Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

নির্বাচনী হওয়া কোন দিকে

০৭ জানুয়ারি, ২০২২ | ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 111 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের হাওয়া বার বার পরিবর্তন হচ্ছে। মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ও হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলমের ভোট যুদ্ধের লড়াই জমে উঠেছে। প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন দুই প্রার্থী। তবে দুই প্রার্থীকে নিয়ে চলছে নানা নাটকীয়তা। কার পক্ষে জনগণ রায় দিবে তা এখনো স্পষ্ট করে বুঝা যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবারও প্রতিদিনের মত প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার ও সেলিনা হায়াত আইভী। তৈমূরের বিএনপির পদ থাকা না থাকা নিয়ে আওয়ামীলীগের একাংশ নেতারা বিভিন্ন মন্তব্য করলেও তৈমূরের দাবী দল থেকে অব্যাহতি দেয়ায় সুবিধা হয়েছে। এখন তিনি আওয়ামীলীগের ভোটও পাবেন। অপরদিকে, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নামলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাংশ নেতা তার প্রতি অনীহা দেখাচ্ছেন। যার ফলে ভোটের হাওয়া কোন দিকে বইছে তা এখনো অস্পষ্ট। তবে নাসিক এবার ব্যক্তির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বিভিন্ন স্থানে বলে আসছেন আইভীকে দেখে নৌকায় ভোট দিবেন। বিপরীতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার দাবী করছেন তিনি জনতার প্রার্থী। ফলে আসছে ১৬ জানুয়ারী নির্বাচনে এ দুইজনের মধ্যে জনগণ কাকে বেছে নিবেন সেটা নিয়েই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। নগরবাসী বলছেন, বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জনতার প্রার্থীই সুবিধে পেয়েছেন ও জয়ী হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে দলের প্রার্থী আইভীর সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এবার তিনি জিততে পারলে রেকর্ড গড়বেন তিনি। আর হেরে গেলে ফিরে আসবে ইতিহাস। ফলে এবার রচিত হবে দুটি ইতিহাস। সিটি করপোরেশনের ইতিহাস মোতাবেক ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নৌকা তুলে দেওয়া হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। ওই নির্বাচন ছিল দলীয় প্রতীকের প্রথম নির্বাচন। ধানের শীষ নিয়ে লড়েন সাখাওয়াত হোসেন খান। জিতে যান আইভী। তাকে খুব একটা বেশী বেগ পেতে হয়নি। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবরের নির্বাচন ছিল আলোচিত। প্রার্থী শুরুতে ছিলেন ৩ জন। ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, শামীম ওসমান ও তৈমূর আলম খন্দকার। নির্বাচন শুরু থেকেই উত্তেজনাকর। ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে বসে যান তৈমূর। ওই নির্বাচনে স্লোগানের একটি ছিল সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ। নগরবাসী বেছে নেন আইভীকে। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ কিন্তু ভোট পড়েনি প্রভাবশালী শামীম ওসমানের ব্যালটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইভী তিনবারই অনেকটা দলের ¯্রােতের বিপরীতে কিংবা লড়াই করেই জিততে হয়েছিল। তিনবারই তিনি ব্যক্তি আইভীকে সামনে এনেছিলেন। কিন্তু এবার তাঁকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এবার আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বি তৈমূর আলম খন্দকার। বিএনপি ছাড়াও আওয়ামীলীগের একাংশ তৈমূরের পক্ষে রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে দল থেকে তৈমূরকে অব্যাহতি দেয়ায় আইভীর সুবিধার চেয়ে অসুবিধা হয়ে বেশি। কেননা এখন তিনি কোন দলের নেতা নন। যদিও এবিষয়টি তৈমূর আলম খন্দকারও স্বীকার করে বলেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেয়ায় আওয়ামীলীগের ভোটও তিনি পাবেন। তাই এবারের নাসিক নির্বাচন নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী হাওয়া কোন দিকে যায় তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *