Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজ বড়

০৫ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 68 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আর মাত্র দশদিন পরই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির দৃশ্যপটও পাল্টে যাচ্ছে। তবে রাজনীতির মাঠ নিয়ে চিন্তিত না হয়ে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ও হাতি প্রতীকের প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। বিগত দিনে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা মন্তব্য করে আসছেন তারাও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামছেন। অপরদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না তা স্পষ্ট করতে দল থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে তৈমূরের দাবী, দল থেকে তাকে বহিষ্কার করায় তিনি এখন জনগণের প্রার্থী। আওয়ামীলীগের লোকেরাও তাকে এখন ভোট দিবে। মূলত নির্বাচন নিয়ে দুই প্রার্থীকে নিয়ে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটছে। তবে অভিজ্ঞ মহল বলছে, যেহেতু এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাই নাসিক নির্বাচনে প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজ বড় ফ্যাক্টর। শুধু মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রেই নয়, কাউন্সিলর পদেও ক্লিন ইমেজধারীরাই নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতীকের চেয়ে মুখ্য হয়ে উঠেছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে এটি সামনে আসছে। সরকারবিরোধী সমালোচনার দায় এড়াতে নিজের রাজনীতি ও মেয়র হিসেবে করা উন্নয়নকাজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সবার সমর্থন চাইছেন তৈমুর আলম খন্দকার। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নারায়ণগঞ্জের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তির ভাবমূর্তিটাই নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ। আগের দুই সিটি নির্বাচনেও এটি দেখা গেছে। গত দুবারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রথম দফায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে যত ভোট পেয়েছিলেন, দ্বিতীয় বার দলীয় প্রতীকে তার চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন। এবারও সরকারি দলের প্রতীক নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি আছে। তাঁরা বলছেন, দলীয় প্রতীকের জন্য সরকারের সমালোচনার দায়ও নিতে হচ্ছে। গত দুই সিটি নির্বাচনের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছিলেন আইভী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। এরপর ২০১৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে আইভী পান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। যদিও ওই নির্বাচনে শামীম ওসমান দলীয় প্রার্থী হিসেবে আইভিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। আর আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত পান ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট। প্রথমবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ১ হাজার ৩৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয় পেলেও পরের বার দলীয় প্রতীক নিয়ে ৭৯ হাজার ৫৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন আইভী। তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, এবার দলীয় প্রতীক না হলে আইভী আরও এগিয়ে থাকতেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ভরাডুবি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও দলীয় প্রতীক নিয়ে জামানত হারিয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। তাই আইভীর প্রচারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিও তেমন চান না তাঁরা। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে, মসজিদ-মন্দিরের জায়গা দখল, সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ণমূলক কাজের নির্দিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া, টানা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় অহমীকা, দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ নানা কারণে ভোট যুদ্ধে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন সেলিনা হায়াত আইভী। আর সেই দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। পাশাপাশি দলীয় কোন তকমা না থাকায় আওয়ামীলীগের অনেক কর্মীও হাতি প্রতীকে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছেন। তাই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজ বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *