Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে দেশের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র

০২ মে, ২০২২ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 72 Views

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর ঈদ কেটেছে ঘরবন্দি হয়ে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সংক্রমণ কমায় এরই মধ্যে জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক। তাই আসছে ঈদুল ফিতর ঘিরে দেশের পর্যটনখাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এরইমধ্যে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে দেশের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র। করোনা বিধিনিষেধ না থাকায় অনেকে এবার ঈদের ছুটিতে দেশের বাইরে ভ্রমণের পরিকল্পনাও করছেন। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাটছে ব্যস্ত সময়।পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিগত দুই বছর করোনার উচ্চঝুঁকির কারণে মানুষ পর্যটনকেন্দ্রে সেভাবে আসেনি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবং ঈদে লম্বা ছুটির সুযোগে এবার অভ্যন্তরীণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় জমবে। এরইমধ্যে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সিলেট, বান্দরবান, শ্রীমঙ্গল, সুন্দরবন, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল-মোটেলের বেশিরভাগই বুকিং হয়ে গেছে।চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩ মে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। এবার ঈদে ৫ মে ছুটি নিলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৯ দিনের ছুটি পাবেন। একই পরিস্থিতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। ফলে ঈদকেন্দ্রিক লম্বা ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রমোদভ্রমণে সময় কাটাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় ভালো ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের অধিকাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আশা করি, ঈদের আগে আরও হবে। ঈদের পর পর্যটকদের বাড়তি চাপ থাকবে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী টানা পাঁচ-সাতদিন এ চাপটা থাকবে।

‘আমাদের এখানে চারশোর বেশি হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ আছে। এখানে প্রতিদিন এক থেকে সোয়া লাখ পর্যটক থাকতে পারেন। এর মধ্যে দু-একদিন চাপ বেশি থাকে। ওই সময় ২০ থেকে ৫০ হাজার অতিরিক্ত পর্যটক আসেন। অনেকে দিনে এসে দিনেই চলে যান, বিশেষত চট্টগ্রামের মানুষ। সবমিলে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ মানুষ হবে বলে আশা করি।’

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে করোনায় পর্যটনে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি কোনোভাবে পোষানো সম্ভব নয়। রোজার মাসেও ব্যবসা নেই। রমজানের ক্ষতি পোষাতে আমাদের ঈদের কয়েকটা দিন লেগে যাবে। এখানে তো মৌসুমি ব্যবসা হয়। দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসাই ছিল না। তবে এবার সে ক্ষতি ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে। কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলার এখন অনেক উন্নতি হয়েছে, আমাদের সৈকতগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ সবাই একসঙ্গে কাজ করছে। আমরাও মনিটরিং করছি। সার্বিক অবস্থা বেশ ভালো।

পর্যটন সংশ্লিরা বলছেন, পর্যটনশিল্প বড় একটি খাত। এ শিল্পের সঙ্গে ১৫টি মন্ত্রণালয় জড়িত। সেক্টর রয়েছে শতাধিক। এ খাতকে কোনো সংখ্যায় নিরূপণ করা যাবে না। যখন কোনো বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসেন বা দেশের কোনো পর্যটক যখন কোথাও ভ্রমণ করতে যান তখন শুধু সেখানকার হোটেলে খাওয়া বা ঘুমানোই নয়, ওই এলাকার হকারের কাছ থেকে কিছু কেনেন, রিকশায় চড়েন, মুদি দোকানে যান। এগুলোর পরিধি ব্যাপক। সেজন্যই এ খাতকে আদি, অকৃত্রিম এবং সর্ববৃহৎ শিল্প বলা হয়।

আসন্ন ঈদুল ফিতরে কত সংখ্যক পর্যটক দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করবেন, জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাবেদ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আমি আমাদের মাইগ্রেশন টিম দিয়ে এটা জানার চেষ্টা করছি। কত সংখ্যক মানুষ পর্যটন এলাকাগুলোতে মাইগ্রেট হচ্ছে, তার থেকে একটা সংখ্যা বের করা যাবে। তবে আমার ধারণা কক্সবাজারে তিন থেকে চার লাখ এবং কুয়াকাটায় দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের মুভমেন্ট থাকবে। সব মিলিয়ে আসছে ঈদে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ১০ লাখ মানুষের মুভমেন্ট থাকতে পারে। তবে করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোনো পর্যটকের কাছ থেকে বাড়তি চার্জ নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঈদ ঘিরে হোটেল-মোটেলগুলোর কী অবস্থা সে খোঁজ নিয়েছি। বেশিরভাগই সোল্ড আউট। আমাদের পপুলার ডেস্টিনেশনগুলোর হোটেল-মোটেলগুলো সোল্ড আউট হয়ে গেছে। এটার অর্থ হচ্ছে মানুষের মুভমেন্টের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। বেড়ানোর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের বেড়ানোর চাহিদা সৃষ্টি হলে ব্যবসা অবশ্যই ভালো হবে। হোটেল-মোটেলের অ্যাকোমডেশন যখন বুকড হয়ে যায় তখন অন্যান্য অনুষঙ্গ যেমন রেস্টুরেন্ট বিজনেস চাঙা হবে, লোকাল ইকোনমি চাঙা হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যায়। ঈদে বড় ধরনের মুভমেন্ট হতে যাচ্ছে, এমনটিই আমার বিশ্বাস।

তবে পর্যটকের সংখ্যার বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও’র দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি পর্যটনভিত্তিক সংগঠনগুলোর কথায়। তাদের ভাষ্য, পর্যটকের সংখ্যা নিরূপণে কোনো পরিসংখ্যান না থাকায় কত সংখ্যক পর্যটক পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করবে সেটি সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। ২০১৮ সালের আগে যে পর্যটক মুভমেন্ট হতো এটির ভিত্তিতেই বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা বলা হচ্ছে। সাধারণত কোনো একটি ইভেন্টে শুধু কক্সবাজারেই দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। সুতরাং অন্যবারের মতো এবারও দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের সমাগম হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে একটি আনুমানিক সংখ্যা বলা হচ্ছে। এজন্য তেমন কোনো গবেষণা নেই। এ ডাটা কেউ সংরক্ষণ করে না, এটি নেহায়েত অনুমাননির্ভর।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান  বলেন, পর্যটকের সংখ্যা জানতে একটি ডাটা সংরক্ষণ করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে এটি করলে সঠিকভাবে সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব। দেশের পর্যটনশিল্পে কতজন কর্মী নিয়োগপ্রাপ্ত, কতজন বছরে ভ্রমণ করেন, বিদেশি পর্যটক কত আসে, কত টাকা আয়-ব্যয়, জিডিপিতে অবদান কী- এসব সঠিকভাবে নিরূপণ হবে যদি সরকারিভাবে গবেষণা এবং ডাটা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

‘আমি আশা করবো ঈদে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সব পর্যটনকেন্দ্রে যেন পর্যটকরা ভ্রমণ করতে যান। শুধু কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন বা সেন্টমার্টিনমুখী না হয়ে ধারণক্ষমতার কথা চিন্তা করে যেন পর্যটকরা ভ্রমণ করেন। ব্যবসায়ীদের বলবো, যেন চাহিদার কারণে চার্জ বেশি নেওয়া না হয়। যেন প্রফেশনালিজম বজায় রেখে পর্যটকদের সেবা দেওয়া হয়। কারণ, ব্যবসাটা একদিন বা এক সপ্তাহের নয়, সারা বছরের।’

অনেক পর্যটনকেন্দ্র অনেক ক্ষেত্রে পর্যটনসুলভ হয় না, এ বিষয়ে রাফেউজ্জামান বলেন, আমাদের ছোট এ দেশে ১৮ কোটি মানুষ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ মানুষও যদি ঈদে বের হয় তাদের সবাই যে পর্যটক তা কিন্তু নয়। সবাই শেকড়ের সন্ধানে তার বসতবাড়িতে ঈদ করতে যান। সে কারণে ঈদকেন্দ্রিক মুভমেন্ট খুব বেশি হয়। এক্ষেত্রে ট্রান্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রির সব পথে যানজট হওয়াটা স্বাভাবিক। এ স্বাভাবিকতা মেনেই ভ্রমণ উপভোগ করতে হবে।

ঈদে বা লম্বা কোনো ছুটি পেলেই সামর্থ্যবানরা বিদেশ ভ্রমণে যান। এক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় থাকে ভারত বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এ

শুধু বাংলাদেশিরাই নন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সারা বছরই ভারত, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, নেপাল, দুবাইয়ের মতো দেশগুলোতে পর্যটক যান। সম্প্রতি ভারতের ভিসা সেন্টারগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এবার ঈদের ছুটিতে কমপক্ষে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম  বলেন, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কলকাতা বা মালদ্বীপের ফ্লাইটে কিছুটা বাড়তি চাপ আছে। অনেকে দেশের বাইরে গিয়ে ঈদ করতে পছন্দ করেন। এবার যেহেতু সরকারি-বেসরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠানে ঈদের লম্বা ছুটি সে কারণে অনেকে দেশের বাইরে ভ্রমণে যাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোতে ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে সপ্তাহখানেক অতিরিক্ত চাপ থাকবে।

আইএইচআর/এমকেআর/এএ/জিকেএস

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *