয়নের মধ্যে আলীরটেক ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন জয় পেলেও গোগনগর ইউনিয়নে নৌকা ডুবিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ফজর আলী জয় পেয়ে যায়। এতে করে বিদ্রোহী প্রার্থী ও নৌকার প্রার্থীর আওয়ামীলীগে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দাল দেখা যায়। এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয় পেয়ছেন। মদনপুর ইউনিয়নে এম এ সালাম নৌকা প্রতিক নিয়ে জয় পেয়েছেন। বাকি ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে জাতীয় পার্টি ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছে। এর মধ্যে কলাগাছিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী কাজিম উদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গলের প্রার্থী দেলোয়ার প্রধানকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন এমপি সেলিম ওসমান। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধও দেখা গেছে। তবে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পরাজয়ের পরে দেলোয়ারের লোকজন কাজিম উদ্দিনের লোকজনের ওপরে হামলার অভিযোগ করেছে। ধামগড় ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মাসুমকে জয়ী করতে বিদ্রোহী প্রার্থী আজিজকে বসিয়ে দেয়া হয়। তবে শেষতক চমক দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল নির্বাচনে জয় পেয়ে যায়। আর মুছাপুর ও বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লাঙ্গলের বিপরীতে নৌকার দুর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যার ফলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সহজ জয় পেয়ে গেছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সাথে সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলের সাথে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দল তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি হাই বাদলের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে আনার অভিযোগ করেছেন সোনারগাঁ আসনের সাবেক সাংসদ ও সোনারগা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুলাহ আল কায়সার হাসনাত। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিভাজন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধীতা করে ওসমান বলয়ের আওয়ামীলীগ নেতারা আন্দোলনে নেমেছে। জিউস পুকুর সহ নানা ইস্যুতে আন্দোলন করে আইভী বিরোধীতা করে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আইভী বিরোধীতা করতে গিয়ে খোদ নৌকার বিরোধীতা করে যাচ্ছে এই আওয়ামীলীগ নেতারা। এমনকি নৌকা প্রতিকে ভোট দিতেও নিষেধ করছেন আওয়ামীলীগ নেতারা। আর মেয়র আইভীর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে সিটি করপোরেশনের চেয়ার থেকে টেনে হিচড়ে নামানোর মত বিষ্ফোরক মন্তব্যও করেছেন। অন্যদিকে এর পাল্টা জবাবে মেয়র আইভী এসব ঘটনার জন্য এমপি শামীম ওসমানকে দায়ী করে তাকে ছিচকে গুন্ডা বলে তীর্যক মন্তব্য করেছেন। আর বিএনপি দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। তবে দলীয় পদ পদবী নিয়ে নিজেদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা দিয়েছে। সম্পতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই কমিটিকে মেনে নিতে পারছে না বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কমিটিতে থাকা ও পদবঞ্চিতরা উভয় পক্ষই মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। এমনকি গত ২০ নভেম্বর কমিটির আহবায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তকে ধাওয়া দেয়ার কথা দাবি করেছেন পদ বঞ্চিত নেতারা। এর আগে গত ১৬ নভেম্বর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন মন্তকে আহবায়ক এবং মহানগর বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর মহিলা দলের কমিটি গঠন নিয়ে কমিটির নেত্রীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন পদবঞ্চিতরা। তারা নানা অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। পদবঞ্চিতদের এমন অভিযোগের পর কমিটিতে আসা নেত্রীরাও পাল্টা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কমিটি গঠনের বিষয়ে নানা অসংগতি তুলে ধরার চেয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটানো শুরু করেছেন খোদ মহিলা দলের নেত্রীরা। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মহিলা দলের নেত্রীদের চরিত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে আকার ইঙ্গিত পোস্ট করছেন তারা। সম্প্রতি রহিমা শরীফ মায়াকে সভাপতি ও রুমা আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা মহিলা দল এবং দিলারা মাসুদ ময়নাকে সভাপতি ও কাউন্সির আয়েশা আক্তার দিনাকে সাধারণ সম্পাদক করে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনে পূর্বের আহ্বায়ক কমিটির জেলার আহ্বায়ক নুরুন্নাহার বেগম ও মহানগরীর আহ্বায়ক রাশিদা জামালকে বাদ দেয়া হয়। এর আগে জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট কমিটি দেয়াকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রনির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দিয়েছিল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া বিএনপি সহ অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলোর মধ্যে দলের পদ পদবী নিয়ে দ্বন্দ্ব বিভক্তির চিত্র নতুন নয়। বোদ্ধামহল মনে করছেন, তিন বছরের ব্যবধানে রাজনীতিক প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। আগে রাজনীতিক দ্বন্দ্ব মানে আওয়ামীলীগ বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। কিন্তু এখন সময়ের ব্যবধানে দৃশ্যপট পাল্টে আওয়ামীলীগে আওয়ামীলীগে দ্বন্দ্ব কোন্দল ও সংঘর্ষের চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঠিক একইভাবে বিএনপি বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দাল দেখা যাচ্ছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *