News

প্রবাসীর লাশ উদ্ধারের একমাস পর হত্যা মামলা

ডান্ডিবার্তা | 13 March, 2020 | 11:28 am

ফতুল্লা প্রতিনিধি
ফতুল্লায় নিজ বাসা থেকে আফ্রিকান প্রবাসীর লাশ উদ্ধারের এক মাস পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে নিহতের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারী ফতুল্লার উত্তর ভূইগড় এলাকার নিজ বাসা থেকে ওই প্রবাসী যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তাকে শ^াসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমানিত হলে ১১ মার্চ রাতে নিহতের মা অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। নিহতের নাম জসিম উদ্দিন (৩৮)। সে নোয়াখালীর চাটখিল থানাধীন নোয়াখোলা কাইতার বাড়ি এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে। জানা গেছে, জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন আফ্রিকা প্রবাসে ছিল। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে উত্তর ভূইগড় এলাকায় বাড়ি নির্মান করে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতো। পারিবারিক বিষয়ে স্ত্রী আয়েশা আক্তার নিপুর সাথে বনিবনা না হওয়ায় উত্তর ভূইগড়ের বাড়িতে একাকি জীবন যাপন করছিল জসিম উদ্দিন। তার স্ত্রী ও এক সন্তান গ্রামেই বসাবাস করেন। মামলার এজাহারে নিহত জসিম উদ্দিনের মা আলেয়া বেগম বলেন, আমার মেঝ ছেলে জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন দক্ষিন আফ্রিকায় থাকার পর ২০১৬ সালে দেশে আসে। অতঃপর ফতুল্লার উত্তর ভূইগড়ে বাড়ি নির্মান করে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার নিপুর সাথে মনমালিন্য সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ২ বছর ধরে জসিম দেশের বাড়িতে আসা যাওয়া বন্ধ করে। এরপর সে একাকি বর্তমান ঠিকানায় থাকত। গত ২ ফেব্রুয়ারী বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জসিমের সাথে তার স্ত্রী ও সন্তানের সর্বশেষ কথাবার্তা হয়। এর কিছুদিন পর ১১ ফেব্রুয়ারী সকালে জসিমের বন্ধু মোঃ মামুন সংবাদ দেয় যে, আমার ছেলে জসিম উদ্দিন মারা গেছেন। ছেলের ঘরেই তার লাশ পঁচে ফুলে রয়েছে। গ্রামের বাড়ি থেকে তাৎক্ষনিক আমি ও আত্মীয়-স্বজন ছেলের বাসায় আসি। ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়। প্রায় এক মাস পর গত ১০ মার্চ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থানায় আসে। নারায়ণগঞ্জ ১০০ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জমান ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলেন, তাকে শ^াসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন বলেন, ‘গত ১১ ফেব্রুয়ারী উত্তর ভূইগড় এলাকার নিজ বাসা থেকে জসিম উদ্দিনের পঁচন ধরা লাশ উদ্ধার করা হয়। সে একাই ওই বাড়িতে বসবাস করতো বলে জানতে পেরেছি। তখন লাশে পঁচন ধরায় হত্যাকান্ড কিভাবে হয়েছে, সেটা বুঝা যায়নি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করি। গত ১০ মার্চ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থানায় আসে। রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, অজ্ঞাতনামা কে বা কাহারা তাকে শ^াসরোধে হত্যা করেছে। এরপর নিহতের মা গত বুধবার রাতে থানায় এসে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ’ ওসি আসলাম হোসেন আরো বলেন, ‘আমরা তদন্তে নেমেছি। এই হত্যার পেছনে কে বা কারা জড়িত আছে সেই রহস্য উদঘাটন জড়িতদের গ্রেফতার করতে আমাদের একাধিক টিম গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। দ্রুতই এর রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

[social_share_button themes='theme1']

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *