Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

নেতাদের বিরোধে আ’লীগে দুরবস্থা!

২৫ নভেম্বর, ২০২১ | ২:৩১ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 52 Views

নাসির উদ্দিন

বতর্মান সরকারি দল আওয়ামীলীগে কাউয়া বা হাইব্রিড খ্যাত অনুপ্রবেশকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকলেও চলমান ইউপি নির্বাচনে হাইব্রিডদের উপরই আস্থা রেখেছে আওয়ামীলীগ। যার প্রতিফলন ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায়। সেই সাথে মহাজোটে থাকা শরীক দল জাতীয়পার্টির বিপক্ষে বিষোদগার করে নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত করে রেখেছে। যার খেসারত দিচ্ছে দল নিজেই। সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও নৌকা প্রতীকের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। নিরপেক্ষ ভোটের ফলে বিভিন্ন এলাকায় নৌকার চরম ভরাডুবি হয়। আর এর মূল কারণ দলীয় বিরোধ। নিজেরা নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে দলের মান যেমন ক্ষুন্ন করছে তেমন দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে নৌকাকে ডুবাচ্ছে। শীর্ষ নেতারা সাধারণ মানুষকে সরকারের উন্নয়ন বুঝাতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে নৌকার এত বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। হাইব্রিডদের দলে স্থান দেয়ার ফলে অনেক স্থানে দলের পরীক্ষিত নেতাদের এবার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ ভাগ্যে জুটেনি। যার কারণে অনেকে হাইব্রিড প্রার্থীর বিপক্ষে আবার অনেকে নিরব থেকে দলের সাহায্য করা থেকে বিরত রয়েছেন। অনেকের অভিযোগ এবার জেলার শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন বানিজ্যের কারণে ইউপি নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থী দেয়ায় আওয়ামীলীগের হার হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে। এমনটাই মন্তব্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। আগামী ৩য় দাপের নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের পরাজয়ের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর ব্যর্থতার দায় বর্তায় জেলার শীর্ষ নেতাদের উপর। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরোধ দীর্ঘ দিনের। শীর্ষ নেতাদের বিরোধের ফলে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পড়েছে বিপাকে। তারা কি করবে কার কথা মানবে এনিয়ে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। বিগত ২য় দাপের ইউপি নির্বাচনগুলির দিকে তাকালে বুঝা যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রার্থীদের অনেক কলা কৌশলে রক্ষা করা হয়েছে তা না হলে এদের মধ্যে অনেকেই ঝড়ে পড়তেন এমন মন্তব্য একাধিক নেতাকর্মীর। শুধু তাই নয় আসন্ন ৩য় দাপের নির্বাচনকে সামনে রেখেও শীর্ষ নেতাদের নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে গীবত করা থামেনি। এতে করে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। ভোটারদের মন্তব্য তারা গীবতকারীদের সাথে নয়, যারা এলাকার উন্নয়ন করবে এবং সাধারণ মানুষের কথা শুনবে তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এখানোও যোগ্য প্রার্থীর অভাব রয়েছে। অনেকে রয়েছেন নতুন মুখ। সাধারণ মানুষ চলমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে আওয়ামীলীগের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না। আর এজন্য সাধারণ মানুষ আওয়ামীলীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। যার প্রমাণ মিলে বিগত ইউপি নির্বাচন গুলিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটা আওয়ামীলীগের জন্য সতর্ক বার্তা। বর্তমানে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতির ফলে সাধারণ মানুষ বা দিনমজুররা হিমশিম খাচ্ছেন। আর এর প্রভাব পড়ছে নির্বাচনগুলিতে। আসন্ন নাসিক নির্বাচনে এর প্রভাব খুব জোরেসোরে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা দলীয় নেতাকর্মীদের। তাই এখন বিরোধ নয় নিজ ঘর গুছাতে হবে। নয়তো এর ফল দলকেই ভোগ করতে হবে। হাত ছাড়া হতে পারে দলীয় নেতাদের ক্ষমতা আর জনপ্রতিনিধি। সোনারগাঁয়ের একজন সাধারণ ভোবাটর বলেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী পক্ষে আসা শীর্ষ নেতারা ভোট চাওয়ার চাইতে নিজ দলের নেতারে বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়াটা নিয়েই ব্যস্ত। এভাবেই চলছে নারায়ণগঞ্জের বর্তমান রাজনীতি। আর এধারা অব্যাহত থাকলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে আওয়ামীলীগ। তারা হারাবে নিজ দলের জনপ্রতিনিধি। কমে আসবে ক্ষমতা। বিগত সময় হাইব্রিডদের কারনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ যে খেসারত দিয়েছে তা না কাটিয়ে উঠতেই নির্বাচনে পুনরায় হাইব্রিডদের সুযোগ দিয়ে দলকে আরো দুর্বল করে তুলছে। যার খেসারত আগামী দিনে দিতে হবে আওয়ামীলীগকে। আর শীর্ষ নেতাদের বিরোধ আওয়ামীলীগের এখন দুরবস্থা। তাই আর বিরোধ নয় ঐক্যবদ্ধ ভাবে দলকে সুসংগঠিত করে দলের পরিক্ষিত নেতাদের সুযোগ করে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অংশিদার হবে। এটাই প্রত্যাশা মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এজন্য নারায়ণগঞ্জের নেতাদের মন মানুষিকতা পরিবর্তন জরুরী।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *