Home » শেষের পাতা » অধিগ্রহণ হচ্ছে নদীর জমি

পদত্যাগকারীদের দাবি আমরাই সঠিক বিএনপি

০৫ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 42 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পদত্যাগকারী নেতারা এবার সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারা এ কমিটির বিপক্ষে পাল্টা কমিটি গঠনের চিন্তা করছেন। তবে তারা কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচি পালন করবেন আলাদা ভাবে। সদ্যঘোষিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির বিরোধিতা করে সেখানে যোগ্য এবং ত্যাগী নেতাদের স্থান দেওয়া হয়নি বলে একাধিক নেতা অভিযোগ করেন। বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সদ্য গঠিত মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করা যুগ্ম আহবায়ক হাজী নুরুদ্দিনের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি থেকে কালাম পরিবার ও সমর্থক, তৈমুর পরিবার ও সমর্থক এবং জাকির খানের সমর্থকদের বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, ‘২০১৯ সালে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আমাদের বড় ভাই এডভোকেট আবুল কালাম। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, আমাদের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, যিনি জেল-জুলুম ও নির্যাতনকে অকুতোভয়ে মাথা পেতে নিয়েছিলেন সেই এটিএম কামাল। একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য আমাদের মাঝ থেকে এটিএম কামাল আজ আমাদের কাছ থেকে অনেক দুরে আছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে আমি ১নং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে থাকায় কেন্দ্রের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। বিএনপি একটি সাংগঠনিক নিয়মে চলে। সেই নিয়মানুসারে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছি। এ সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট আবেদন করে বলেন, একটি সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আমরা কোথায় ছিলাম তা দেখেন। গত ১ সেপ্টেম্বর যখন আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করলাম, তখন পুলিশ আমাদের নির্বিচারে গুলি বর্ষন করলো। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে, নতুন আহবায়ক কমিটি আসছে বলে আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনেক নেতাকর্মী আমাকে বলেছে, কমিটি আনার জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করেন। আমি বলেছি, আমাদের কমিটির সকল নেতাকর্মীরাই অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের সাথে কোন আলোচনা না করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক দিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি ঘোষণা করার পর আমরা কখনও বলিনি যে, এই কমিটির বৈধতা দিব, এই কমিটি অবৈধ কমিটি। এই কমিটি যারা এনেছে তারা লুকোচুরি করে এনেছে। আমরা গত শুক্রবার আমাদের মহাসচিব ফকরুল ইসলাম আলমগীরের বাসভবনে গিয়েছিলাম। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর নেতা-কর্মীদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি দরখাস্ত নিয়ে গিয়েছিলাম। আমরা তাকে বলেছি, এই কমিটি গঠনে সভাপতি, সহসভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য কোন নেতাকর্মীদের সাথে কোন প্রকার পরামর্শ করা হয়নি। অথচ এই কমিটি গঠন করার জন্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাদের কমিটির সদ্যদের নিয়ে বসার কথা। আমরা যারা বিএনপির  রাজনীতি করি তারা এই দলের আদর্শ ও গঠনতন্ত্রে বিশ্বাসী। তৈমুর আলম খন্দকারের নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে কোন বাধা নাই। যার জন্য আমেরিকা থেকে এটিএম কামাল চলে এসেছিল। তাই তৈমুর আলম খন্দকার পূর্বে থেকেই ইচ্ছা পোষণ করেছিল যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে তিনি নির্বাচন করবেন। যারা এখন তৈমুর আলমকে বহিস্কৃত নেতা বলে সেখানে কেন গিয়েছি প্রশ্ন করেন, তারাই একটি ঘরে তৈমুর আলমের নির্বাচনী টাকা গুনতে ভাল লাগছে। নারায়ণগঞ্জ মহনগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করা বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন বলেন, বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়। আমরা সবাই প্রত্যেকে যদি তিন থেকে পাঁচশত করে লোক নিয়ে আসি তাহলে ডিআইটি জায়গা দেয়া যাবে না। আপনারা আগেও দেখাইছেন আবার ৬ তারিখেও দেখাবেন। আতাউর রহমান মুকুল বলেন, আমরা বন্দরের প্রত্যেক ইউনিয়নসহ বন্দর থেকে আমরা প্রচুর লোক নিয়ে হাজির হবো। আপনারা সময়টা ঠিক রাখবেন, সময় ঠিক না রাখলে কিন্তু এলামেলো হয়ে যায়। সেদিন যদি সাখাওয়াত মিছির বের না করতো, আমরা যদি এসে পৌছতাম তাহলে এই ঘটনা ঘটতো না। আমরা কিন্তু বিদ্রোহী কমিটি করে উপজেলা চেয়ারম্যান দুইবার হয়েছি। এখনতো আমরা সবাই একজোট হয়ে গেছি। আমরাইতো বিএনপি, ওরা কিসের বিএনপি! আমরা যদি ঠিক থাকি তাহলে আর অন্যকেউ পারবো না।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *