Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

পরিবারতন্ত্রে আবদ্ধ রাজনীতি

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 77 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সবদলের পরিবারতন্ত্রের প্রভাব রয়েছে। এ পরিবারতন্ত্র নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সেটা ইউনিয়ন, কিংবা সংসদ নির্বাচন। এমনকি দলীয় সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও এটা দেখা যায় অহরহ। তবে বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা সাধারণের চোখে পড়ে বেশি। এ নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও নানা সময়ে সমালোচনা ও ক্ষোভ দেখা গেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে এর প্রভাব আরও বেশি। নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে উত্তর-দক্ষিন বলয়ে দুটি পরিবারের প্রভাব রয়েছে বলে জানান স্থানীয় নেতা কর্মীরা। এমনকি বিভিন্ন নির্বাচনেও তাদের প্রভাব রয়েছে। জানা যায়, সামসুজ্জোহা পরিবারের ছেলে এমপি শামীম ওসমানের অনুসারীদের উত্তর বলয় হিসেবে জানেন নগরবাসী তথা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। তার বিপরীতে প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ চুনকার মেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারীদেরকে দক্ষিণ বলয় হিসেবে চেনেন সবাই। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে এই দুই বলয়ের প্রভাব রয়েছে, সেই সাথে তাদের পরিবারেরও। তবে এই পরিবারতন্ত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে মনোনয়ন পর্যন্ত বেরিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন দল। শুধু তাইনয় বিএনপি ও জাতীয়পার্টিতে পরিবারতন্ত্র বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ইদানিং রূপগঞ্জেও পরিবারতন্ত্র রাজনীতি গড়ে উঠছে। সেই সাথে ওই এলাকায় একাধিক পরিবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ক্ষমাতসীন দলের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার তৈরী করছেন। তারই প্রতিফলন দেখা যায় রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ কমিটি গঠনে। শহরের উত্তর দক্ষিণ মেরু দুই বলয়ের ভাইরে গিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী এবং রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম দস্তগীর গাজীও ওই এলাকায় আওয়ামীলীগের কমিটিতে তাদের এক পরিবারের তিন জন সদস্যের নাম দেয়া হয়। মন্ত্রী গাজী রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তারই ছেলে  ওই উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে গোলাম মর্তুজা গাজী পাপ্পা সহ সভাপতি পদ পান। একই সাথে মন্ত্রী গাজীর স্ত্রী হাসিনা গাজী ওই কমিটির সদস্য পদে পদায়িত হন। সেই সাথে তিনি তারাব পৌর সভার মেয়র হিসেবে আছেন। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিতে পদায়ন শুরু করেছে। তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে বিতকির্ত হয়ে আছেন। তবে তিনি আগামীতে জেলা সভাপতি পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন। তাই এবার তার ছেলে মো. তানভীর হাইকে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। একই সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রথম সদস্য পদটিও আব্দুল হাই দখল করে রেখেছে। যা নিয়ে রীতিমত রাজনৈতিক মহলে ব্যপক সমালোচনা হচ্ছে। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে পিছিয়ে নেই রূপগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়া। তিনিও ইদানিং পারিবারিক রাজনৈতিক বলয়ে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তার ছেলে সাইফুল ইসলাম সোহেলকে এই উপজেলা আওয়ামীলীগ কমিটিতে যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। এ যেন এক পারিবারিক রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে এখানে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর ছাত্রলীগ সাংসদ শামীম ওসমান ছেলে অয়ন ওসমানের অনুসারীদের দখলে। এখানে তারা অনুসারীরা এককভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনিও প্রভাব তৈরী করছেন বলে জানান দলীয় নেতা-কর্মীরা। তবে শামীম ওসমানের ছেলেকে রাজনীতিতে না জড়ানোর কথা এমপি নিজেই বেশ কয়েকবার বলেছেন। এমনকি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্ত্রী ও সন্তানের নাম আসলে সেটি তিনি সম্মানের সাথে প্রত্যাহার করার কথা বলেন। এদিকে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা একেএম শামসুজ্জোহার ছেলে সেলিম ওসমান সদর-বন্দর আসনের সাংসদ। সাংসদ হওয়ার পূর্বে তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেখান থেকে তার বড় ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সাংসদ হন সেলিম ওসমান। বর্তমানে জাপায় টালমাটাল অবস্থা, এমন অবস্থায় জোট থেকে বেরিয়ে গেলে সেলিম ওসমান একেএম সামসুজ্জোহার ছেলে হিসেবে এবং আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবেও একই আসনে মনোনয়ন চাইলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। এদিকে এই রীতি দেশের প্রায় সব দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়ে উঠছে। বাবা এমপি হলে তার শূন্যস্থানে স্ত্রী, পুত্র, কন্যারা এমপি হন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও সেই চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু এই রেওয়াজ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর প্রতিফলন ঘটেছে বিগত উপনির্বাচনগুলোতে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, কিছু প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মনে করেন এমপির ছেলে এমপি হবে, এটা তাদের অধিকার। এসব মন্ত্রী-এমপির ধারণা ভুল প্রমাণ করে দলের গণতন্ত্র অনুযায়ী সবার এমপির হওয়ার অধিকার আছে, সেই ধারাই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড শূন্য আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে এবার প্রচলিত অবস্থানের পরিবর্তন করেছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, দলকে গতিশীল করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দলের জন্য তা ইতিবাচক। শুধু দলীয় মনোনয়ন নয়, নেতা নির্বাচনেও রয়েছে এখন বাড়তি সতর্কতা। নতুন নেতা-কর্মীদের জায়গা করে দেওয়ায় দলের মধ্যে বিদ্রোহী কমবে। মনোনয়ন পেতে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উড়ে এসে জুড়ে বসার বিষয়েও দলটি এখন সতর্ক। এর আগে ঢাকা মহানগরীতেও এমপিদের পরিবারের বাইরে এসেছে আওয়ামী লীগ। এদিকে বিএনপিতেও পরিবারতন্ত্র বাদ পড়েনি। জালাল হাজীর ছেলে এড. আবুল কালাম পিতার স্থলে এমপি, এখন তার ছেলে আবুল কাউছার আশা, নাসিক ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, তার চাচাতো ভাই আতাউর রহমান মুকুল ২বার বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান হন। এছাড়া জাতীয়পার্টিতে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের সহধর্মীনী এখন জাতীয়পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, ভাই সদর-বন্দর আসনের এমপি। এছাড়া সোনারগাঁয়ে এমপি খোকার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকতও মহিলাপটিয়ে প্রবেশ করেছেন। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ পরিবারতন্ত্র রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *