আজ: শনিবার | ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি | বিকাল ৩:২২

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

প্রবাসী জামালকে স্ত্রী-সন্তানরা হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে

ডান্ডিবার্তা | ২৮ আগস্ট, ২০২০ | ১২:৩২

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রাতের খাবারে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে দেয়া হয়। কিছু ক্ষণের মধ্যেই চলে যায় গভীর ঘুমে। এরপর সময় সুযোগ বুঝে দু’ পা চেপে ধরে ছেলে, আর দু’ হাত ধরে মেয়ে। হাতুড়ী দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে স্ত্রী। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে টেনে হেচড়ে লাশ রাখা হয় বাথরুমে। এভাবেই স্ত্রী-সন্তানদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হন প্রবাস ফেরত জামাল মিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলম এবং আবতাবুজ্জামানের পৃথক আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করে আসামীরা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত জামাল মিয়ার স্ত্রী শারমীন আক্তার ডলি (৪০), মেয়ে সামিয়া আক্তার (২০) ও ছেলে তানভীন হাসান ডালিম (১৮)। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখে থাকার আশায় দীর্ঘ ৩৫ পূর্বে সৌদি আরবে যান দাপাইদ্রাকপুর এলাকার মো. আলীর ছেলে জামাল মিয়া। দের বছর পূর্বে দেশে ফিরেন। ২৫ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটায় নিজ বাড়ির বাথরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া যায় প্রবাসী জামাল মিয়াকে। পরিকল্পনা মত লাশ নেওয়া হয়নি হাসপাতালে, তরিগরি করে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। ব্যাপারটি প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে খবর দেয় পুলিশে। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ও স্ত্রী-সন্তানদের আটক করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এস এম সফিকুল ইসলাম জানান, ‘নিহতের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথম দিকে, একেক জন এককভাবে বিভ্রান্তমূলক তথ্য দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। আজ আসামীদের আদালতে উঠানো হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দী দিয়েছে নিহতের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে।’ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, জামাল মিয়ার সঙ্গে এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে স্ত্রী সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এরই জেরে মঙ্গলবার গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী শারমীন আক্তারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা জামাল হোসেনকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পর মরদেহটি বাথরুমে রেখে দেন। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *