Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

নির্বাচনে আ’লীগ মাঠে বিএনপি!

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 68 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ আরও দেড় বছরের বেশি থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারক ফোরাম ইতিমধ্যে দল-গোছানোর কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে নির্বাচন নয় বরং প্রতিপক্ষ বিএনপির চোখ এখন আন্দোলনে। নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দাবি আদায়ের দিকেই মনোযোগ দলটির। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সংস্কার নিয়েও কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রাজপথকে বিএনপির দখলে রাখার ঘোষনাও এসেছে একাধিক সভা সেমিনার থেকে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য দেড় বছর খুব একটা বেশি সময় নয়। যদিও একটির পর আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি দলের সব সময়ই থাকে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের ভেতর ঝগড়া-বিবাদ, কলহ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলস্য এসেছে। এগুলো দূর করে চাঙাভাব ফিরিয়ে আনতে কাজ করে আসছেন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দূরদর্শীতায় দলের কর্মী সমর্থকদের মাঝে নির্বাচনী ইমেজ আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও বিএনপি এখনই প্রস্তুতিতে মনোযোগ না দিয়ে নির্বাচনের কাঠামো ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির একক কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনাও প্রায় চূড়ান্ত। এক্ষেত্রে চলতি মাস বা নভেম্বরে নতুন দাবি তুলে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করবে কেন্দ্রীয় বিএনপি এমনটাই জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতৃবৃন্দ। সার্বিক দিক দিয়ে জেলা বিএনপির আন্দোলনে তেমন প্রস্তুতি না থাকলেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনে তারা সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছেন বলে বিএনপির নেতৃবৃন্দের দাবি। অপরদিকে, স্থানীয় বিএনপিতে দলীয় কোন্দলের যে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসছে অচিরেই তা সমাধান করা হবে বলেও জেলা বিএনপির নীতি নির্ধারক ফোরাম এমনটাই দাবি করেছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃ হাই বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে দলকে সুসংগঠিত করা। দলের মধ্যে ছোট-বড় বিবাদ মিটমাট এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্যম সৃষ্টি করাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেন্জ। তিনি আরো বলেন, জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরা- এসবের জন্য এখনই সক্রিয় হতে হবে। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের হাতে দেড় বছরের মতো সময় আছে। এরমধ্যে দলকে সংগঠিত করতে হবে। সর্বস্তরে নেতাকর্মীদের নির্বাচনমুখী করতে হবে। তিনি আরো বলেন, দলে কিছু বর্ণচোরা ঢুকেছিল। তাদের চিহ্নিত করা-শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ও দল থেকে বের করে দেওয়া এসব কাজ বাকি। নির্বাচনের আগে মূলত এগুলোই শেষ করার মধ্য দিয়েই নির্বাচনী প্রচারনায় আমরা মাঠে থাকব। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা এড.তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আমরা রাজপথে থেকে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে জনমত তৈরিই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেও নানামুখী বাধার কারনে সফলতার মুখ দেখেনি। বিএনপির মধ্যে আন্দোলন করা নিয়ে দলীয় ঐক্যমত নেই। দলীয় কোন্দলের কারনে সর্বদাই রাজনৈতিক ভাবে ফ্লপ বিএনপির রাজনীতি। দলীয় কোন্দলন নিরসন করা না হলে দ্বাদশ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ার আশংকা করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *