Home » প্রথম পাতা » বন্দরে নাসিম ওসমান স্বরণে যুব সংহতির দোয়া

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে অবিচল ছিলেন আইভী

২৯ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 113 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তফসিল ঘোষণা না হলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মেয়র পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতাও চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন। তবে মেয়র আইভী পন্থিরা বলছেন, নৌকার দক্ষ মাঝি হচ্ছেন বর্তমান সিটি মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীই। রাজনৈতিক নানান ঝড় তুফানে যেমন দক্ষ হাতে সামলেছেন এই নগর তেমনি অসাধারন দক্ষতায় আগলে রেখেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তার দক্ষতার প্রমাণ তিনি ইতোপূর্বে একাধিকবার দিয়েছেন। গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে ধানের শীষের প্রার্থীকে হারিয়েছেন। তারও আগেরবার প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানকেও বিপুল ভোটে হারান তিনি। সৎ, কর্মীবান্ধব, উন্নয়নের রূপকার হিসেবে নারায়ণগঞ্জের বাহিরে সারাদেশেও ব্যাপক পরিচিতিও রয়েছে তাঁর। সার্বিক বিবেচনায় এবারের নির্বাচনেও তিনি নৌকার মাঝি হবেন বলেই অনেকটাই নিশ্চিত নারায়ণগঞ্জবাসী। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, মেয়র আইভী ও তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত কর্মী। মেয়র আইভীর পিতা প্রয়াত পৌরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যখন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়া ছিল ভয়ের তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর জিমখানা মাঠে বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকে কারবালা হত্যাকা-ের সঙ্গে তুলনা করেন আলী আহাম্মদ চুনকা। তৎকালীন সামরিক সরকার এজন্য তাকে ব্যাপক নির্যাতন করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দীর্ঘদিন তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়। চুনকার ছেলে-মেয়েও তার দেখানো পথেই হেঁটেছেন। এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মিছিলটি করেন চুনকার ছোট ছেলে ও মেয়র আইভীর ছোট ভাই মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল। এই কারণে যুবলীগ নেতা উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। চুনকার বড় কন্যা গত ১৮ বছর যাবৎ এই শহরকে আগলে রেখেছেন। এক সময় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ শহর আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সারা দেশে স্বীকৃত। ব্যাপক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ইমেজও সমুন্নত রেখেছেন, বাড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। গোপালগঞ্জের পর নারায়ণগঞ্জ এখন আওয়ামী লীগের অন্যতম দুর্গ। সবকিছু বিবেচনায় চুনকা পরিবারের সদস্য আইভী আবারও মনোনয়ন পাবার একমাত্র যোগ্য বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাকে আবার মেয়র হিসেবে চান নগরবাসীও। বিভিন্ন সূত্র বলছে, বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তাই নাসিক নির্বাচনে ফলে মূল ফোকাস এখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দিকে। এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ করছেন একাধিক নেতা। তাদের মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতাও রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা। নৌকার মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ করছেন এমন একজন ব্যবসায়ী নেতারও নাম সামনে আসছে। তিনি হলেন এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা। এদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা ওসমান পরিবারের এক সদস্যের নামও আসছে এই তালিকায়। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান ২০১১ সালে সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বর্তমান মেয়র ডা. আইভীর কাছে বিপুল ভোটে হেরেছেন। তবে এবার তার স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপির সামনে আসছে। নৌকার মনোনয়নে তাকেও মেয়র পদে দেখতে চান শামীম ওসমানের অনুসারী নেতা-কর্মীরা। তবে এসব ছাপিয়ে সবার উপরে যে নামটি আলোচিত হচ্ছে তিনি হলেন, বারবারের নির্বাচিত সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাঁর বিকল্প হিসেবে কোন নেতার নাম নিতে নিতে চান না আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও নারায়ণগঞ্জবাসী। সূত্র বলছে, ২০০৩ সালে যখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় তখন চিকিৎসা পেশায় ডিগ্রি নেওয়া ডা. আইভী দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সমর্থনে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাদের দলীয় প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারান আইভী। প্রথমবারের মতো নারী পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতারা অনেকেই হামলা-মামলায় জর্জরিত ছিলেন। তাদের সকলকে আগলে রেখেছেন ডা. আইভী। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকা আইভী শেল্টার দিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীদের। এরপর এক-এগারো সরকারের সময় যখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বেগতিক অবস্থায় পড়েন তখনও তাদের পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়ান মেয়র আইভী। তার প্রতিদানও তিনি পেয়েছেন। ২০১১ সালে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান মেয়র নির্বাচনে দাঁড়ালেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীর সমর্থন ছিল আইভীর প্রতি। ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ও পান তিনি। নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন দেশের প্রথম নারী মেয়র। ২০১৬ সালে নৌকার মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান। মেয়র আইভী বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি দলকেও সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হিসেবে ক্লিন ইমেজের সুনাম রেখেছেন মেয়র আইভী। পরিকল্পিত নগরায়ন ও সবুজায়নের প্রমাণ হিসেবে শহরের বুকে নির্মাণ করেছেন নারী ও শিশুবান্ধব শেখ রাসেল পার্ক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় খাল, পুকুর উদ্ধার করে সৌন্দর্যবর্ধন করে নগরবাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন। একই সাথে গুম, খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন তিনি। একটি ব্যবসাবান্ধব নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ নগরীকে। এসব কৃতিত্ব দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা স্বপ্ন পূরণের সারথি মেয়র আইভী। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ নেতারা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মেয়র আইভী পরীক্ষিত নেত্রী। আসন্ন সিটি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার একমাত্র যোগ্য দাবিদার তিনি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *