Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তি

০৬ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 68 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে পথে পথে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। পরিবহন ধর্মঘট থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছুসংখ্যক বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন চলছে। তবে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে কোন কোন গণপরিবহন চলাচল না করায় ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বাস বন্ধ থাকায় ট্রেনে ভীড় ছিল। তবে হুট করে ঢাকা এই ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। গতকাল শুক্রবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিন সাইনবোর্ড, সানারপাড় ও শিমরাইলে দেখা যায়, ছুটির দিনেও মহাসড়কে যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। যাত্রীরা গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, পিকআপ ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলে বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন। পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়টি অনেকেই জানেন না। বাসে উঠতে না পারলেও দূরের গন্তব্যে যেতে যাত্রীরা প্রাইভেটকার, পিকআপ ও সিএনজি ব্যবহার করছেন। এই সুযোগে কেউ কেউ ভাড়া বেশি নিচ্ছেন। ব্যবসায়ী রোমেল হায়দার বলেন, সরকার ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। ডিজেলের দাম কমানোর দাবি থাকলে সেটা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করা যেত। কিন্তু তাঁরা সেটা না করে ধর্মঘট ডেকে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে দিয়েছেন। তিন বছরের নাতিকে নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন কুমিল্লার হাজেরা বেগম। তিনি বলেন, আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি বাসের দেখা পাননি। কীভাবে যাবেন বুঝতে পারছেন না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট ডাকায় শিমরাইল বাস কাউন্টারে বেশ কয়েকজন যাত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তাঁরা যখন-তখন ধর্মঘট ডাক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। ধর্মঘট ডাকার আগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তাঁদের মাথায় রাখা উচিত। অন্য সময় মহাসড়কে যানজট লেগে থাকত। এখন মহাসড়ক একেবারে ফাঁকা। শিমরাইল কাউন্টারে বিআরটিসি বাসের সুপারভাইজার সুরুজ মিয়া বলেন, ধর্মঘটের মধ্যেও তাঁরা আগের ভাড়ায় যাত্রীদের পরিবহন করছেন। রিতা বেগম নামে আরেক যাত্রী জানান, তিনি সিএনজিতে করে গ্রামের বাড়ি আড়াইহাজারে যাবেন। কিন্তু সিএনজিচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। বিষয়টি স্বীকার করে ফরহাদ মিয়া নামে এক সিএনজিচালক জানান, পরিবহন ধর্মঘট থাকায় সিএনজিচালকরা ভাড়া একটু বেশি নিচ্ছেন। মহাসড়কের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ করিম জানান, পরিবহন ধর্মঘট হলেও বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন চলছে। কিন্তু বাস- ট্রাকের সংখ্যা খুব কম। শিমরাইল ট্রাফিক পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মশিউর রহমান বলেন, ধর্মঘটের কারণে মহাসড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অল্প কিছু বাস ও ট্রাক চলাচল করছে। স্থানীয় বাসগুলো যে যার মতো করে ভাড়া নিচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উৎসব পরিবহনের ব্যবস্থাপক কাজল মৃধা বলেন, ধর্মঘটের কারণে গাড়ি চলাচল তাঁরা বন্ধ রেখেছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বেগ বলেন, ধর্মঘটে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ আছে। তবে কিছু পণ্যবাহী ট্রাক, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *