Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে

২৪ আগস্ট, ২০২০ | ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 961 Views

হাবিবুর রহমান বাদল
আমার কাছে আপনার আসার প্রয়োজন নেই, আমি আপনার কাছে আসছি আপনার সমস্যা কী বলুন আমরা সমাধান করব। এই শ্লোগানে পুলিশি সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম। সেবাপ্রত্যাশীরা যাতে সপ্তাহের প্রতিদিনই ঘরে বসে সেবা পান। এজন্য বিট পুলিশিং কার্যক্রম বাড়িয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই বা এএসআই) প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বসছেন। তার উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমান্য ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক বসে অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। ফলে ছোটখাটো দ্বন্ধ-সমস্যায় সাধারণ মানুষকে অভিযোগ নিয়ে থানায় যেতে হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ জেলাকে বিভিন্ন বিটে পুলিশিংয়ে ভাগ করে চলছে এ কার্যক্রম। সপ্তাহে একদিন বিট অফিসারদের তদারকির (বিট অফিসে যাওয়া) নিয়ম থাকলেও এসপি জায়েদুল আলম তার জেলার কর্মকর্তাদের প্রতিদিন হাজির হওয়ার নিয়ম করেছেন। এতে মাদক, জুয়া খেলা বন্ধসহ বিভিন্ন অপরাধ কমেছে। পাশাপাশি পুলিশের প্রতি বাড়ছে মানুষের আস্থা। ডান্ডিবার্তার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। এই কার্যক্রমে নাগরিকরা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ছোটখাটো সমস্যায় নাগরিকদের থানায় আসতে হবে না। বিশেষ করে যেগুলো স্থানীয় পর্যায় বসেই মীমাংসা করে দেওয়া যায় অথবা পুলিশি সেবার জন্য থানায় আসার প্রয়োজন পড়ে না। আবার অনেককে প্রত্যন্ত এলাকা কিংবা দূর থেকে থানায় আসতে হয়। তাই আমাদের অফিসাররা এখন প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বসছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযারী সপ্তাহে একদিন বসার কথা। আমার জেলায় এই সেবা প্রতিদিন চলবে। তাই একজন অফিসার প্রতিদিন ‘বিট পুলিশিং’ অফিসে গিয়ে বসছে। অনেক সময় ছোটখাটো পারিবারিক দ্বন্ধ, স্থানীয় ঝামেলা, ছোটখাটো নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা থাকে। এসপি জায়েদুল আলম জানান, এসব সমস্যা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বসলে সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেকের ভোগান্তিও কমছে। যেগুলো সমাধান হচ্ছে না, সেগুলো থানায় গিয়ে সমাধান করতে বলেছেন তিনি। ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিট পুলিশিং জোরদারের পর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো হয়েছে বলে জানান এসপি জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, কোথাও বড় ধরনের সমস্যা নেই। ট্র্যাডিশনাল যেসব অপরাধ, যেমন- জমিজমা নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে মারামারি, এসব কিছু আছে। তবে কোনো ঘটনার আগে যদি সেখানে পুলিশের হস্তক্ষেপ হয়ে যায়, তাহলে অপরাধ করার আগে মানুষ দুবার ভাবে। তবে তিনি নিঃসন্দেহে প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষ যদি বিট পুলিশিং সেবাটা পায়, তাহলে এসব মারামারি হয় না বা প্রতিরোধ করা যায়। এ কারণে নাগরিকদের সব সময় বলছি, কোনো ছোটখাটো ঘটনা হলে আগে আমাদের জানান, যাতে আমরা একটা মীমাংসা করে দিতে পারি। বিট পুলিশিং থাকলে জুয়া, মাদকের আসর এসব অবাধে চলতে পারে না। কারণ, বিট পুলিশকে মানুষ সহজে তথ্য জানিয়ে দিতে পারে। জায়েদুল আলম জানান, বিট অফিসারদের জন্য ডেডিকেটেড ফোন নম্বর আছে। মানে বিট প্রতি একটি করে নির্দিষ্ট ফোন নম্বর চালু করা হয়েছে। অফিসার বদলি হলেও নম্বর ঠিক থাকবে। যখন যে অফিসার বিটের দায়িত্বে থাকবেন, তিনি এই নম্বর ব্যবহার করবেন। আর ছোটখাটো যেকোনো প্রয়োজনে ওসিকে কল করার দরকার নেই। ওই নম্বরে কল করলেই সেবা পাওয়া যাবে। কাজেই আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে বিট পুলিশিংয়ের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। জনবান্ধব ও জনপ্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে পুলিশের এই কর্মকর্তার। বিট পুলিশিংয়ে বিটের কর্মকর্তাদের মনিটরিং করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিট অফিসারদের জবাবদিহির বিষয়ে এসপি জায়েদুল আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে যখন কোনো ভুক্তভোগী ফোন করে, তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি বিট অফিসারকে ফোন করেছিলেন কি না। এতে সহজে সেবা পাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষ জানতে পারে। পুনরায় যদি আমাদের কাছে অভিযোগ আসে, তাহলে বিট অফিসার দায়বদ্ধ হবেন। কারণ আমাদের কাছে পুনরায় ফোন আসা মানে বিট অফিসার ঠিকমতো কাজ করছেন না। বিট পুলিশিং সেবা এবং মোবাইল ফোন নম্বর সহজে সবার কাছে পৌঁছে দিতে কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন জানতে চাইলে এসপি জায়েদুল আলম বলেন, ‘আমরা এ-সংক্রান্ত ব্যানার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দিয়েছি। আবার যারা বিট অফিসে বা ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসছে তাদের মোবাইল ফোনে নম্বর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার এই উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে এসপি জায়েদুল আলম বলেন, ‘কোনো অপরাধ, দ্বন্ধ-সংঘাত কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটনের আগেই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাব এবং তাদের জান-মাল রক্ষার পাশাপাশি পুলিশি সেবা দেব। কোনো ঘটনা ঘটার পর কী ব্যবস্থা নেব এমন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি না। ঘরে ঘরে পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশ ভীতি দূর করা এবং জনগণ ও পুলিশের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছি। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমার পাশাপাশি পুলিশি সেবাটা সহজেই মানুষের কাছে চলে যাবে। এক কথায় বিট পুলিশিং ব্যবস্থা যদি কার্যকর ও দুর্নীতি মুক্তভাবে করা যায় তবে সমাজে যে অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে তা যেমন দুরবিত হবে তেমনই সামাজিক বন্ধন আরো বাড়বে। সেই সাথে ছোট খাট বিষয়ে আদালতের দ্বারস্ত না হয়ে সামাজিক ভাবে সমস্যার সমাধান হলে অর্থ ও হয়রানি থেকে নারায়ণগঞ্জবাসী অনেকটাই রক্ষা পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *