Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

নৌকা পাবে না হাইব্রিডরা

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 78 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

অনেকটাই দুঃসংবাদের মতই অবস্থা গোগনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজর আলীর জন্য। নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করবেন এমন আশায় রয়েছেন এবং তাকে বিভোর স্বপ্নে রেখেছেন আল মামুনদের মত কিছু নেতারা। তার সেই লালিত স্বপ্ন অনেকটা দুঃস্বপ্নে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে আওয়ামীলীগের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারনে। আল মামুনদের মতে ফজর আলী আওয়ামীলীগের নেতা কিন্তু গোগনগরবাসীদের মতে ফজর আলী হচ্ছেন হাইব্রিড আবার কাউয়া। ২ বছর আগে ২০ টাকায় আওয়ামীলীগের সদস্য ফরম কিনে নাম লেখান তিনি। এরই মধ্যে তার টাকার ভান্ডারের লোভ সমালাতে না পেরে অনেকেই হুমড়ী খেয়ে পড়েছেন অনেক নেতা যারা তাকে আওয়ামীলীগ নেতা বানিয়ে ছাড়বেন। জাপান ও ফিলিপাইন প্রবাসী ফজর আলী বছরের বেশীরভাগ সময় কাটে সেখানে। বড়ভাই গোগনগর ইউপি চেয়ারম্যান এম.নওশেদ আলী মৃত্যুর পর তার খায়েশ জাগে চেয়ারম্যান হবার। ইতিমধ্যে তার টাকার লোভে পড়ে অনেক আওয়ামীলীগ নেতা তার মুরিদ বনে গেছেন। সেই মুরিদরা টাকার পাহাড় ফজর আলীকে প্রয়োজনে আমপাতা মার্কায় নির্বাচন করাতেও প্রস্তুত যদি নৌকা না দেয়া হয়। এদিকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন যারা দলের কেউ নয় অথ্যাৎ ত্যাগী নেতা ছাড়া কেউ নৌকা প্রতিক পাবেনা। পক্ষান্তরে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানও বলেছেন ত্যাগী নেতা ছাড়া দলীয় মনোনয়ন নয়। আবার ৩১ আগষ্টে একটি শোক সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইও বলেন,নির্বাচনে কোন হাইব্রিডকে মনোনয়ন দেয়া হবে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী রয়েছেন হাইব্রিড বা কাউয়াদের পক্ষে। কিন্তু দলের নীতিনির্ধারকদের এমন সিদ্ধান্তে অনেকটাই সাধুবাদ জানিয়েছেন গোগনগরের সর্বস্তরের মানুষ। তারা মনে করেন দলের এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে গোগনগরে আওয়ামীলীগ আরো শক্তিশালী হিসেবে সুসংগঠিত হবে। ফজর আলী প্রসঙ্গে গোগনগরের অনেক বাসিন্দা জানান, ফজর আলীর পরিবারের কেউ কখন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলোনা। ফজর আলী থাকতেন প্রবাসে আর তার ভাই নওশেদ আলী তাদের সম্পত্তি দেখভাল করতেন। যদি সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদউল্লাহ আল মামুন একটি মিটিংয়ে বলেছিলেন যে,আওয়ামীলীগ করার অপরাধে নাকি ২০০১ সালে তাদের বাড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযান হয়েছিলো। কিন্তু মতলববাজ আল মামুনের সেই মিথ্যা তথ্যের বিষয়েও স্থানীয় গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিলো। মুলত সেটি ছিলো একটি জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। মুলত আল মামুনরা টাকার প্রলোভনে পড়ে উক্ত মিটিংয়ে এরুপ মিথ্যাচার করেছেন। এদিকে দলের এমন সিদ্ধান্তে অনেকটা আনন্দিত গোগনগরবাসী। কারন আল মামুনগংরা যেভাবে ফজর আলীর মত হাইব্রিডকে আওয়ামীলীগের নেতা বানিয়ে নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করাতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন সেখানে প্রকৃত ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতারা পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয়দের দাবী প্রবাসী ফজর আলীকে চেয়ারম্যান বানালেও গোগনগরবাসী সর্বদা থাকবে তাদের প্রাপ্য সেবা বঞ্চিত। কারন প্রবাসে তার স্ত্রী-সন্তান ও ব্যবসা রয়েছে যার কারনে বেশীরভাগ সময়ে তাকে প্রবাসে থাকতে হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভোটে জয়ের জন্য হঠাৎ দানবীর বনে গেছেন সুচতুর ফজর আলী। বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা এমনকি জনসেবামুলক কাজেও তিনি ব্যাপকভাবে নেমেছেন যা বিগত ২০ বছর আগেও দেখেনি গোগনগরবাসী। তারা বলেন, ইতিমধ্যে তিনি নাকি অর্ধকোটি টাকার বেশী ব্যয়ও করে ফেলেছেন। তবে এ ব্যয়ের বেশীরভাগ নাকি কিছু আওয়ামীলীগ নেতাদের পেছনে। কারন তারা কমিটমেন্ট করেছেন যেভাবেই হোক না কেন নৌকা প্রতিক ফজর আলীকে এনেই দিবেন। এ জন্য কেন্দ্রে যে ক’জনের নাম পাঠাবেন তার মধ্যে নাকি হাইব্রিড ফজর আলীর নামটি এক নম্বরে রাখবেন সেই নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোগনগরের অনেকে বলেন, আমরা চাই আসছে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হোক কোন হাইব্রিড মার্কা ব্যক্তিকে নয়। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও সাংসদ সেলিম ওসমান,শামীম ওসমান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারীকে অনুরোধ করবো দলের জন্য নিবেদিত প্রান ও ত্যাগী নেতাকে মুল্যায়ন করা হোক। কোন হাইব্রিড বা কাউয়া’কে নয়। কারন দীর্ঘদিন যাবত গোগনগর ইউপিতে কোন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের মনোনীতকে চেয়ারম্যান করানো হয়নি। গতবার এখানে নৌকার পরাজয় হয়েছিলো ঐ সকল অর্থলোভী নেতাদের কারনে যারা ফজর আলীদের মত অর্থশালীর মত ব্যক্তির কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *