আজ: সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | রাত ১০:২০

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক কামাল লোহানী আর নেই

ডান্ডিবার্তা | ২০ জুন, ২০২০ | ১২:৪৬

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট দেশের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক কামাল লোহানী নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টার সময় মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কামাল লোহানীর মেয়ে বন্যা লোহানী।
বন্যা লোহানী বলেন, ‘আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাঁর ভেন্টিলেটর খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি মারা গেছেন। গতকাল আমরা তাঁকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করি। এর আগে তিনি রাজধানীর পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।’বন্যা লোহানী বলেন, ‘করোনা ছাড়াও বাবার ফুসফুস ও কিডনির জটিলতা রয়েছে। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। লকডাউনের ভেতরে বাবার চিকিৎসা করাতে বেগ পেতে হয়েছে আমাদের। ফলে বাসায় রেখে ফোনে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বলে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।’
কর্মজীবনে কামাল লোহানী দৈনিক মিল্লাত পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর আজাদ, সংবাদ, পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুবার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি হিসেবে এবং ছায়ানটের সম্পাদক হিসেবে চার বছর করে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কামাল লোহানী উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটেরও উপদেষ্টা।কামাল লোহানী নামে পরিচিত হলেও তাঁর পারিবারিক নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী। তাঁর জন্ম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সনতলা গ্রামে। বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী। মা রোকেয়া খান লোহানী। কামাল লোহানী প্রথমে কলকাতার শিশু বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা শুরু করেন। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে পাবনা চলে যান। ভর্তি হন পাবনা জেলা স্কুলে। ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। এই কলেজ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। আর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *