Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ | ৩:০২ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 132 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

তৃতীয় বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (এনসিসি) নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি।  কাল রোববার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। এবারের ভোটে দেশের পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মেয়র পদে অংশ নিচ্ছে। স্বতন্ত্র রয়েছে দু’জন। ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্নের পথে ভোট গ্রহণের সব শেষ প্রস্তুতি। নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর। ভোট গ্রহণের তারিখ ১৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। এই নির্বাচনে মেয়র পদে ৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত আওয়ামী লীগ (নৌকা) ও  স্বতন্ত্র (হাতি) প্রার্থীর মধ্যে। এছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ১৭টি পদে বিপরিতে লড়বেন ১৪৮ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ৯টি পদের বিপরিতে লড়বেন ৩৪জন প্রার্থী। নারায়ণগঞ্জের মানুষের মতোই সারাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হলো কারা পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন পরিচালনার দায়িত্বে আসছে। এবারও কি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জিতবে, নাকি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতা এড. তৈমূর আলম জিতবেন? এমন নানামুখী আলোচনার উত্তর পাওয়া যাবে কাল রোববার রাতের মধ্যেই। বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের পর শুরু হবে ভোট গণনা। এবারই প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে সকল কেন্দ্রে ভোট গ্রহন হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। গতকাল শুক্রবার নগরীর ২নং রেল গেইটে আওয়ামী লীগের সভায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও নির্বাচনের সমন্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক। আর মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, জনগণ আবারও নির্বাচিত করবে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, ভোটে কারচুপি না হলে তারাই জিতবেন। তিনি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ও কেন্দ্র কমিটি করে দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে এসে গত বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেন নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘উৎসবমুখর ভোট হবে, এটাই আশা।’ তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। আর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচরেন পরিবেশ বজায় রেখে ভোটারদের সকল নিরাপত্তা দেয়ার কথা দৃঢ় চিত্তে উচ্চারিত হয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের থেকে।  ভোটকেন্দ্র: ১৮৭টি, ভোটকক্ষ: ১ হাজার ৩০১টি, অস্থায়ী ভোট কক্ষ: ২৫টি, মোট ভোটার: ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১, পুরুষ ভোটার: ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯, নারী ভোটার: ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৮, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার: ৪, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা: ৫টি, ১টি মেয়র পদে প্রার্থী: ৭জন, ২৭টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে: ১৪৮ জন, ৯ সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে: ৩৪ জন প্রার্থী। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত থাকবে। একেকটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৪-৫টি টিম থাকবে। আর একটি টিমে ৪-৫টি পুলিশ সদস্য ও ২০-২২ জন আনসার থাকবে। তাহলে আপনারা বুঝতে পারছেন একটি কেন্দ্রে ২৫-৩০ জন পুলিশ ও একশত’র উপরে আনসার সদস্য থাকবে। এটা তো ছিলো শুধু ভোট কেন্দ্রের ভিতরে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে আমার তিনটি করে ফোর্স টিম থাকবে। একটি বিজিবির টিম থাকবে, একটি র‌্যবের টিম থাকবে ও একটি পুলিশের টিম থাকবে। ভোটের একসময় দেখবেন কেন্দ্রে ভোটরের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশি দেখা যাবে। এছাড়াও নির্বাচনে নিয়োজিত থাকবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন উপলক্ষে মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে ভোটের দিন দিবাগত মধ্যরাত (রাত ১২টা) পর্যন্ত বেবি ট্যাক্সি/অটোরিকশা/ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ স্থানীয় যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে নৌযান চলাচলের ওপর। এ ছাড়া ভোট সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে ১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত (রাত ১২টা) পর্যন্ত মোট চার দিন সারা দেশে মোটরসাইকেল চালানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। এ ছাড়া নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক ও কতিপয় জরুরি কাজ যেমন: অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদির কাজে নিয়োজিত যানবাহনে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত কক্ষে প্রিসাইটিং অফিসার আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড, আঙুলের ছাপ, ভোটার নম্বর যাচাই করে ভোটার হিসেবে নিশ্চিত করবেন। এ সময় আপনার ছবি ও তথ্যাবলি একটি মনিটরে প্রদর্শিত হবে। যাতে সব প্রার্থীর এজেন্ট আপনার পরিচয় দেখতে পারেন।

ভোট প্রদান ভোটার হিসেবে শনাক্তকরণের পর গোপন কক্ষে থাকা ইভিএম মেশিনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হবে। যতগুলো পদের জন্য ভোট প্রদান করতে হবে কক্ষের ভেতরে ঠিক ততগুলো ডিজিটাল ব্যালট ইউনিট রাখা থাকবে। এই ইউনিটে প্রার্থীদের প্রতীক বামপাশে এবং নাম ডানপাশে দেখা যাবে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে তার প্রতীকের বামপাশের কালো বাটনে চাপ দিতে হবে। এ সময় প্রতীকের পাশে বাতি জ্বলে উঠবে। ভোট নিশ্চিত করতে ডানপাশের সবুজ বাটনে চাপ দিতে হবে। একই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য পদের জন্যও ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনো কারণে আপনি ভুল প্রতীক শনাক্ত করেন, তবে সবুজ বাটন চাপ দেয়ার আগে তা সংশোধন করতে পারবেন। ভুল সংশোধনের আগে ডানপাশের লাল বাটনে চাপ দিন। এতে ভুল করে দেয়া পূর্বের ভোটটি বাতিল হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। সঠিকভাবে পুনরায় প্রতীকের পাশের বাটনে চাপ দিয়ে সবুজ বাটনে চাপ দিয়ে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সবুজ বাটন চাপ দেয়ার পর আপনার ভোট দেয়া প্রতীক ছাড়া বাকি সব প্রতীক অদৃশ্য হয়ে যাবে। এতে আপনি নিশ্চিত হবেন যে, ওই প্রতীকে আপনার ভোট প্রদান প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *