Home » শেষের পাতা » অধিগ্রহণ হচ্ছে নদীর জমি

পরিবেশ দূষনের প্রতিযোগিতা!

২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:২১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 20 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট পরিবেশ দূষণের কারনে নারায়ণগঞ্জ বসবাসে অযোগ্য হয়ে পরেছে। এছাড়া নাসিক মেয়র আইভী বিভিন্নঅনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিকবার নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ দূষিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নগরবাসীরবাসীর অভিযোগ, অনেক প্রকাশ্যেই নারায়ণগঞ্জ জুড়ে চলছে পরিবেশ দূষনের মহোৎসব। প্রতিদিন বিভিন্ন ডাইং কারখানার তরল বর্জ্য পড়ছে জেলার ছোট ছোট খাল বিল ও পুকুর-ডোবায়। এছাড়া শহরের যত্রতত্র পচাঁ ময়লা আবর্জনার দূর্গন্ধে এখন আর স্বাভাবিক ভাবে হাটা যায় না। এছাড়া তরল বর্জ্য পানি নিস্কাশন খাল, ড্রেন ও নর্দমার মাধ্যমে সরাসরি শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে পড়ছে। শিল্প-কারখানা ও বাসাবাড়ির বর্জ্যে শীতলক্ষ্যার পানি ব্যাহারে অনুপযোগী হয়ে পরেছে দীর্ঘদীন ধরে। এক সময়ের পানি প্রবাহের শীতলক্ষ্যা এখন আর চেনার উপায় নেই। এ নিয়ে কারো কোন মাথ্যা নেই। আর এসবই হচ্ছে পরিবেশ অধিপ্ততরের নাকের ডগায়। ফলে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ এখন অনেকটা হুমকির মুখে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাগলা নয়ামাটি, ফতুল্লার লামাপাড়া, সস্তাপুর, কায়েমপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারাগাঁ, রূপগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েক শতাধিক ডাইং কারখানা। ছোটখাটো শিল্প প্রতিষ্ঠানেতো বটেই নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিবেশ দূষণে পিছিয়ে নেই। নারায়ণগঞ্জের বড় শিল্প-কারখানাগুলোর মধ্যে নীট কনসার্ন লিমিটেড, ফকির নীটওয়্যার, মডেল গ্রুপসহ যে কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার প্রায় সবগুলো থেকেই দুর্গন্ধযুক্ত কুচকুচে কালো ও রঙিন পানি বেরিয়ে আসছে। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত এসব পানির কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশের পুরো এলাকা দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। দূষিত এ পানির কারণে রাস্তা দিয়ে মানুষকে রুমাল চেপে হাঁটতে হচ্ছে। এসব শিল্প-কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দূষণের অভিযোগ অস্বীকার করলেও শীতলক্ষ্যায় ভয়াবহ দূষণ এক নির্মম বাস্তবতা। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে শীতলক্ষ্যার পাগলা পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করা পানি আর শোধন করনে পারছে না ওয়াসা। নগরবাসী বলছেন, এ ভয়াবহ দূষণ রোধ করতে পরিবেশ অধিদফতরের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, নগরীর বিভিন্ন স্থানে পচাঁ ময়লার স্তুপ রাখারও। এসব পচাঁ ময়লার দূর্গন্ধে শহর দিয়ে এখন স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পরেছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব পচাঁ ময়লার দূর্গন্ধের কারনে নগরীর বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নাসিকের উদাসিনতার কারনে নগরীর এ অবস্থা হয়েছে এমন অভিযোগ নগরবাসীর। অন্যদিকে, এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের পলিথিন ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের বাসিন্দারা প্রতিদিন কয়েক লাখ পলিথিন ব্যাগ ১ বার ব্যবহার করে প্রকৃতিতেই ফেলে দেয়। নিক্ষিপ্ত এই পলিথিনগুলো নালা-নর্দমার মুখে গিয়ে জমাট বেঁধে তৈরি করে জলাবদ্ধতা। ২০০২ সালে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও পুনরায় দাপটের সাথে হাতলবিহীন পলিথিনের আর্বিভাব ঘটে। বিগত বছর খানেক ধরে পলিথিনের ব্যবহার আবারো মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে, খুচরা পণ্য ক্রয় ও ফলের দোকান থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত সবাই পুরো মাত্রায় পলিথিন ব্যবহার করছে। আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগের অভাবে পলিথিন উতপাদন বিপনন বন্ধ করা যাচ্ছে না।  আধুনিক যান্ত্রিক জীবনের আরেক দু:সহ ও অবিচ্ছেদ্য ক্ষতিকর দিক হচ্ছে শব্দ দূষণ। বর্তমানে শব্দ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যদিও শব্দ দূষন জনিত সমস্যা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে এবং এর ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়ে অনেক লোক বিকলাঙ্গ ও নানাভাবে রোগব্যাধির শিকার হচ্ছে। শব্দ দূষণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সমস্যা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। শব্দ দূষণ রোধে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে সে আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। আবাসিক, অনাবাসিক এলাকা, অফিসপাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি হাসপাতালের আশপাশেও শব্দ দূষণের তীব্রতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শব্দদূষণ শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এ সমস্যার কারণে হাজার হাজার মানুষ বধির হওয়া থেখে হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুলগামী শিশুরা। গাড়ীর হাইড্রোলিক হর্ণ ও উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোও ঢাকা শহরে শব্দ দূষণের মধ্যে অন্যতম কারণ। অপরিকল্পিত নগরায়নই এ সমস্যার সৃষ্টি করে। পরিবেশ বিপর্যয়ের সমস্যা সামগ্রিকভাবে একটি ভয়াবহ সমস্যা। এই সমস্যা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করার জন্য পরিবেশ অধিদফতর, স্থানীয় সাংসদ, সিটি মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নগরবাসীর আবেদন, আমরা যাতে সুষ্ঠভাবে বেচেঁ থাকতে পারি সেদিকে আপনারা সুদৃষ্টি কামনা করছি। পাশাপাশি এই সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা বিশেষ আইনই যথেষ্ট নয়, এ জন্য দরকার নাগরিকদের চেতনাবোধ। জনগোষ্ঠীর যে ক্ষুদ্র অংশ এসব বিষয়ে সচেতন তাদেরও তেমন উদ্যোগ গ্রহন করতে দেখা যাচ্ছে না। তারা বনাঞ্চল নিধন, পানি দূষণ বা বায়ূ দূষণ  নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন ও প্রতিবাদমুখর হওয়ার কথা তারা ততটা সোচ্চার নয়। কিন্তু পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য মানুষের জন্য মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগন যদি পরিবেশ বিপর্যয়ের সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হয়, তাহলে পরিবেশ বিপর্যয়ের কবল থেকে আমরা অতি সহজেই নিজেদের অস্তিত্বকে রক্ষা করতে পারবো।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *