Home » প্রথম পাতা » ওসমান পরিবারের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই: আইভী

নির্বাচন নিয়ে টেনশনে আইভী

১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 103 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

যেকোন মুল্যে ফেব্রুয়ারীর আগে নির্বাচন চান বিদায়ী মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এজন্য গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকায় দৌড়ঝাপ করছেন তিনি। ৭ ফেব্রুয়ারী শেষ হচ্ছে আইভীদের মেয়াদ। এসময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে সিটি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে তাকে। বসবেন প্রশাসক। আর প্রশাসক বসলে খুলতে শুরু করবে বিগত ১৮ বছরের দূর্ণীতির হালখাতা।  জানা গেছে, এনসিসি নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর। আর শপথ নেওয়ার পর নির্বাচিত করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত করপোরেশনের মেয়াদকাল হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। আর ভোট করতে হয় মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে। এই হিসেবে এনসিসির পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। ভোট করতে হবে তার আগের ১৮০ দিন অর্থাৎ চলতি বছরের ১১ আগস্ট থেকে আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। ইতোমধ্যে এ সিটি নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয়ে গেছে। কোন কারণে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে মেয়াদান্তে বসবে সরকারের নিয়োগকৃত প্রশাসক। আগামী ৪৯ দিনের মধ্যে নির্বাচন না হলে ছাড়তে হবে মেয়র পদ। আর পদ ছাড়লেই খুলতে শুরু করবে দূর্ণীতির হালখাতা। তাই মেয়াদের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিদায়ী মেয়র আইভী ঢাকায় দৌড়ঝাপ করলেও এখনো কোন সুরাহা পাননি। এমনটাই জানাচ্ছেন জেলা ও মহানগরের একাধীক নেতা। সম্প্রতি বর্তমান নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারী শেষ হচ্ছে ইসির মেয়াদকাল। বিদায়ের এই প্রস্তুতিকালে শেষ পর্যন্ত এনসিসির নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বর্তমান ইসি আদৌ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। জানাগেছে, ইতিপূর্বে ডিসেম্বরে বলা হলেও পরবর্তিতে বলা হয় জানুয়ারীতে নির্বাচন হবে। এখন বলা হচ্ছে মার্চে। আসলে কবে নির্বাচন হবে তা নিয়ে ধোয়াশা কাটছেনা কিছুতেই। তফসিল ঘোষনা না হওয়া পর্যন্ত ধোয়াশা রয়েই যাচ্ছে। ইসি সচিবালয়ের দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে ভোটের আয়োজন করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হতো। কমিশনের ইচ্ছা ডিসেম্বরের মধ্যেই যতটা সম্ভব নির্বাচন শেষ করা। কেননা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। তারা বলছেন, যেহেতু আইন অনুযায়ী আগাম নির্বাচন করার বিধান রয়েছে, সেহেতু আগের নির্বাচিতদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন আরেকটি ‘সেট’ নির্বাচিত হয়ে যায়। ফলে বিদায়ী মেয়র বা অন্য সদস্যদের কাজে নানা ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, যদিও শপথ নেওয়ার আগে কাউকে মেয়র বলা যায় না বা কার্যত কোনো ক্ষমতা থাকে না। এদিক থেকে ইসি সচিবালয় চায় ভোটটা একেবারে শেষের দিকে করতে। সময় কম থাকায় ক্ষমতা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ কম থাকে। তাই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটের পক্ষে তারা। কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী ভোটের ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠান করতে হয়। তাই ডিসেম্বরের শেষে ভোট করে জানুয়ারির শেষের দিকে শপথ করলে খুব বেশি অসুবিধা হবে না। কেননা ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিতরা প্রথম সভা করতে পারবেন। তবে অসমর্থীত তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধিনে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কেননা বিগত ৫ বছরের কর্মকান্ডের সমাপ্তি করতে গিয়ে তারা নির্বাচন করার সময় পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া মেয়র আইভী ইতিপূর্বে ফতুল্লা ও কাশিপুর ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করতে মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়ে রেখেছেন। এনিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়ালে নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ। কেননা ১১ নভেম্বর কাশিপুর ইউপিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশণ। সবদিক বিবেচনায় সিটি নির্বাচন পিছিয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। তবে নির্বাচন কথা বাতাসে ভেসে বেড়ানোয় দৌড়ঝাপ বেড়ে গেছে বিদায়ী সিটি মেয়র আইভীর। তিনি এখন নারায়ণগঞ্জে সময় না দিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাপ করছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, ‘কিসের ভয়ে তিনি এক মিনিটের জন্য চেয়ার ছাড়তে চাচ্ছেন না, সেটা নগরবাসী ইতোমধ্যে বোধগম্য হয়েছেন’। সূত্র: লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *