Home » প্রথম পাতা » শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ

পাষ্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বসতবাড়ির প্লাষ্টিক সামগ্রী ফেলনা নয়

০৩ আগস্ট, ২০২২ | ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 38 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জে প্লাষ্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডে প্লাষ্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আখতার, হেড অফ করপোরেশন শামীমা আখতার, ইউএনডিবির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্ট ভ্যান এন গুয়েন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, নারী কাউন্সিলর মিনোয়ারা বেগম মিনু প্রমুখ। বিল্ডিং সারকুলার সিটিজ ইন পার্টনারশীপ উইথ প্রাইভেট সেক্টর : স্টার্টিং ফ্রম প্লাষ্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (পিডব্লিউএম) প্রকল্পের অর্থায়নে রয়েছে ইউনিলিভার। সহযোগিতায় রয়েছে ইউএনডিপি ও ইউএসডিও। বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।  সকালে প্রথমে নাসিকের ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয়ের পাশে স্থাপিত পলিথিন কালেকশন পয়েন্ট-৩ এ প্লাষ্টিক বর্জ্য সংরক্ষণের কার্যক্রম পরিদর্শণ করেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারসহ অন্যরা। পরে তারা পাশর্^বর্তী কয়েকটি বাড়িতেও প্লাষ্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিরা পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এই প্রকল্পের পাইলট পর্যায়ে ১২নং ওয়ার্ডকে নির্ধারণ করেছেন। এই ওয়ার্ডটি শহরের প্রাণকেন্দ্র ছাড়াও সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয় ও বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এজন্য ওয়ার্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার, ইউনিলিভারের সিইও, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিইওসহ উর্ধ্বতনরা প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রকল্পটি নভেম্বর থেকে চালু হয়েছে অর্থাৎ মাত্র ৭-৮ মাসে প্রায় ৮ জন প্লাষ্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটা দেখেও তারা অনেক অবাকও হয়েছেন। আমরা প্রকল্পটির কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে বর্জ্য সংগ্রহকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আধুনিক সরঞ্জাম প্রদানের দাবি জানিয়েছি। আপনারা জানেন বর্তমানে প্লাষ্টিক বর্জ্যে সর্বত্র সয়লাব। লিংক রোডের সড়ক নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে মাটি খুড়ে প্লাষ্টিক বের হচ্ছে। খাল পরিস্কার করতে গিয়ে ১০ ফুট মাটির নিচ থেকেও প্লাষ্টিক বের হচ্ছে। এজন্য পরিবেশ সংরক্ষণে আমাদের প্লাষ্টিককে কাজে লাগাতে হবে। প্রতিটি বাড়িতেই প্লাষ্টিক বোতল কিংবা অন্যান্য প্লাষ্টিক বোতল ব্যবহার হয়ে থাকে। আগে বিভিন্ন বসতবাড়ি থেকে প্লাষ্টিক যত্রতত্র ফেলে দেয়া হতো। এখন কিন্তু বসতবাড়িতে প্লাষ্টিক জমিয়ে সেই প্লাষ্টিক বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে। পত্রিকা কিংবা পুরাতন বই খাতা বিক্রি করে যেমন লাভবান হওয়া যায় তেমনি প্লাষ্টিক বর্জ্য জমিয়ে সেগুলো বিক্রি করে লাভবান হওয়া যাবে। এখন আমরা পরিস্কার পলিথিন ১২ টাকা দরে বিক্রি ক্রয় করছি। এটা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে বলে আশা করছি। কোন বাসাবাড়িতে পলিথিন সামগ্রী জমিয়ে আমাদের খবর দিলে আমাদের পরিচ্ছন্নকর্মীরা গিয়ে সেই পলিথিন ক্রয় করে নিয়ে আসবে। পলিথিন কালেকশন পয়েন্ট-৩ এর আওতায় মোট ক্লিনিং সার্ভিস সংস্থা রয়েছে ২টি। মোট সংগ্রহকারী রয়েছেন ৩৯ জন যাদের মধ্যে বর্জ্য সংগ্রহকারী ২৪ জন এবং স্ট্রীট ক্লিনার ১৫ জন। তারা বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে ও সড়ক থেকে প্লাষ্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে। এই পয়েন্টের আওতায় দু’টি ওয়ার্ড রয়েছে ১১ ও ১২নং ওয়ার্ড। এই পলিথিন কালেকশন পয়েন্টের আওতায় অদ্যাবধি ৭ হাজার ৭৩২ কেজি পলিথিন সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিস্কার পৃথক পলিথিন প্রতি কেজি ১২টাকা দরে ক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়া পরিস্কার পলিথিন (একত্রে) ১০ টাকা ও অপরিস্কার পলিথিন (একত্রে) ৮ টাকা দরে ক্রয় করা হচ্ছে। যদি কোন পরিচ্ছন্ন কর্মী প্রতি মাসে ৬৫ কেজির অতিরিক্ত পলিথিন সংগ্রহ করতে পারে তাহলে তাকে প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত ১ টাকা প্রদান করা হবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *