Home » প্রথম পাতা » না’গঞ্জে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু

প্রতিপক্ষের দাবি আইভী থেকে সরে যাচ্ছে ত্যাগীরা

০৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 92 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কথায় আছে ‘কাজের নামে কাজী, কাজ ফুরালে পাজি’। এই বৈশিষ্ট যখন কোন রাজনীতিবিদের ললাটে থাকে তখন ধীরে ধীরে জনসমর্থন হারাতে থাকে। সহযোগী সহকর্মীরাও এক সময় ছেড়ে চলে যায়। যেমনটা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ক্ষেত্রে। এক সময় যারা জীবন বাজী রেখে আইভীর জন্য কাজ করেছে, তাদের অনেকেই এখন দূরে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে দলীয় অনেক নেতাকে নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হতে সিড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন আইভী। ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এস এম আকরাম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, দেওভোগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন মনাসহ এমন অনেকেই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী আইভীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালের প্রথম সিটি নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে বিএনপি তাদের প্রার্থীকে বসিয়ে না দিলে আইভীর অবস্থান হতো তৃতীয়। আর ভোটের সংখ্যায় বাজেয়াপ্ত হতো জামানত। তারপরও দলের বিরুদ্ধে গিয়ে যেসব নেতা আইভীর জন্য জীবন বাজী রেখে কাজ করেছেন, পরবর্তিতে বিভিন্ন কারণে তারা দূরে সরে গেছেন। বর্তমানেও কিছু ঠিকাদার ও সুবিধাভোগীরা ছাড়া আওয়ামী লীগের কোন ত্যাগী নেতা আইভীর পাশে নেই। কারণ হিসেবে দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন, আইভী বরাবরই চান না আওয়ামী লীগের কেউ সিটি কর্পোরেশন থেকে সুবিধা ভোগ করুক। একারণে কৌশলে সবাইকে বঞ্চিত করে এসেছেন দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে। নিজস্ব ঠিকাদার সিন্ডিকেট আর সুবিধাভোগী শ্রেণী ছাড়া কাউকেই তিনি সিটি কর্পোরেশনে দেখতে চাননি। কেননা দলীয় নেতা বা কর্মীরা থাকলে একক কতৃত্ব বা লুটপাট বজায় রাখা কঠিন হবে। এই ভয়েই মুলত সবাইকে নিয়ে কৌশল করে নির্বাচনে জিতে ধীরে ধীরে সবাইকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন। যাদের অন্যতম বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। ২০১১ সালে চরম উত্তেজনাকর মুহুর্তে সবাই যখন নিজ নিজ অবস্থানে ছিলেন। কাউকে আইভীর পাশে দেখা যায়নি। তখন আইভীর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন জিএম আরাফাত। নির্বাচনে জেতার পর সিটি মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই ছুড়ে ফেলেন আরাফাতকে। বন্দরের ৩৯টি সরকারী পুকুরের ভরাট কাজ আরাফাত টেন্ডারে পেলেও সেই টেন্ডার বাতিল করে তার প্রিয় একজন ঠিকাদারকে সেই কাজ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। মুহুর্তেই ভুলে যান আরাফাতের জীবন বাজী রাখা অবদান। দেওভোগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন নেতা মনোনয়ার হোসেন মনা ছিলেন আইভীকে মেয়র আইভী বানানোর অন্যতম কারিগর। তাকেও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন তিনি। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকেও একইভাবে তাচ্ছিল্য করেন বিভিন্ন সময়। একারণে বিগত সিটি নির্বাচনের পূর্বে ওসমান বলয়ে গিয়ে ভিড়েন আনোয়ার হোসেন। প্রথমে সিটি মেয়র পদে মনোনয়ন চাইলেও পরবর্তিতে পেয়ে যান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মতো বড় পদ। এরইমধ্যে মেয়র আইভী রাতের আধারে শহরের ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যান স্কুলের ভবন ভেঙ্গে দেন। যে স্কুলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। পরবর্তিতে আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার দয়াতেই মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন আনোয়ার’। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভের ঝড় বয়ে যায়। এদিকে সাবেক এমপি এস এম আকরামকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে আইভী অবস্থান তৈরী করলেও ১৫নং ওয়ার্ডে আকরামের ভাই মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমানকে কাউন্সিলর পদে পরাজিত করার নেপথ্যে কাজ করেন আইভী। আইভীর এই অকৃতজ্ঞতা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার করে এখনো। এমনটাই এই ওয়ার্ডেও নেতাদের। দলীয় নেতা-কর্মীরা আরও জানায়, আইভী একজন অকৃতজ্ঞ। অনেককেই তিনি ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দেন। এসব কারণে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা আইভী থেকে দূরে সরে গেছেন। যদিও বিগত নির্বাচনে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নৌক  প্রতিক দেয়ার পর যার যার অবস্থানে থেকে নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করলেও আইভীর পাশে ছিলো সেই সুবিধাভোগী আর বিএনপি-জামায়াত-বামদের কিছু প্রেতাত্মারা। সূত্র: লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *