আজ: বৃহস্পতিবার | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | দুপুর ২:৫০

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

প্রবাসীরা ঈদের ছন্দ মেলাতে পারছেন না

ডান্ডিবার্তা | ০৩ আগস্ট, ২০২০ | ১১:২২

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বাংলাদেশের চেয়ে আড়াইগুণ বড় মালয়েশিয়ার প্রত্যেকটি প্রদেশে পর্যটকদের কম-বেশি ভিড় লেগে থাকে সারাবছর। ভিড়টা সবচেয়ে বেশি হয় রাজধানী কুয়ালালামপুরে। কারণ শহরজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ, আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, সুদৃশ্য সবুজ পার্ক, সুউচ্চ মসজিদের মিনার, রাস্তার ধারে অসংখ্য সারি সারি রঙিন খাবারের দোকান। এছাড়া দেশটির সর্বত্র নির্মাণশিল্প, ইলেকট্রনিক্স ফ্যাক্টরি, রাবার শিল্প, পামফলের বাগানসহ অসংখ্য কল-কারখানা রয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের ধাক্কা অন্যান্য দেশের মতো মালয়েশিয়াতেও পড়েছে। মহামারি সংকট ও পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যস্ত সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এই ঈদের মধ্যেও তাদের মুখে হাসি নেই। চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা। করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। অনিশ্চিত সময়ে ঘুরে আসা চিরচেনা ঈদের আবহে ছন্দ মেলাতে পারছেন না তারা।কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর অন্যান্য দেশের মতো মালয়েশিয়াতেও লেগেছে চরম অর্থনৈতিক ধাক্কা। সে ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রবাসীকর্মীরা। মহামারি রোধে মার্চে মালয়শিয়াতে শুরু হয় মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (লকডাউন)। শুরুর কিছুদিন ঘরে বসে নিরাপদে থাকলেও দিন যত বাড়তে থাকে প্রবাসীরা পড়তে থাকেন অর্থ ও খাদ্য সংকটে।
এদিকে জনসংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রয়োজন হয় লাখ লাখ প্রবাসীকর্মীর। বেসরকারি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ কর্মীর প্রয়োজন হয় দেশটিতে। এর মধ্যে ২৫ লাখ কর্মীর বৈধ ওয়ার্ক-পারমিট থাকলেও বাকি প্রায় ৩০ লাখের কোনো বৈধ ওয়ার্ক-পারমিট থাকে না। দেশটিতে কর্মরত শ্রমিকদের বেশির ভাগ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ফিলিপিন, নেপাল, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা।
কারণ অভিবাসীকর্মীরা কেউ টাকা ব্যাংকে জমা রাখেন না। মাস শেষে দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠিয়ে দেন। টানা সাড়ে পাচঁ মাস কাজকর্ম না থাকায় বেতন বন্ধ, আয়ও বন্ধ। কিন্তু খরচ বন্ধ নেই। অন্য কোথাও কাজ খোঁজার উপায়ও নেই, কারণ সবদিকে একই অবস্থা। কর্মঘণ্টা কমিয়ে কাজ অথবা কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রমও চলছে। দিন যত যাচ্ছে ততই কঠিন হচ্ছে পরিস্থিতি।
চলমান এ পরিস্থিতি অক্টোবরের আগে ঠিক হচ্ছে না— এমনটিই ধারণা সবার। কিন্তু অক্টোবর পর্যন্ত টিকে থাকাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবাসীদের জন্য। অন্যদিকে, দেশে থাকা পরিবার-পরিজন পথ চেয়ে বসে আছে, কবে টাকা পাঠানো হবে। কারণ তাদের পরিবারগুলো মাস শেষে প্রবাসের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। সবকিছু মিলে, মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসীদের চারপাশ এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত।
এই যখন পরিস্থিতি তখন বেশিরভাগ প্রবাসীকে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে থাকতে হয়। প্রথম দুই সপ্তাহ মোটামুটি চালিয়ে নিলেও পরের দিনগুলোতে সমস্যা ধীরে ধীরে প্রকট হয়। মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার ৩ মে শেষ হওয়ার পর ৪ মে শুরু হয় কন্ডিশনাল মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (সিএমসিও), যা বলবৎ থাকে ৯ জুন পর্যন্ত।
এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল কিছুটা শিথিল করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ থাকে। সর্বশেষ ১০ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ঘোষণা করা হয় রিকোভারি মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (আরএমসিও)। এর মঝে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভিড়-জনসমাগম এড়িয়ে চলার বিধিনিষেধে কড়াকড়ি থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান খুললেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। বাতিল করা হয় ওভার টাইমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয় নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। যা দিয়ে নিজের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশে পরিবার-পরিজনের খরচ মেটানোর দুশ্চিন্তা দিনদিন বাড়ছে। এছাড়া মালয়েশিয়াতে অসংখ্য বাংলাদেশিকর্মী রয়েছেন, যারা নিজ নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ না পেয়ে অন্যত্র কাজ করেন। কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে এই শ্রেণির প্রবাসীরা। কারণ তাদের বেশিরভাগই বর্তমানে কর্মহীন। নিজ নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ না করায় পাচ্ছেন না কোনো সাহায্য-সহযোগিতা।
বৈঠকে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা অনেক পরিশ্রমী, দক্ষ ও আন্তরিক। তারা মালয়েশিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশিকর্মীদের সুরক্ষা প্রদান করা হবে। নিয়োগকর্তারা যাতে তাদের সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ, যথাযথ আবাসন এবং নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করে- এসব বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করছে।

এমএআর/পিআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *